Home/Kolkata/কালীঘাটের বৈঠকে কুণাল-অভিষেকের তুমুল বাকযুদ্ধ, পরিস্থিতি সামলাতে হস্তক্ষেপ মমতার
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

কালীঘাটের বৈঠকে কুণাল-অভিষেকের তুমুল বাকযুদ্ধ, পরিস্থিতি সামলাতে হস্তক্ষেপ মমতার

তৃণমূলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার আবহে কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা কর্মসমিতির বৈঠক রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠল। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়ে মতভেদের জেরে প্রকাশ্যে চলে আসে কুণাল ঘোষ ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতবিরোধ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে শেষ পর্যন্ত নিজে হস্তক্ষেপ করে দুই নেতাকে শান্ত করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা নেন।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 14, 2026
5 min read
0
Share:
কালীঘাটের বৈঠকে কুণাল-অভিষেকের তুমুল বাকযুদ্ধ, পরিস্থিতি সামলাতে হস্তক্ষেপ মমতার

বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পরই উত্তেজনা

শনিবার কালীঘাটে তৃণমূলের কর্মসমিতির বৈঠকে দলের বর্তমান পরিস্থিতি, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, বৈঠকে একটি সাংগঠনিক বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি তোলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর মতে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে অবিলম্বে পদক্ষেপ করা জরুরি।

তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল, বিষয়টি নিয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এই অবস্থানকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় মতবিরোধ। কুণাল ঘোষের পাল্টা মন্তব্যে বৈঠকের পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সুমিত রায় প্রসঙ্গেও বাড়ে তর্ক

পরিস্থিতি আরও জটিল হয় অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সহকারী সুমিত রায়কে ঘিরে আলোচনায়। বৈঠকে অভিষেক অভিযোগ তোলেন, কুণাল সংবাদমাধ্যমে সুমিত রায় সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন এবং তাঁকে নিয়েও মন্তব্য করেছেন।

এর উত্তরে কুণাল স্পষ্ট জানান, তিনি সুমিত রায় সম্পর্কে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন, কারণ তাঁর মতে সুমিত দলের কোনও সাংগঠনিক পদে নেই। তবে অভিষেককে নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি বলেও দাবি করেন।

এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই দুই নেতার মধ্যে কথার লড়াই চরমে পৌঁছে যায়। উপস্থিত নেতাদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে দলের অভ্যন্তরে জমে থাকা অসন্তোষ ওই বৈঠকে কার্যত সামনে চলে আসে।

মমতার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

বৈঠকের উত্তেজনা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দুই নেতাকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

সূত্রের দাবি, মমতা স্পষ্ট করে জানান যে, দলের সামনে এখন বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং ব্যক্তিগত মতপার্থক্যকে গুরুত্ব দিলে সংগঠনের ক্ষতি হতে পারে।

পরে প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হন। তাঁর মধ্যস্থতার পর বৈঠকের উত্তেজনা অনেকটাই প্রশমিত হয় বলে জানা গিয়েছে।

সাংগঠনিক রদবদলে নতুন দায়িত্ব

এদিন বৈঠকের পর দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বেশ কিছু পরিবর্তনের ঘোষণাও করা হয়। কুণাল ঘোষকে উত্তর কলকাতার সভাপতি করা হয়েছে। পাশাপাশি যুব সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কর্মসমিতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়কেও।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের অন্দরে একের পর এক ভাঙন ও মতভেদের আবহে সংগঠনকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই এই রদবদল করা হয়েছে।

সুদীপকে ঘিরে বাড়ছে আক্রমণ

এদিকে দলত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তৃণমূলের একাংশের আক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে। কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যেই সুদীপ এবং তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন।

অন্যদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও সুদীপের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, অতীতেও রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী অবস্থান পরিবর্তন করেছেন সুদীপ। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে দলনেত্রী সুদীপকে সমর্থন করলেও শেষ পর্যন্ত দল কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তেই তিনি ভিন্ন পথে হাঁটলেন।

কল্যাণের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত সাধারণ কর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে ভালো বার্তা দেবে না এবং তাঁরা এই ঘটনাকে সহজে ভুলবেন না।

বিজেপির কটাক্ষ

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েনকে হাতিয়ার করে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপিও। রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, সুদীপ যে দলে থাকুন না কেন, তিনি রাজনৈতিকভাবে বোঝা হয়ে উঠেছেন। কারও জন্য তিনি সম্পদ নন, বরং দায়বদ্ধতা— এমনই মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, কালীঘাটের বৈঠকের ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অন্দরে মতপার্থক্য এবং নেতৃত্বকে ঘিরে প্রশ্ন এখনও পুরোপুরি থামেনি। যদিও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন, তবু আগামী দিনে এই অস্বস্তি কতটা প্রশমিত হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10