Home/International/মক্কার আকাশেও হামলার শঙ্কা, জেদ্দা-তইফে সতর্কতা! হাউথি সংঘাতে চাপে সৌদি
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

মক্কার আকাশেও হামলার শঙ্কা, জেদ্দা-তইফে সতর্কতা! হাউথি সংঘাতে চাপে সৌদি

হাউথিদের সঙ্গে সংঘাত ঘিরে ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে সৌদি আরবের পরিস্থিতি। ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় জেদ্দা, তইফের পাশাপাশি পবিত্র মক্কা শহরেও জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্সের তরফে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা জানানো হলেও মক্কার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহরে এমন সতর্কবার্তা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব ঘিরে হাউথিদের তৎপরতাও সৌদির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 16, 2026
•5 min read•
10
Share:
মক্কার আকাশেও হামলার শঙ্কা, জেদ্দা-তইফে সতর্কতা! হাউথি সংঘাতে চাপে সৌদি

মক্কা, জেদ্দা ও তইফে জরুরি সতর্কবার্তা

ইরান-সমর্থিত হাউথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাতের জেরে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক হামলার আশঙ্কার মধ্যে এবার পবিত্র মক্কা শহরকেও সতর্কতার আওতায় আনল রিয়াধ প্রশাসন।

সৌদি আরবের জেনারেল ডিরেক্টরেট অফ সিভিল ডিফেন্সের তরফে দুপুর ২টো ৪৮ মিনিট নাগাদ তইফ, জেদ্দা এবং মক্কার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন জানানো হয়।

মক্কাকে এই সতর্কতার আওতায় আনার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান পবিত্র তীর্থস্থান এই শহরেই অবস্থিত। ফলে শহরের আকাশসীমায় সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়া সাধারণ নিরাপত্তা উদ্বেগের তুলনায় অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

সৌদি কর্তৃপক্ষ অবশ্য কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ে নতুন বার্তা দেয়। সিভিল ডিফেন্সের তরফে জানানো হয়, মক্কার তাৎক্ষণিক বিপদ কেটে গিয়েছে। একই সঙ্গে মানুষকে নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলা এবং ঘটনাস্থলে ভিড় না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা কেন?

সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে হাউথিদের সঙ্গে সংঘাত বেড়েছে। একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর সামনে আসার পরই বিভিন্ন শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

হাউথিদের হাতে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন-সহ বিভিন্ন ধরনের দূরপাল্লার অস্ত্র রয়েছে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের সময় থেকেই তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূল বিশেষ নজরে রয়েছে। জেদ্দা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও বাণিজ্যকেন্দ্র। তইফও সামরিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই শহরের সঙ্গে মক্কা একই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হওয়ায় হামলার আশঙ্কায় একসঙ্গে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

তবে সতর্কবার্তা জারি করা মানেই মক্কায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে—এমনটা নয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মূলত সম্ভাব্য বিপদের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখার জন্যই দেওয়া হয়েছিল।

মক্কার সতর্কতা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার

সৌদি সিভিল ডিফেন্সের প্রাথমিক সতর্কবার্তার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে মক্কার মতো পবিত্র শহরের নাম সতর্কবার্তায় থাকায় বিষয়টি দ্রুত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজরে আসে।

তবে প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ে নতুন বার্তা প্রকাশ করে সৌদি সিভিল ডিফেন্স। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মক্কার জন্য তৈরি হওয়া তাৎক্ষণিক বিপদ আর নেই।

নিরাপত্তার স্বার্থে মানুষকে নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়। পাশাপাশি কোথাও ভিড় না করার এবং হামলা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও দৃশ্যের ভিডিও করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করার কথাও জানানো হয়।

এর ফলে মক্কায় দীর্ঘস্থায়ী হামলা বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতা জারি হওয়ার ঘটনাই সৌদি নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর চাপের বিষয়টি সামনে এনেছে।

লোহিত সাগরেও বাড়ছে হাউথি তৎপরতা

শুধু সৌদি শহর নয়, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালী ঘিরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাউথিরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর মোখা এবং বাব আল-মান্দেবের কাছে একটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। এর ফলে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরবের অভিযোগ, তাদের পণ্যবাহী জাহাজগুলিকে বেছে বেছে হামলার লক্ষ্য করা হচ্ছে। অন্যদিকে একই জলপথ দিয়ে মার্কিন জাহাজগুলিকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে রিয়াধের অভিযোগ।

যদি এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে শুধু সৌদি আরব নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। কারণ এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পণ্য পরিবহনে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দেব গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ।

সৌদি সামরিক ঘাঁটিতেও হামলার অভিযোগ

সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, হাউথিদের তৎপরতা শুধু সমুদ্রপথে সীমাবদ্ধ নেই। সৌদি বিমানঘাঁটি এবং বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে। কোনও ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন শহরাঞ্চলের দিকে এগিয়ে এলে দ্রুত সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়াই প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

মক্কার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। শহরটির ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে সেখানে কোনও সামরিক উত্তেজনা বা হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে তার আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও অত্যন্ত বড় হতে পারে।

তবে মক্কায় ঠিক কী ধরনের হুমকি শনাক্ত হয়েছিল এবং সেটি কোনও নির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে পাকিস্তানকে প্রশ্ন

হাউথি সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে থাকা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি সামনে এনে প্রশ্ন উঠছে, সৌদির উপর হামলার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের ভূমিকা কী হবে।

সৌদি আরবের প্রত্যাশা ছিল, ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলি নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তাদের পাশে থাকবে। কিন্তু হাউথি হামলার পর পাকিস্তানের বক্তব্যকে ঘিরে সেই প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ইসলামাবাদের বক্তব্য, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির অর্থ এই নয় যে হাউথিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়বে। অর্থাৎ কোনও হামলার ঘটনা ঘটলেই পাকিস্তান সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ করবে—চুক্তির ব্যাখ্যা এমন নয় বলেই ইসলামাবাদের অবস্থান।

এই অবস্থান সৌদি-পাকিস্তান সম্পর্কের কূটনৈতিক সমীকরণকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য নিয়েই মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ইজরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রশ্ন

সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে ইজরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতা। হাউথিদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ক্ষেত্রে ইজরায়েলের প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সক্ষমতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

তবে এই সহযোগিতা কতটা কার্যকরভাবে এবং কোন পর্যায়ে হয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য সীমিত। ফলে সৌদি আরব বাস্তবে কী ধরনের সহায়তা চাইছে বা পেয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

তবে আঞ্চলিক সংঘাত যত বাড়ছে, ততই সৌদি আরবকে একাধিক দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সমীকরণ নতুন করে বিবেচনা করতে হচ্ছে। একদিকে পাকিস্তানের মতো ঐতিহ্যগত মিত্র, অন্যদিকে ইজরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা—সবকিছুর মধ্যেই নতুন ভারসাম্য খুঁজতে হচ্ছে রিয়াধকে।

মক্কার নিরাপত্তা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

মক্কা শুধু সৌদি আরবের একটি শহর নয়, ইসলাম ধর্মের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মুসলিম হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য এখানে আসেন।

তাই শহরের নিরাপত্তা নিয়ে সামান্য আশঙ্কাও আন্তর্জাতিক স্তরে বড় উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। কোনও সামরিক সংঘাতের প্রভাব যাতে মক্কার ধর্মীয় স্থাপনা বা তীর্থযাত্রীদের উপর না পড়ে, সেটিই সৌদি প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই কারণেই সম্ভাব্য আকাশ হামলার আশঙ্কা দেখা দিলে আগেভাগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দ্রুত সতর্কবার্তা দিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় থাকতে বলা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফের আশ্বস্ত করা হয়।

সামনে কী হতে পারে?

মক্কার জন্য জারি হওয়া সতর্কতা পরে প্রত্যাহার হলেও সৌদি আরবের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও চাপের মধ্যে রয়েছে। হাউথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা, লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথে অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে রিয়াধকে একাধিক ফ্রন্টে নজর রাখতে হচ্ছে।

পরিস্থিতি আরও বাড়লে সৌদি আরবকে পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির পাশাপাশি বন্দর, বিমানঘাঁটি এবং বাণিজ্যিক পরিকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করতে হতে পারে।

অন্যদিকে, লোহিত সাগরের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেদিকেও নজর থাকবে। সমুদ্রপথে হামলা বাড়লে জাহাজ চলাচলের খরচ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়তে পারে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মক্কার তাৎক্ষণিক বিপদ কেটে গেলেও সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ পুরোপুরি শেষ হয়নি। হাউথিদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং রিয়াধের পালটা প্রতিক্রিয়ার উপরই আগামী দিনের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10