কলকাতা পুরসভায় ফের এক কাউন্সিলার গ্রেপ্তার হওয়ায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ১০৪ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি তারকেশ্বর চক্রবর্তীকে শুক্রবার রাত প্রায় ১২টার দিকে আটক করে সার্ভে পার্ক থানার পুলিশ। পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা, নথি জালিয়াতি, ভয় দেখানো এবং একাধিক ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি একটি পৃথক অভিযোগে এক মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই দুটি পৃথক এফআইআর-এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বেশ কিছুদিন আগে, যখন একাধিক অভিযোগ সার্ভে পার্ক থানায় জমা পড়ে। অভিযোগকারীদের দাবি, কাউন্সিলার তারকেশ্বর চক্রবর্তী প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতেন এবং কিছু ক্ষেত্রে নথি বিকৃত করে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযোগগুলির মধ্যে একটি প্রতারণার মামলায় আর্থিক লেনদেন ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অন্যদিকে নথি জালিয়াতির অভিযোগে প্রশাসনিক কাগজপত্রে অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ের প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নথি জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে সার্ভে পার্ক থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, যা আরও গভীর তদন্তের প্রয়োজন তৈরি করেছে।
এদিকে, রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীরা দাবি করেছে, এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল এবং দীর্ঘদিন ধরে পুরসভায় একের পর এক অনিয়ম সামনে আসছে। অন্যদিকে শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বড় মন্তব্য করা হয়নি, তবে দলীয় স্তরে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা পুরসভার একাধিক কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ওঠা একের পর এক মামলায় পুর প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, এই ধরনের ঘটনায় জনবিশ্বাসে ধাক্কা লাগে এবং পরিষেবা ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। যদিও তদন্তকারীরা জানিয়েছে, সমস্ত অভিযোগই আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আগামী দিনে অভিযুক্ত কাউন্সিলারকে আদালতে পেশ করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে, যাতে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা যায় এবং পুরো চক্রের খোঁজ পাওয়া যায় কি না তা নিশ্চিত করা যায়।
এই ঘটনার পর কলকাতা পুরসভায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই এই মামলায় নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে অনুমান করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



