Home/India/মাঝআকাশে ১৭৪ প্রাণের লড়াই! ভারতীয় পাইলটকে ছুরি, সৌদিতে জরুরি অবতরণ Flydubai বিমানের
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

মাঝআকাশে ১৭৪ প্রাণের লড়াই! ভারতীয় পাইলটকে ছুরি, সৌদিতে জরুরি অবতরণ Flydubai বিমানের

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী Flydubai বিমানে মাঝআকাশে ভয়াবহ ঘটনা। ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে আচমকা সংঘর্ষের পর ভারতীয় ক্যাপ্টেন Smit Machchhar-কে ছুরি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে। এরপর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে এবং 7700 ও পরে 7500 জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে যাত্রী ও বিমানকর্মীরা ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। শেষ পর্যন্ত Boeing 737 MAX বিমানটি সৌদি আরবের Tabuk-এ নিরাপদে অবতরণ করে। ঘটনায় ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ রক্ষা হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Oct 1, 2026
•5 min read•
32
Share:
মাঝআকাশে ১৭৪ প্রাণের লড়াই! ভারতীয় পাইলটকে ছুরি, সৌদিতে জরুরি অবতরণ Flydubai বিমানের

মাঝআকাশে আচমকাই বদলে গেল পরিস্থিতি

বুধবার Dubai থেকে Tel Aviv-এর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল Flydubai-এর FZ1073 বিমান। Boeing 737 MAX 8 বিমানটি স্বাভাবিকভাবেই গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু মাঝআকাশে আচমকাই পরিস্থিতি বদলে যায়।

Flightradar24-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে সেটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। কয়েক মিনিটের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। এই অস্বাভাবিক গতিপথের পরই বিমানের তরফে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়।

প্রথমে 7700 কোড পাঠানো হয়। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এটি সাধারণ জরুরি পরিস্থিতির আন্তর্জাতিক সংকেত। তার কিছুক্ষণ পর 7500 কোড পাঠানো হয়, যা সাধারণত বিমান হাইজ্যাক বা unlawful interference-এর সম্ভাবনা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।

ফলে Israel-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তীব্র সতর্কতা তৈরি হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে Israeli fighter jets-ও আকাশে পাঠানো হয়েছিল বলে Reuters-সহ একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ককপিটে কী হয়েছিল?

প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, বিমানটি হয়তো হাইজ্যাক হয়েছে। পরে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল ককপিটের ভিতরেই।

Israel-এর নিরাপত্তা আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুই পাইলটের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে সহকারী পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন Smit Machchhar-কে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ।

এরপর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বিমানটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু যাত্রী এবং বিমানকর্মী ককপিটে ঢোকার চেষ্টা করেন।

Israeli Prime Minister Benjamin Netanyahu পরে জানান, আহত অবস্থাতেও Machchhar ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী এবং বিমানকর্মীরা মিলে অভিযুক্ত পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভারতীয় ক্যাপ্টেন Smit Machchhar-এর সাহসিকতা

এই ঘটনার পর ভারতীয় ক্যাপ্টেন Smit Machchhar আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। Netanyahu তাঁকে ‘true hero’ বলে অভিহিত করেছেন।

Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Machchhar গুরুতরভাবে আহত হওয়ার পরও পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর প্রতিরোধ এবং ককপিটের দরজা খোলার ফলে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

Netanyahu-র বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর এই ভূমিকার কারণে ১৭৪ জন মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-ও Machchhar-এর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে Reuters জানিয়েছে।

Machchhar-এর চিকিৎসা সৌদি আরবেই শুরু হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে ভারতীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। তিনি আগে SpiceJet-এও কাজ করেছেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাত্রীরাই ঢুকে পড়েন ককপিটে

ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলির একটি ছিল যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া। বিমানটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করার পর পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক নেই, তা বুঝতে পারেন যাত্রীরা।

Netanyahu জানিয়েছেন, কয়েকজন যাত্রী এবং এক বিমানকর্মী ককপিটে প্রবেশ করেন। সেখানে তাঁরা আহত ক্যাপ্টেনকে দেখতে পান এবং অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

Reuters-এর প্রত্যক্ষদর্শী-ভিত্তিক প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে অত্যন্ত আতঙ্কজনক বলে বর্ণনা করা হয়েছে। বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারানোর সময় যাত্রীদের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

7500 সংকেতেই ছড়ায় হাইজ্যাকের আতঙ্ক

বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে 7500 সংকেত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও পাইলট যদি বিমান হাইজ্যাক বা অন্য কোনও unlawful interference-এর মুখে পড়েন, তখন এই কোড ব্যবহার করে ATC-কে সতর্ক করা যায়।

এই ঘটনায় প্রথমে 7700 এবং পরে 7500 সংকেত পাঠানো হয়। ফলে Israeli authorities-এর কাছে প্রথমে হাইজ্যাকের আশঙ্কা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক ছিল।

বিমানটি Jordan-এর কাছাকাছি পৌঁছনোর সময় এই সংকেতগুলি পাঠানো হয় বলে Flightradar24-এর তথ্য থেকে জানা যায়। এরপর বিমানটি নির্ধারিত Tel Aviv রুট থেকে সরে Saudi Arabia-এর Tabuk-এর দিকে চলে যায়।

শেষ পর্যন্ত Tabuk বিমানবন্দরে বিমানটির নিরাপদ অবতরণ হয়। Flydubai পরে জানায়, বিমানে থাকা সবাই নিরাপদ এবং তাদের হিসাব অনুযায়ী যাত্রী ও ক্রুদের কোনও সদস্য নিখোঁজ ছিলেন না।

এটা কি সন্ত্রাসী হামলা ছিল?

ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা, নাকি দুই পাইলটের মধ্যে ব্যক্তিগত বা অন্য কোনও কারণে তৈরি হওয়া সংঘর্ষ?

এই প্রশ্নের এখনও চূড়ান্ত উত্তর নেই।

Israeli Prime Minister Netanyahu প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, সহকারী পাইলট বিমানটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। Israeli authorities ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা ঘটনা হিসেবে দেখছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

কিছু Israeli media report-এ আরও দাবি করা হয়েছে, ওই পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আবার অন্য প্রতিবেদনে আত্মঘাতী হামলার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।

তবে Flydubai-এর পক্ষ থেকে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। Reuters-ও জানিয়েছে, ঘটনাটিকে সরাসরি hijacking হিসেবে ধরা হচ্ছে না এবং হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে।

অর্থাৎ ‘৯/১১-র কায়দায় হামলা’ বা ‘সন্ত্রাসী হামলা’—এই শব্দগুলি এখনই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না।

অভিযুক্ত সহকারী পাইলট আটক

বিমানটি Tabuk-এ অবতরণ করার পর Saudi authorities অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে আটক করেছে বলে Israeli ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তাঁর জাতীয়তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে Oman-এর নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার আগে তাঁর আচরণ, উদ্দেশ্য এবং ককপিটে সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল—এসব এখনও তদন্তের বিষয়।

তদন্তকারীরা বিমানের cockpit recorder, flight data, যাত্রীদের বক্তব্য এবং ককপিটে উপস্থিত ক্রু সদস্যদের তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারেন। বিমানটির হঠাৎ উচ্চতা কমে যাওয়ার কারণও প্রযুক্তিগত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

সৌদি আরবে জরুরি অবতরণের পর সবাই নিরাপদ

বিমানটি শেষ পর্যন্ত Saudi Arabia-এর Tabuk বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। আহত ক্যাপ্টেন এবং অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাকি যাত্রীদের পরে বিকল্প Flydubai বিমানে Israel-এ পাঠানো হয়। বুধবার তাঁরা Ben Gurion Airport-এ পৌঁছন। যাত্রীদের বিমানবন্দরে পৌঁছনোর ভিডিওতে স্বস্তির পরিবেশও দেখা যায়।

এই ঘটনার পর Flydubai Israel-গামী এবং Israel থেকে আসা কিছু পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিমান সংস্থা এবং কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।

Israel-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন প্রশ্ন

ঘটনাটি Israel-এর বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, সাধারণত Israel-গামী বিমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়া বলে পরিচিত।

এই ঘটনায় একজন cockpit crew member-এর বিরুদ্ধেই বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠায় pilot vetting, cockpit access এবং crew security protocol নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Israel-এর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই pilot security checks আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে Times of Israel জানিয়েছে।

একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, কোনও পাইলটের আচরণ নিয়ে আগাম সতর্কতা থাকলে তা কীভাবে শনাক্ত করা যায় এবং cockpit-এর ভিতরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত কীভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তদন্তেই পরিষ্কার হবে আসল ঘটনা

এই মুহূর্তে ঘটনাটির একাধিক দিক এখনও তদন্তাধীন। নিশ্চিতভাবে যা জানা গিয়েছে, তা হল—Dubai থেকে Tel Aviv-গামী Flydubai বিমানটি মাঝআকাশে জরুরি সংকেত পাঠায়, দ্রুত উচ্চতা হারায় এবং পরে Saudi Arabia-র Tabuk-এ জরুরি অবতরণ করে। ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে গুরুতর সংঘর্ষ হয়েছিল বলেও বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

Indian captain Smit Machchhar গুরুতর আহত হলেও বিমান নিয়ন্ত্রণে ফের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের সহায়তায় অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৭৪ জন যাত্রী নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছনোর সুযোগ পান।

তবে হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, ঘটনাটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা কি না এবং ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পাওয়া যাবে।

একটি বিমান মাঝআকাশে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়ে যাওয়ার পরও এত বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে মূলত ক্যাপ্টেন, যাত্রী, কেবিন ক্রু এবং পরে বিকল্প পাইলটদের দ্রুত পদক্ষেপে। ভারতীয় ক্যাপ্টেনের সাহসিকতা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা পেয়েছে। এখন নজর তদন্তের ফল এবং এই ঘটনার পর বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আনা হয়, সেদিকে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10