Home/India/জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে ফের তৎপর বিরোধীরা, সংসদের দুই কক্ষেই আসছে অপসারণ প্রস্তাব
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে ফের তৎপর বিরোধীরা, সংসদের দুই কক্ষেই আসছে অপসারণ প্রস্তাব

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar-কে পদ থেকে সরানোর দাবিতে ফের সক্রিয় বিরোধী শিবির। সাম্প্রতিক রিপোর্টে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তাঁর সঙ্গে দুই নির্বাচন কমিশনার Sukhbir Singh Sandhu ও Vivek Joshi-র মতপার্থক্যের কথা সামনে আসার পর নতুন করে অপসারণ প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কংগ্রেস সূত্রের দাবি, আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। সংসদের Lok Sabha এবং Rajya Sabha—দুই কক্ষেই পৃথক নোটিস দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর আগেও এমন উদ্যোগ প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 25, 2026
•5 min read•
16
Share:
জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে ফের তৎপর বিরোধীরা, সংসদের দুই কক্ষেই আসছে অপসারণ প্রস্তাব

ফের Gyanesh Kumar-কে সরানোর উদ্যোগ

Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar-কে অপসারণের দাবিতে বিরোধী দলগুলি নতুন করে সংসদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, Congress এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে এবং INDIA bloc-এর একাধিক দলও প্রস্তাবটিকে সমর্থন করার বিষয়ে আলোচনা করছে।

কংগ্রেস সূত্রের দাবি, শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, প্রস্তাবের আইনি ভিত্তিও শক্তিশালী করার জন্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা হচ্ছে। সেই আলোচনার ভিত্তিতে অপসারণ প্রস্তাবের একটি খসড়া তৈরির কাজ চলছে।

বিরোধীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সাংসদদের সমর্থন জোগাড় করে সংসদের দুই কক্ষেই নোটিস দেওয়া হতে পারে। তবে নোটিস জমা দেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত CEC-কে পদ থেকে সরানো—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা সাংবিধানিক ধাপ।

কেন নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে CEC?

নতুন করে এই উদ্যোগের পিছনে অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে Election Commission-এর অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট।

Indian Express-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত প্রায় ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার Sukhbir Singh Sandhu এবং Vivek Joshi একাধিক সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশেষ করে ভোটার তালিকার Special Intensive Revision বা SIR-সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের আপত্তি ছিল।

India Today-ও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের আগস্টের মধ্যে দুই নির্বাচন কমিশনার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে মোট ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে। একই সময়ে কমিশনের তিন সদস্য একাধিক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন।

তবে এই রিপোর্টের অর্থ যে Election Commission-এর সব সিদ্ধান্ত CEC একাই নিয়েছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

নির্বাচন কমিশনের পাল্টা বক্তব্যও রয়েছে

অভিযোগ ও বিরোধীদের দাবির পাশাপাশি Election Commission নিজেও বিষয়টি নিয়ে অবস্থান জানিয়েছে।

কমিশনের বক্তব্য, কোনও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় মতামত, পর্যবেক্ষণ বা আপত্তি থাকা স্বাভাবিক। দুই নির্বাচন কমিশনার কিছু বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে বলে ECI দাবি করেছে।

অর্থাৎ বিরোধী দলগুলি যে ঘটনাকে CEC-এর একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে দেখছে, Election Commission সেটিকে স্বাভাবিক সাংবিধানিক deliberation বা অভ্যন্তরীণ আলোচনার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।

এই দুই বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যই বর্তমানে রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

আগেও সংসদে উঠেছিল Gyanesh Kumar-কে সরানোর প্রস্তাব

Gyanesh Kumar-কে অপসারণের চেষ্টা এই প্রথম নয়। ২০২৬ সালের মার্চে বিরোধী সাংসদরা Lok Sabha ও Rajya Sabha-তে তাঁর অপসারণের জন্য নোটিস দিয়েছিলেন।

Lok Sabha-র নোটিসে ১৩০ জন সাংসদের স্বাক্ষর ছিল। Rajya Sabha-র নোটিসে স্বাক্ষর করেছিলেন ৬৩ জন সাংসদ। সেই নোটিসে CEC-এর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের কথা বলা হয়েছিল।

কিন্তু ৬ এপ্রিল Lok Sabha Speaker এবং Rajya Sabha Chairman—দুজনেই সেই নোটিস গ্রহণ করেননি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, বিষয়টি বিবেচনা করার পর তাঁরা নোটিস admit না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর পর ২৪ এপ্রিল Rajya Sabha-তে বিরোধীদের ৭৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর করা আরও একটি অপসারণ নোটিস জমা পড়েছিল।

ফলে সেপ্টেম্বরের নতুন উদ্যোগটি মূলত আগের প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা হিসেবেই সামনে এসেছে।

CEC-কে সরানোর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী?

Chief Election Commissioner-এর পদ একটি সাংবিধানিক পদ। তাঁকে সরানোর প্রক্রিয়াও সাধারণ কোনও সরকারি আধিকারিকের মতো নয়।

সংবিধানের Article 324(5)-এর সঙ্গে Article 124(4) এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান মিলিয়ে CEC-এর অপসারণের প্রক্রিয়া নির্ধারিত হয়েছে। মূলত Supreme Court-এর বিচারপতিকে অপসারণের মতো কঠোর সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। অপসারণের ভিত্তি হতে পারে proven misbehaviour or incapacity।

প্রাথমিক পর্যায়েই একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। Lok Sabha-তে অপসারণের নোটিস আনতে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। Rajya Sabha-র ক্ষেত্রে প্রয়োজন অন্তত ৫০ জন সাংসদের সমর্থন।

তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাংসদের স্বাক্ষর পেলেই অপসারণ হয়ে যায় না। প্রথমে নোটিস গ্রহণযোগ্য কি না, তা Speaker বা Chairman বিবেচনা করতে পারেন। এরপর নির্দিষ্ট আইনি ও সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

বিরোধীদের হাতে সংখ্যার সমীকরণও বড় প্রশ্ন

এবার নতুন করে নোটিস জমা পড়লে সেটি সংসদের পরবর্তী ধাপে পৌঁছতে পারবে কি না, সেটাই প্রথম প্রশ্ন।

কারণ, অপসারণ প্রক্রিয়াটি শুধু বিরোধী দলগুলির রাজনৈতিক ঐকমত্যের উপর নির্ভর করে না। নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংসদের সমর্থন, নোটিস গ্রহণ, তদন্ত এবং পরবর্তী সংসদীয় ভোট—প্রতিটি ধাপ গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬ সালের মার্চে বিরোধীরা প্রয়োজনীয় প্রাথমিক স্বাক্ষর জোগাড় করতে পেরেছিল। কিন্তু সেই নোটিস দুই কক্ষেই গ্রহণ করা হয়নি।

তাই এবার বিরোধীরা নতুন কী অভিযোগ এবং কী আইনি ভিত্তি সামনে রাখে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

SIR নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র

Gyanesh Kumar-কে ঘিরে বর্তমান বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্র Special Intensive Revision বা SIR। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীরা শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছে।

বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং বিভিন্ন Form 6 বা Form 7 সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তাঁরা এই প্রক্রিয়া বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে Election Commission জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নির্ধারিত প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া এবং কমিশনের সিদ্ধান্তগুলি নিয়ম মেনেই নেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক রিপোর্টে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির কথা প্রকাশ্যে আসায় পুরনো রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে এবার কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশ্নও যুক্ত হয়েছে।

বিরোধী নেতাদের একাধিক দাবি

Gyanesh Kumar-এর অপসারণের দাবি শুধু Congress-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। TMC, AAP, Left এবং আরও কয়েকটি বিরোধী দল তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

TMC নেতা Derek O’Brien প্রকাশ্যে CEC-কে সরানোর দাবি জানিয়েছেন। Abhishek Banerjee-ও তাঁর অপসারণ এবং কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে তদন্তের দাবি করেছেন।

Congress নেতৃত্বও CEC-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের তদন্তের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে AAP নেতা Arvind Kejriwal SIR বাতিল এবং Gyanesh Kumar-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এগুলি রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য ও দাবি; কোনও অভিযোগ আদালত বা সংসদীয় তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য বর্তমানে নেই।

FIR নিয়েও নতুন রাজনৈতিক চাপ

এরই মধ্যে TMC সাংসদ Mahua Moitra Gyanesh Kumar-এর বিরুদ্ধে Delhi-র Parliament Street থানায় অভিযোগ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। তিনি FIR দায়ের করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তাঁর অভিযোগ, দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি উপেক্ষা করে CEC এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই অভিযোগও বর্তমানে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পুলিশের কাছে করা অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। FIR, তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনও অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখা যায় না।

এবার কী হতে পারে?

এখন বিরোধী দলগুলির সামনে প্রথম কাজ হল প্রয়োজনীয় সাংসদদের সমর্থন নিশ্চিত করা এবং নোটিসের আইনি ভাষা চূড়ান্ত করা।

এরপর Lok Sabha Speaker বা Rajya Sabha Chairman-এর কাছে নোটিস জমা পড়তে পারে। তাঁরা নোটিস গ্রহণ করলে পরবর্তী সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

কিন্তু নোটিস গ্রহণ করা এবং শেষ পর্যন্ত CEC-এর অপসারণ—এই দুইয়ের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ রয়েছে। তাই শুধু নতুন নোটিস জমা পড়লেই Gyanesh Kumar-এর পদ চলে যাবে, এমন নয়।

এদিকে Election Commission-এর তরফে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনারের বিভিন্ন পর্যায়ের মতামত ও আপত্তি কমিশনের স্বাভাবিক deliberative process-এর অংশ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে।

নজর এখন সংসদের পরবর্তী পদক্ষেপে

Gyanesh Kumar-কে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিকে SIR নিয়ে বিরোধীদের দীর্ঘদিনের আপত্তি, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে দুই কমিশনারের মতামত ও আপত্তি নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট—সব মিলিয়ে CEC-এর ভূমিকা নিয়ে সংসদে ফের আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিরোধীরা এবার সত্যিই দুই কক্ষে নোটিস দেয় কি না, দিলে তা গ্রহণ করা হয় কি না এবং পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কতদূর এগোয়—এখন সেটাই দেখার।

তবে বর্তমান পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, Gyanesh Kumar-এর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি রাজনৈতিক দাবি ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের স্তরে রয়েছে। অপসারণের মতো সাংবিধানিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অভিযোগের প্রমাণ, নির্ধারিত সংসদীয় প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা—সবকটিই গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10