মেট্রো রেল প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর সংযোগকারী অরেঞ্জ লাইনের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। সেই কাজের অংশ হিসেবেই চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারে ভায়াডাক্ট বসানোর জন্য যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
প্রথম ধাপে শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ফ্লাইওভার বন্ধ করার পরিকল্পনা থাকলেও যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় তা কার্যকর হয় রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা এবং কাজের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ফ্লাইওভার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
পরিবহন দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, ফ্লাইওভারটি ২৯ জুন সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ৩২৫ ও ৩২৬ নম্বর পিলারের সংযোগস্থলে ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ চলবে।
যানবাহনের চাপ সামলাতে পুলিশ ইতিমধ্যেই বিকল্প রুট নির্ধারণ করেছে। সল্টলেক বা নিউটাউনগামী যানবাহনগুলিকে বেলেঘাটা মেন রোড, ইএম বাইপাস এবং ব্রডওয়ের মাধ্যমে ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছাতে বলা হয়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে একাধিক মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে আরও জানা গেছে, এটি শুধু প্রথম ধাপ। দ্বিতীয় ধাপে আবারও ফ্লাইওভার বন্ধ থাকবে ৩ জুলাই শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ৬ জুলাই সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত। সেই সময় ৩২৬ ও ৩২৭ নম্বর পিলারের সংযোগস্থলে একই ধরনের ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ করা হবে।
মেট্রো প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, চিংড়িঘাটা এলাকার এই অংশটি দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে জটিল কাজের অংশ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। প্রায় ৩৬৬ মিটার দীর্ঘ এই অংশের কাজ অনেক দিন ধরে আটকে ছিল। নতুন করে কাজ শুরু হওয়ার পর এখন দ্রুত গতিতে তা শেষ করার চেষ্টা চলছে।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, এই কাজের জন্য ফ্লাইওভারের উপর বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভায়াডাক্ট বসানোর সময় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ না করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকতে পারে, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
যাত্রীদের একাংশ এই সিদ্ধান্তে অসুবিধার মুখে পড়লেও মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্প চালু হলে সল্টলেক ও নিউটাউনের যাত্রীদের যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে যাবে।
ইতিমধ্যেই নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত অংশে মেট্রো পরিষেবা চালু রয়েছে। পরবর্তী ধাপে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা শহরের আইটি হাবের সঙ্গে যোগাযোগ আরও দ্রুত করবে।
মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশা, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে দুর্গাপুজো বা দীপাবলির আগেই এই রুটে সম্পূর্ণ পরিষেবা চালু করা সম্ভব হতে পারে।
ফলে এই সাময়িক যানবাহন বিভ্রাটকে ভবিষ্যতের বৃহত্তর উন্নয়নের একটি অংশ হিসেবে দেখছে প্রশাসন। তবে আপাতত যাত্রীদের ভোগান্তি কিছুটা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভার বন্ধ থাকায় কলকাতার পূর্বাঞ্চলের যান চলাচলে বড় পরিবর্তন এসেছে, যা আগামী কয়েকদিন শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করবে।



