Home/India/মাদক আইনের সঙ্গে সংঘাত! ‘গুন্ডাদমন’ বিল ফেরালেন রাষ্ট্রপতি, বড় ধাক্কা রাজ্য সরকারের
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

মাদক আইনের সঙ্গে সংঘাত! ‘গুন্ডাদমন’ বিল ফেরালেন রাষ্ট্রপতি, বড় ধাক্কা রাজ্য সরকারের

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তাবিত ‘গুন্ডাদমন’ বিল নিয়ে আপত্তি তুলেছে কেন্দ্র। মাদক সংক্রান্ত অপরাধে রাজ্যের প্রস্তাবিত প্রতিরোধমূলক আটক ব্যবস্থার সঙ্গে কেন্দ্রীয় আইনের সম্ভাব্য সংঘাতের কথা উল্লেখ করে বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ২০২৬ সালের জুনে বিধানসভায় পাশ হওয়া এই বিলে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর ব্যবস্থা এবং সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটকের বিধান রাখা হয়েছিল। এখন প্রয়োজনীয় সংশোধন করে বিলটি ফের বিধানসভায় আনার সুযোগ রয়েছে রাজ্য সরকারের সামনে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 25, 2026
•5 min read•
19
Share:
মাদক আইনের সঙ্গে সংঘাত! ‘গুন্ডাদমন’ বিল ফেরালেন রাষ্ট্রপতি, বড় ধাক্কা রাজ্য সরকারের

রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেল না ‘গুন্ডাদমন’ বিল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হওয়া ‘West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026’ আপাতত আইনে পরিণত হচ্ছে না। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিলটি অনুমোদন না করে পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন।

Indian Express-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের তরফে বিলটির একটি নির্দিষ্ট ধারার সঙ্গে কেন্দ্রীয় মাদকবিরোধী আইনের সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। সেই আপত্তির ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো বিলটি ফেরত আসে।

বিলটি গত ২৯ জুন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হয়েছিল। ভোটাভুটিতে ১৭৬ জন বিধায়ক বিলের পক্ষে এবং ৪১ জন বিপক্ষে ভোট দেন; ২০ জন বিধায়ক ভোটদানে বিরত ছিলেন বলে সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কী রয়েছে প্রস্তাবিত আইনে?

বিলটির মূল লক্ষ্য রাজ্যে সংগঠিত সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, জননিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা।

প্রস্তাবিত আইনে ‘anti-social activity’-র পরিধি বেশ বিস্তৃত রাখা হয়েছে। জনসাধারণের মধ্যে ভয় বা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা, বেআইনি ভাবে কোনও ব্যক্তিকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করা, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির বড় ধরনের ক্ষতি করা এবং বেআইনি খনি, পাথর বা বালি উত্তোলনের মতো কার্যকলাপকেও এর আওতায় রাখা হয়েছে।

‘Goonda’ বা সমাজবিরোধী ব্যক্তির সংজ্ঞাতেও একাধিক অপরাধকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। Arms Act, NDPS Act, Immoral Traffic (Prevention) Act এবং Explosive Substances Act-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই সংজ্ঞার মধ্যে আনার কথা বলা হয়েছে।

১২ মাস পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটক

বিলটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত বিধানগুলির একটি হল preventive detention বা প্রতিরোধমূলক আটক।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তিকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখতে প্রয়োজন রয়েছে বলে রাজ্য সরকার সন্তুষ্ট হলে তাঁকে আটক করার নির্দেশ দিতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জেলা শাসক বা পুলিশ কমিশনারকেও এই ক্ষমতা দেওয়া যেতে পারে।

বিধানসভায় পাশ হওয়া বিলটি সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত বিচার ছাড়াই প্রতিরোধমূলক আটকের সুযোগ রাখে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিলের বিভিন্ন ধারায় আটক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপরাধের ইতিহাস, চার্জশিট এবং পূর্ববর্তী মামলার মতো শর্তও রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে শুধুমাত্র সাধারণ সন্দেহের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক বছরের আটক কার্যকর হবে—বিলের কাঠামোকে সেভাবে সরলীকরণ করা ঠিক হবে না। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই ক্ষমতা প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে।

আসল আপত্তি কোথায়?

রাষ্ট্রপতির কাছে বিলটি ফেরত যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মাদক সংক্রান্ত অপরাধে রাজ্য আইনের প্রস্তাবিত বিধান।

Indian Express-এর প্রতিবেদনে কেন্দ্রের নোট উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বিলের Section 2(d)(iii)(B)-তে NDPS Act, 1985-এর অধীনে অপরাধকে ‘goonda’-র সংজ্ঞার মধ্যে রাখা হয়েছে। ফলে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে এই বিলের preventive detention ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

কিন্তু মাদক পাচার ও সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতিরোধমূলক আটকের জন্য কেন্দ্রীয় স্তরে ইতিমধ্যেই PITNDPS Act, 1988 রয়েছে।

কেন্দ্রের যুক্তি হল, একই ধরনের মাদক-সংক্রান্ত কার্যকলাপের জন্য রাজ্য আইনের মাধ্যমে পৃথক preventive detention ব্যবস্থা তৈরি হলে দুটি আইনের মধ্যে overlap বা সমান্তরাল ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সংবিধানের Article 254 অনুযায়ী repugnancy বা আইনি সংঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে।

কেন্দ্র কী পরিবর্তন চেয়েছে?

রাষ্ট্রপতির কাছে বিল ফেরত পাঠানোর আগে কেন্দ্রের তরফে যে আপত্তি জানানো হয়েছে, সেখানে নির্দিষ্ট সমাধানের কথাও বলা হয়েছে।

Indian Express-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রের নোটে বলা হয়েছে, NDPS Act, 1985-এর অধীনে অপরাধকে ‘goonda’-র সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা অংশটি বাদ দেওয়া যেতে পারে। তাতে মাদক সংক্রান্ত preventive detention-এর ক্ষেত্রে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় আইনের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বৈত ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

অর্থাৎ পুরো বিল বাতিল হয়ে যায়নি। বরং নির্দিষ্ট ধারায় সংশোধন এনে আবার বিধানসভায় বিলটি পেশ করার রাস্তা খোলা রয়েছে।

ফের বিধানসভায় আনতে পারবে রাজ্য

রাজ্য প্রশাসনের এক আধিকারিকের বক্তব্যও Indian Express-কে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে যে প্রয়োজনীয় সংশোধন করার পর বিলটি আবার বিধানসভায় পেশ করা সম্ভব।

সংশোধিত বিল বিধানসভায় পাশ হলে সেটি ফের রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো যেতে পারে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিকে চূড়ান্তভাবে ‘গুন্ডাদমন’ উদ্যোগের সমাপ্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

বরং এখন রাজ্য সরকারের সামনে মূল প্রশ্ন হল—কেন্দ্রের আপত্তির জায়গাটি কীভাবে সংশোধন করা হবে এবং সংশোধিত আইনে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের বিষয়টি কীভাবে রাখা বা বাদ দেওয়া হবে।

সম্পত্তি ভাঙচুরেও রয়েছে কঠোর বিধান

শুধু preventive detention নয়, জনসম্পত্তি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতির ক্ষেত্রেও বিলটির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য বিধানে কঠোর আর্থিক ব্যবস্থার কথা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ Maintenance of Public Order (Amendment) Bill, 2026-এর মাধ্যমে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর বা সম্পত্তির ক্ষতির ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য Claims Commission-এর ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির ক্ষতির অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে আদায়ের কাঠামোও প্রস্তাব করা হয়।

ফলে দুইটি আইন মিলিয়ে সরকারের লক্ষ্য ছিল একদিকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে preventive ব্যবস্থা নেওয়া, অন্যদিকে ভাঙচুর বা সম্পত্তির ক্ষতির ক্ষেত্রে আর্থিক দায় নির্ধারণ করা।

রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু

রাষ্ট্রপতি বিলটি ফেরত পাঠানোর পর বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেছেন।

তাঁর বক্তব্যে সরকারের প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তিনি লেখেন, “ডবল ইঞ্জিন শুধু পোস্টারেই। প্রশাসনের ক্ষেত্রে শুধুই রিভার্স গিয়ার।” পাশাপাশি বিলটি সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানোর ঘটনাকে তিনি সরকারের ‘হোমওয়ার্ক’ সংশোধনের সঙ্গে তুলনা করেন।

এটি অবশ্য বিরোধী দলের রাজনৈতিক মন্তব্য। রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের সরকারি আইনি ব্যাখ্যা হিসেবে এই মন্তব্যকে দেখা যায় না।

এর আগে বিলের আইনি অবস্থাও প্রশ্নে ছিল

‘গুন্ডাদমন’ বিল নিয়ে এর আগেও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। আগস্টে কলকাতা হাই কোর্টে বিলটিকে চ্যালেঞ্জ করে একাধিক আবেদন করা হয়েছিল।

সেই সময়ে আদালতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত সেটিকে কার্যকর আইন হিসেবে ধরে নিয়ে চ্যালেঞ্জ করার প্রশ্নে আদালত আবেদনগুলি গ্রহণ করেনি।

এখন রাষ্ট্রপতির তরফে বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত আসায় সেই আইনি প্রক্রিয়ায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় যুক্ত হল।

সামনে কী করতে পারে রাজ্য সরকার?

এখন রাজ্য সরকারের সামনে মূলত কয়েকটি প্রশাসনিক ও আইনসভাগত ধাপ রয়েছে। প্রথমে রাষ্ট্রপতির আপত্তির নির্দিষ্ট অংশ বিশ্লেষণ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় সংশোধনের খসড়া তৈরি করে সেটি বিধানসভায় পেশ করতে হবে।

বিধানসভায় সংশোধিত বিল পাশ হলে ফের রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো যেতে পারে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট বিধানগুলি কার্যকর করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এগোবে।

ফলে আপাতত বিলটি কার্যকর হয়ে গেল—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এটি বিল হিসেবেই রয়েছে।

এখন নজর সংশোধিত খসড়ার দিকে

‘West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Bill, 2026’ নিয়ে রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্য ছিল সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি করা। কিন্তু মাদক সংক্রান্ত অপরাধে কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সম্ভাব্য overlap-এর প্রশ্নে বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়নি।

এখন রাজ্য সরকার কীভাবে কেন্দ্রের আপত্তির জবাব দেয়, NDPS-সংক্রান্ত ধারায় কী পরিবর্তন আনে এবং সংশোধিত বিল আবার বিধানসভায় কবে পেশ করে—সেদিকেই নজর থাকবে।

রাষ্ট্রপতির ফেরত পাঠানোয় প্রক্রিয়া থমকে গেলেও উদ্যোগটি এখানেই শেষ হচ্ছে না। বরং পরবর্তী সংশোধন এবং আইনসভায় ফের আলোচনার পরই পরিষ্কার হবে, রাজ্যের প্রস্তাবিত ‘গুন্ডাদমন’ ব্যবস্থার চূড়ান্ত আইনি রূপ কী দাঁড়ায়।

Tags:India
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10