Home/International/কিয়েভে ফের রুশ ড্রোন হামলার ভয়াবহতা, প্রাণ গেল ২৭ জনের! ধ্বংস বহু বাড়ি, জ্বলল গুদাম
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

কিয়েভে ফের রুশ ড্রোন হামলার ভয়াবহতা, প্রাণ গেল ২৭ জনের! ধ্বংস বহু বাড়ি, জ্বলল গুদাম

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও সংলগ্ন এলাকায় ফের বড়সড় ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল রাশিয়ার বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে কিয়েভের কাছে বুচা জেলায় একের পর এক বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। প্রায় ৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক জায়গায় আগুন ধরে যায়। একটি বড় গুদামেও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব জানতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Aug 30, 2026
•5 min read•
21
Share:
কিয়েভে ফের রুশ ড্রোন হামলার ভয়াবহতা, প্রাণ গেল ২৭ জনের! ধ্বংস বহু বাড়ি, জ্বলল গুদাম

রাতের অন্ধকারে পরপর বিস্ফোরণ, কেঁপে উঠল কিয়েভ

শুক্রবার রাতে কিয়েভের উপকণ্ঠে আচমকাই একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বুচা জেলার বিভিন্ন এলাকায় রুশ ড্রোন আছড়ে পড়ার খবর সামনে আসতেই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকটি এলাকায় আগুন ধরে যায়।

স্থানীয় প্রশাসন ও ইউক্রেনীয় আধিকারিকদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহতের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। ফলে মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হামলার অভিঘাত শুধু বসতিপূর্ণ এলাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কিয়েভের কাছে একটি বড় গুদামেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। ওই স্থাপনায় কী ধরনের সামগ্রী ছিল এবং সেটি হামলার সরাসরি লক্ষ্য ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রায় ৫০টি বাড়িতে ক্ষয়ক্ষতি

ইউক্রেনের এক আধিকারিক তিমুর তকাচেঙ্কোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার জেরে প্রায় ৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু বাড়ির জানলা ও কাঠামো বিস্ফোরণের অভিঘাতে ভেঙে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

রাতেই জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর পাশাপাশি আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বিস্ফোরণের পর বহু মানুষ বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘিরে উদ্ধার ও পরিদর্শনের কাজ শুরু করেছে।

ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট চাইলেন জেলেনস্কি

ঘটনার পর হামলার পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কতগুলি ড্রোন হামলায় অংশ নিয়েছিল, কোন কোন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরিকাঠামোর কতটা ক্ষতি হয়েছে—সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইউক্রেনীয় প্রশাসনের কাছে হামলার ধরন ও সম্ভাব্য লক্ষ্য সম্পর্কেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইউক্রেনের দাবি, রুশ হামলায় সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি এবং অন্যান্য অসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, মস্কোর বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।

অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংসের দাবি রাশিয়ার

রাশিয়ার তরফে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেনীয় সেনার অস্ত্র ও সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর বক্তব্য, রুশ বাহিনী সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ক্ষয়ক্ষতির বিবরণে বসতবাড়ি এবং অসামরিক স্থাপনার ক্ষতির কথাও উঠে এসেছে। ফলে রুশ বাহিনীর ঘোষিত লক্ষ্য এবং মাটিতে হামলার প্রভাব নিয়ে ফের বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

হামলার প্রকৃত লক্ষ্য এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা এখনও সম্ভব হয়নি।

চার বছরের সংঘাতেও থামেনি ড্রোন যুদ্ধ

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত দীর্ঘ চার বছর ধরে চলছে। সময়ের সঙ্গে এই যুদ্ধে ড্রোন হামলার গুরুত্ব ক্রমেই বেড়েছে। দুই পক্ষই নিয়মিতভাবে একে অপরের ভূখণ্ডে ড্রোন ও অন্যান্য দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করছে।

কিয়েভ এবং তার আশপাশের অঞ্চল রুশ হামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনও পাল্টা রাশিয়ার বিভিন্ন সামরিক ও শিল্প এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতেই রাশিয়ার কয়েকটি এলাকায় বড়সড় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার খবর সামনে এসেছিল। সেই ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে রুশ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল।

৫০০-র বেশি ড্রোন হামলার পাল্টা দাবি

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি ছিল, ওই হামলায় ইউক্রেন পাঁচশোরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছিল। রাশিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪৫৬টি ড্রোন ধ্বংস বা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়।

রুশ কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছিল, নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও ছিল। তাতারস্তানের নিজনেকামস্ক শহরের একটি তেল শোধনাগারেও ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হেনেছিল বলে মস্কোর দাবি।

এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই শুক্রবার রাতের কিয়েভ অভিযানকে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের আরও একটি উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়কে সামনে নিয়ে এসেছে।

পাল্টা আঘাতের চক্র আরও তীব্র

রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষই সাম্প্রতিক সময়ে একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল, জ্বালানি পরিকাঠামো এবং পরিবহণ ব্যবস্থাও সংঘাতের প্রভাবে পড়ছে।

এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে থাকা সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বড় আকারের ড্রোন হামলা হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

কিয়েভের সাম্প্রতিক হামলার পর ফের সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে—দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের মধ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে?

তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে হামলার পূর্ণ চিত্র

শুক্রবারের হামলায় প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর নিশ্চিত হলেও হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের সংখ্যা, সেগুলির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং মোট ক্ষতির পরিমাণ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর আরও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে আসতে পারে।

এই হামলার পর রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কূটনৈতিক পরিস্থিতিতেও নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধ থামানোর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চললেও মাটিতে পাল্টা হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

সব মিলিয়ে, শুক্রবার রাতের রুশ ড্রোন হামলায় কিয়েভের কাছে বুচা এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করছে। হামলার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তদন্ত শেষ হলেই সামনে আসবে। তবে এই ঘটনা ফের প্রমাণ করল, চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এখনও সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10