Home/International/কুনার-পাকতিকায় পাকিস্তানের ফের বিমান হামলা, নিহত ৩! আবাসিক বাড়িতে বোমার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

কুনার-পাকতিকায় পাকিস্তানের ফের বিমান হামলা, নিহত ৩! আবাসিক বাড়িতে বোমার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা

ফের আফগানিস্তানের মাটিতে বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান। সোমবার ভোরে কুনার ও পাকতিকার একাধিক এলাকায় পাক বিমানবাহিনীর হামলার খবর সামনে এসেছে। তালিবান প্রশাসনের দাবি, কুনারের নুরগাল এলাকায় একটি আবাসিক বাড়িতে হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। পাকতিকাতেও একটি দোকান ও একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল আফগানিস্তানে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির কথিত ঘাঁটি। ফলে সীমান্ত সংঘাত ফের বড় আকার নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 21, 2026
•5 min read•
71
Share:
কুনার-পাকতিকায় পাকিস্তানের ফের বিমান হামলা, নিহত ৩! আবাসিক বাড়িতে বোমার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা

ভোররাতে কুনারে হামলা

স্থানীয় সূত্র এবং তালিবান প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার ভোরে কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলায় বিমান হামলা চালানো হয়। পাটাং এলাকায় একটি বাড়িতে বোমা পড়ে বলে জানানো হয়েছে।

তালিবানের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাতের দাবি, ওই হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আরও চারজন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের বেসামরিক নাগরিক বলে দাবি করেছে আফগান প্রশাসন।

প্রাথমিক রিপোর্টে হামলার সময় নিয়ে কিছুটা তারতম্য রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের একাংশ রাত আড়াইটে নাগাদ হামলার কথা জানিয়েছে, আবার অন্য রিপোর্টে ভোররাতের সময় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সব রিপোর্টেই কুনারের নুরগাল এলাকাকে হামলার অন্যতম প্রধান স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পাকতিকাতেও বোমাবর্ষণের অভিযোগ

শুধু কুনার নয়, পূর্ব আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তালিবান প্রশাসন।

বর্মাল জেলার রাকাহ ও তোরকান্দি এলাকায় দুটি জায়গায় বোমাবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তালিবানের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি পরিত্যক্ত বাড়ি এবং একটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই দুটি হামলায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ একই সময়ে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের অন্তত দুই প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এতে সীমান্ত পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের দাবি কী?

হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর তরফে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, বিমান ও ড্রোন ব্যবহার করে জঙ্গিদের কথিত ঘাঁটিতে অভিযান চালানো হয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্রগুলি দাবি করেছে, হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা TTP এবং বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি বা BLA-র সঙ্গে যুক্ত কিছু জঙ্গি কাঠামো। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে TTP-র সদস্যরা পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা করছে।

তবে এই দাবিগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। একইসঙ্গে পাকিস্তান সোমবারের হামলার সঙ্গে সাম্প্রতিক কোনও নির্দিষ্ট জঙ্গি হামলার সরাসরি সম্পর্ক প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি।

তালিবানের পালটা অভিযোগ

আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসন অবশ্য পাকিস্তানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয়। তাদের দাবি, পাকিস্তানের বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

তালিবান মুখপাত্ররা হামলার নিন্দা করে এটিকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তালিবানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন হামলা হলে তার জবাব দেওয়ার অধিকার তারা রাখে।

ফলে একদিকে পাকিস্তানের জঙ্গি-ঘাঁটি লক্ষ্য করার দাবি, অন্যদিকে আফগানিস্তানের বেসামরিক এলাকা আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ—দুই দেশের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।

কেন ফের সংঘাত বাড়ছে?

ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই TTP-কে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানে থাকা TTP-র সদস্যরা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালাচ্ছে।

তালিবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কাবুলের বক্তব্য, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করা ঠিক নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একাধিক হামলার পর এই অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর কোহাটে একটি পুলিশ কম্পাউন্ডে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৫৭ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল Reuters। হামলার দায় কোনও সংগঠন তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকার করেনি এবং TTP-ও দায় অস্বীকার করেছে।

এই হামলার পরই পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতির দিকে নতুন করে নজর পড়ে। তবে সোমবারের বিমান হামলা কোহাটের হামলার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবে চালানো হয়েছে—এমন কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও নেই।

তিন মাসের বিরতির পর ফের বিমান অভিযান

সোমবারের হামলার আরও একটি তাৎপর্য রয়েছে। প্রকাশ্যে নিশ্চিত হওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস পর আফগানিস্তানের মাটিতে ফের পাকিস্তানের বিমান অভিযান হয়েছে।

এর আগে জুনের শেষ সপ্তাহে পাকিস্তান আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলায় অন্তত ২৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছিল বলে জাতিসংঘ জানিয়েছিল।

পাকিস্তান অবশ্য ওই সময়ও দাবি করেছিল, তাদের লক্ষ্য ছিল TTP এবং সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের ঘাঁটি। আফগানিস্তান পালটা অভিযোগ করেছিল, হামলায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জুনের হামলার পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলেও কূটনৈতিক স্তরে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা হয়েছিল। তুরস্ক ও কাতারও দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনার ক্ষেত্রে ভূমিকা নিয়েছে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে।

অতীতেও বেসামরিক মৃত্যুর অভিযোগ

পাকিস্তানের বিমান হামলাকে ঘিরে বেসামরিক মৃত্যুর অভিযোগ নতুন নয়। জুনের ১০ তারিখের হামলায় আফগানিস্তানের কুনার, খোস্ত ও পাকতিকায় অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল Reuters, যাঁদের মধ্যে ১১ জন শিশু ছিল বলে তালিবান দাবি করেছিল।

এর আগে মার্চেও কাবুলে একটি বিমান হামলায় শতাধিক মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। তালিবান প্রশাসনের দাবি ছিল, একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছিল। পাকিস্তান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিল, তাদের লক্ষ্য ছিল সামরিক স্থাপনা এবং জঙ্গিদের সহায়তাকারী পরিকাঠামো।

ফলে প্রতিটি হামলার পরই একই প্রশ্ন সামনে এসেছে—পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য কি সত্যিই শুধু জঙ্গি পরিকাঠামো, নাকি বেসামরিক এলাকাও তার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?

সীমান্তে বাড়তে পারে সামরিক উত্তেজনা

নতুন হামলার পর দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আফগানিস্তানের তালিবান বাহিনী অতীতেও পাকিস্তানের সীমান্তচৌকি লক্ষ্য করে পালটা হামলা চালানোর দাবি করেছে। আবার পাকিস্তানও সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে।

এই পরিস্থিতিতে বিমান হামলা, সীমান্তে গোলাগুলি এবং পালটা সামরিক পদক্ষেপ একে অপরকে আরও উসকে দিতে পারে। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি বারবার সামরিক সংঘাতে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সোমবারের হামলার পর তালিবান প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া সেই আশঙ্কাকেই আরও সামনে এনেছে। তবে এখনই বৃহত্তর যুদ্ধের পূর্বাভাস দেওয়া যাচ্ছে না। দুই দেশের পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপই পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।

কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে?

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত কমাতে সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক, কাতার এবং চিনের মতো দেশ কূটনৈতিক যোগাযোগে ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু TTP-কে ঘিরে দুই দেশের মূল মতবিরোধ এখনও কাটেনি।

ইসলামাবাদ চায়, আফগানিস্তান তার ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপ বন্ধ করুক। অন্যদিকে তালিবান সরকার পাকিস্তানের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং নিজেদের ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কথা বলছে।

এই অবস্থায় সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি আলোচনার পথ খোলা রাখাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ বারবার সীমান্তপারের হামলা হলে তার প্রভাব শুধু দুই দেশের নিরাপত্তায় নয়, সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়ছে।

সামনে কী?

সোমবারের বিমান হামলার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পাকিস্তান ফের আফগানিস্তানের ভিতরে সামরিক অভিযান চালাবে কি না এবং তালিবান তার কী জবাব দেবে।

কুনারে তিনজনের মৃত্যুর খবর এবং পাকতিকায় ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ ইতিমধ্যেই নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, তাদের লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটি।

এই দুই বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে তদন্ত, উপগ্রহচিত্র এবং স্বাধীন তথ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একইসঙ্গে সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।

সব মিলিয়ে, প্রায় তিন মাসের বিরতির পর আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ফের বিমান হামলা কাবুল-ইসলামাবাদ সম্পর্ককে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে। কুনার ও পাকতিকায় হামলা, বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ এবং TTP-কে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধ—সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ফের তীব্র হয়েছে। এখন নজর থাকবে তালিবানের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং পাকিস্তানের সামরিক অবস্থানের দিকে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10