Home/Kolkata/মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর পুলিশের বড় পদক্ষেপ, গ্রেপ্তার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরের স্ত্রী
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর পুলিশের বড় পদক্ষেপ, গ্রেপ্তার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরের স্ত্রী

ফলতা থানায় হামলা এবং জেলবন্দি জাহাঙ্গির খানকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এবার গ্রেপ্তার হলেন ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পরই তৎপর হয় পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর বিষ্ণুপুরের জুলপিয়া এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রশাসনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর হামলার ঘটনায় কোনওভাবেই আপস করা হবে না।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 20, 2026
5 min read
0
Share:
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর পুলিশের বড় পদক্ষেপ, গ্রেপ্তার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরের স্ত্রী

ফলতা থানাকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ আগে ঘটে যাওয়া উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার জেরে এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী। প্রশাসনের অভিযোগ, জেলবন্দি জাহাঙ্গিরকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে সংগঠিত বিক্ষোভ এবং থানায় হামলার পরিকল্পনার অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপন করেছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুরের জুলপিয়া এলাকায় এক পরিচিতের বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন জাহাঙ্গিরের স্ত্রী। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ মে। ওই দিন জাহাঙ্গির খানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ফলতার শতল কলসা এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রথমে স্থানীয় স্তরে প্রতিবাদ হলেও পরে তা আরও বড় আকার নেয়। অভিযোগ, জাহাঙ্গিরের অনুগামীরা দলবদ্ধভাবে ফলতা থানার দিকে এগোতে শুরু করেন।

পুলিশের দাবি, তাদের কাছে আগাম খবর ছিল যে, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ থানায় হামলা চালিয়ে জাহাঙ্গিরকে ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত এলাকায় মোতায়েন করা হয়। পরে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে বাহিনী সক্রিয় পদক্ষেপ করে।

পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘাতের সময় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জও করেন। সেই সময় অনেক বিক্ষোভকারী ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যান। বিশৃঙ্খলার মধ্যে কয়েকজনকে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিতেও দেখা যায়। ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পরে প্রকাশ্যে আসে এবং তা নিয়ে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ দাবি করে, গোটা বিক্ষোভ এবং থানার দিকে মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন জাহাঙ্গিরের স্ত্রী। তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ হাতে পাওয়ার পরই তাঁর বিরুদ্ধে পৃথকভাবে এফআইআর দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ।

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের অবস্থান আরও কঠোর হয়ে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজে যাঁদের দেখা গিয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর আক্রমণের সাহস না দেখাতে পারে।

প্রশাসনের তরফে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেবল ফৌজদারি মামলা নয়, আর্থিক ক্ষেত্রেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই তদন্তের গতি আরও বাড়ে। জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক সংক্রান্ত ধারাতেও নতুন মামলা যুক্ত করা হয়। প্রশাসনের দাবি, থানায় হামলার ঘটনায় শুধুমাত্র ভাঙচুর বা বিক্ষোভ নয়, আরও গুরুতর অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের উপাদান রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নজরে রাখা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, গোটা ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং এর সঙ্গে আরও কিছু ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, জাহাঙ্গির খানের গ্রেপ্তারির পর থেকেই ফলতা এলাকায় উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছিল। তবে সেই উত্তেজনা থানায় হামলার পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় প্রশাসন বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে কঠোর বার্তা দিতে চাইছে সরকার।

অন্যদিকে, জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর গ্রেপ্তারের পর এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁর আইনজীবী বা পরিবারের তরফে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তকারী সংস্থা মনে করছে, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পরিকল্পনা, অংশগ্রহণকারীদের ভূমিকা এবং হামলার নেপথ্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ফলতা থানায় হামলার ঘটনাকে ঘিরে তদন্ত এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর গ্রেপ্তারির ফলে তদন্তে নতুন দিশা মিলবে বলে আশা করছে পুলিশ। একইসঙ্গে প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর হামলার ঘটনায় কোনওরকম শিথিলতা দেখানো হবে না এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনের সমস্ত পথই প্রয়োগ করা হবে।

Tags:Kolkata
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10