মেসির ভারত সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মোড়। কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া অন্তর্বর্তী সুরক্ষা প্রত্যাহারের দাবিতে এবার ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হলেন উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। তাঁর আইনজীবী মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে আবেদন দায়ের করেছেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে।
মেসির ভারত সফর ঘিরে অভিযোগের তদন্তে বারবার পুলিশের নোটিস পেয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তদন্তকারীরা একাধিকবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। এরপরই সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কায় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অরূপ।
সেই সময় কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ তাঁকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেয়। আদালত জানিয়ে দেয়, আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারির মতো কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে এই সুরক্ষার সঙ্গে বেশ কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। আদালতের অনুমতি ছাড়া রাজ্যের বাইরে যেতে পারবেন না তিনি। পাশাপাশি, তাঁর পাসপোর্টও নিম্ন আদালতে জমা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
যদিও আদালতের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন মামলার অন্যতম আবেদনকারী শতদ্রু দত্ত। তাঁর দাবি, আদালতের দেওয়া সুরক্ষা পাওয়ার পরেও অরূপ বিশ্বাস তদন্তে সহযোগিতা করেননি। নির্ধারিত দিনে হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রশ্ন তুলছে তাঁর ভূমিকা নিয়ে। সেই কারণেই সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করা হয়েছে।
শতদ্রু দত্ত আগেই জানিয়েছিলেন, যদি সিঙ্গল বেঞ্চের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন না আসে, তবে তিনি উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হবেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ীই এবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, তদন্ত প্রক্রিয়া যাতে নিরপেক্ষভাবে এগোয়, তার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির সক্রিয় সহযোগিতা জরুরি। আদালতের দেওয়া রক্ষাকবচকে তদন্তে অনুপস্থিতির ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, অরূপ বিশ্বাসের সাম্প্রতিক অনুপস্থিতি ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আদালতের সুরক্ষা থাকলেও তিনি কেন তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক এবং আইনি মহলে। তিনি কোথায় রয়েছেন, তদন্তকারীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বর্তমান অবস্থা কী, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি।
এই পরিস্থিতিতে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও কৌতূহল বাড়ছে। আদালতের দেওয়া সুরক্ষা বলবৎ থাকলেও তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তকারী সংস্থা নতুন কোনও আইনি পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মেসি-কাণ্ড ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। একদিকে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, অন্যদিকে তাঁর বারবার হাজিরা এড়ানো— গোটা বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, তদন্তকে পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ করতে সব তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন। অন্যদিকে, অরূপ শিবিরের তরফে এখনও পর্যন্ত ডিভিশন বেঞ্চে করা নতুন আবেদনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
আগামী সপ্তাহে ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই মামলার দিকে নজর এখন রাজনৈতিক মহল, প্রশাসন এবং আইনজীবী মহলেরও। আদালত সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া সুরক্ষা বহাল রাখে নাকি নতুন কোনও নির্দেশ দেয়, তার উপরই নির্ভর করবে তদন্তের পরবর্তী গতিপথ। একইসঙ্গে, অরূপ বিশ্বাসকে তদন্তে সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়ে আদালত আরও কঠোর অবস্থান নেয় কি না, সেটাও হয়ে উঠতে পারে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।



