Home/International/মাঝরাতে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, তারপর জাহাজডুবি! ইন্দোনেশিয়ায় ৬ মৃত, নিখোঁজ ১৩০
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

মাঝরাতে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, তারপর জাহাজডুবি! ইন্দোনেশিয়ায় ৬ মৃত, নিখোঁজ ১৩০

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ জাহাজ দুর্ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ। পূর্ব জাভা থেকে দক্ষিণ কালিমান্তানের দিকে যাওয়ার পথে একটি যাত্রীবাহী জাহাজ মাঝসমুদ্রে উলটে যায় বলে খবর। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬ জনের মৃত্যুর কথা জানা গিয়েছে। প্রায় ১৩০ জন যাত্রীর কোনও সন্ধান মেলেনি। জাহাজে যাত্রী ও কর্মী মিলিয়ে ২৪৩ জন ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। অভিযানে জলযানের পাশাপাশি হেলিকপ্টারও নামানো হয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 14, 2026
•5 min read•
13
Share:
মাঝরাতে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, তারপর জাহাজডুবি! ইন্দোনেশিয়ায় ৬ মৃত, নিখোঁজ ১৩০

মাঝরাতে আচমকাই বন্ধ যোগাযোগ

শনিবার পূর্ব জাভা থেকে দক্ষিণ কালিমান্তানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল জাহাজটি। গন্তব্য ছিল বোর্নিও দ্বীপের দক্ষিণ কালিমান্তান অঞ্চল। যাত্রাপথে জাহাজটিতে ছিলেন ২১৩ জন যাত্রী এবং ৩০ জন কর্মী।

সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। কিন্তু রবিবার গভীর রাতে পরিস্থিতি আচমকা বদলে যায়। রাত প্রায় ২টো নাগাদ জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার পরই উদ্বেগ বাড়তে থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু করে। পরে জানা যায়, বানজারমাসিন শহর থেকে প্রায় ১৪৮ কিলোমিটার দূরে শেষবার জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত হয়েছিল।

এরপরই শুরু হয় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান।

২৪৩ জন ছিলেন জাহাজে

দুর্ঘটনার সময় জাহাজটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ ছিলেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মোট ২১৩ জন যাত্রী এবং ৩০ জন ক্রু সদস্য নিয়ে জাহাজটি যাত্রা করেছিল।

অর্থাৎ দুর্ঘটনার সময় জাহাজে মোট ২৪৩ জন ছিলেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে এখনও প্রায় ১৩০ জন নিখোঁজ বলে খবর। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ধারকারী দল সমুদ্রে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। দুর্ঘটনার পর যারা জলে পড়ে গিয়েছেন, তাঁদের সন্ধানে একাধিক জলযান ব্যবহার করা হচ্ছে।

উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই নিখোঁজদের পরিবারের উদ্বেগ বাড়ছে।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—কী কারণে মাঝসমুদ্রে জাহাজটি উলটে গেল?

এই মুহূর্তে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ সরকারি ভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে খারাপ আবহাওয়াকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার এই অঞ্চলে সমুদ্রপথে চলাচলের সময় আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। প্রবল ঢেউ বা ঝড়ের কারণে জাহাজের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

তবে আবহাওয়াই দুর্ঘটনার একমাত্র কারণ ছিল কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

জাহাজটির যান্ত্রিক অবস্থার কোনও সমস্যা ছিল কি না, অতিরিক্ত যাত্রী বা পণ্য বহন করা হয়েছিল কি না কিংবা দুর্ঘটনার আগে জাহাজের গতিপথে কোনও পরিবর্তন হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তে খতিয়ে দেখা হতে পারে।

বানজারমাসিন থেকে দূরে সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান

জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর উদ্ধারকারী দল দ্রুত তৎপর হয়। বানজারমাসিনের উদ্ধারকারী দলের বক্তব্য অনুযায়ী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পরে দুর্ঘটনার খবর তাঁদের কাছে পৌঁছয়।

এরপরই সমুদ্রপথে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। একাধিক জলযানকে কাজে লাগানো হয়েছে। সমুদ্রে নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

শেষ অবস্থানটি বানজারমাসিন থেকে প্রায় ১৪৮ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় উদ্ধারকারী দলকে যথেষ্ট বড় একটি সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালাতে হচ্ছে।

এর ফলে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টারও

শুধু জলযান নয়, উদ্ধার অভিযানে আকাশপথের সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলির খবর অনুযায়ী, দুটি হেলিকপ্টারকে উদ্ধার অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে।

সমুদ্রের উপর থেকে নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান করা এবং দুর্ঘটনাস্থল চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

কিন্তু এখানেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে খারাপ আবহাওয়া। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে হেলিকপ্টারের অভিযান বারবার ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

ফলে উদ্ধারকারী দলকে একদিকে সমুদ্রের উত্তাল পরিস্থিতি, অন্যদিকে আকাশপথে সীমিত দৃশ্যমানতার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।

পরিবহনমন্ত্রী প্রকাশ্যে আনলেন দুর্ঘটনার খবর

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী ডুডি পুরওয়াগান্ধি জাহাজটির দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আনেন বলে জানা গিয়েছে।

সরকারি স্তরে খবর প্রকাশ্যে আসার পরই দুর্ঘটনার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। বিপুল সংখ্যক যাত্রী নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার অভিযানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণ এবং জাহাজের শেষ গতিবিধি সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি প্রশাসনিক তদন্তও শুরু হতে পারে।

নিখোঁজদের খোঁজে বাড়ছে উৎকণ্ঠা

জাহাজে থাকা প্রায় ২৪৩ জনের মধ্যে এখনও বহু মানুষের কোনও সন্ধান নেই। প্রায় ১৩০ জন নিখোঁজ থাকায় তাঁদের পরিবারের মধ্যে উৎকণ্ঠা চরমে পৌঁছেছে।

সমুদ্রে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিখোঁজদের দ্রুত খুঁজে বের করতে পারলে তাঁদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনাও বাড়ে। তাই উদ্ধারকারী দল যত দ্রুত সম্ভব দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে।

জলে ভেসে থাকা কোনও ব্যক্তি বা ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিলছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা

এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা এত বেশি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার আগে মোট মৃত, নিখোঁজ এবং জীবিত উদ্ধারের সংখ্যা সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

উদ্ধারকারী দল সমুদ্রে তল্লাশি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার জায়গায় পাওয়া ধ্বংসাবশেষ এবং অন্যান্য প্রমাণও সংগ্রহ করতে পারে। সেগুলি থেকে জাহাজটি কীভাবে ডুবে গেল, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রপথে ফের বড় দুর্ঘটনা

দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত দেশ ইন্দোনেশিয়ায় নৌপথ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে যাত্রীবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন ওঠে।

এই দুর্ঘটনাও সমুদ্রপথে যাত্রী পরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে আলোচনায় আনতে পারে। বিশেষ করে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কী ধরনের সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া সত্ত্বেও জাহাজটি যাত্রা করেছিল কি না, জাহাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য ক্রুরা প্রস্তুত ছিলেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও ভবিষ্যতে সামনে আসতে পারে।

এখন মূল লক্ষ্য নিখোঁজদের উদ্ধার

এই মুহূর্তে প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল নিখোঁজ যাত্রীদের দ্রুত খুঁজে বের করা। সমুদ্রের প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং হেলিকপ্টার অভিযানে বাধা থাকলেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

দুটি হেলিকপ্টার এবং একাধিক জলযানকে কাজে লাগানো হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি আরও বিস্তৃত করা হতে পারে।

একইসঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ জানতেও তদন্ত শুরু হবে। জাহাজের যাত্রাপথ, আবহাওয়া, যান্ত্রিক পরিস্থিতি এবং শেষবার যোগাযোগের সময়কার তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে।

সব মিলিয়ে, ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা থেকে দক্ষিণ কালিমান্তানের পথে ভয়াবহ এই জাহাজ দুর্ঘটনায় এখনও গভীর অনিশ্চয়তা। ২৪৩ জনের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যুর খবর মিললেও প্রায় ১৩০ জনের কোনও সন্ধান নেই। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই সমুদ্র ও আকাশপথে চলছে তাঁদের খোঁজ। উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হবে দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র। আপাতত নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশাতেই তাকিয়ে তাঁদের পরিবার এবং গোটা দেশ।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10