Home/International/জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরে ট্রাম্পের বিশেষ অভ্যর্থনা! বাড়ল US-China বাণিজ্য-সমঝোতার মেয়াদ
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরে ট্রাম্পের বিশেষ অভ্যর্থনা! বাড়ল US-China বাণিজ্য-সমঝোতার মেয়াদ

দীর্ঘ বাণিজ্য সংঘাতের পর ফের মুখোমুখি Donald Trump ও Xi Jinping। ১১ বছর পর Washington-এ রাষ্ট্রীয় সফরে পৌঁছেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট। Joint Base Andrews-এ তাঁকে নিজে গিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন Trump। লাল গালিচা, সামরিক অভ্যর্থনা এবং আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমানের প্রদর্শনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনের এই সফর। একই সময়ে Washington ও Beijing আরও দুই মাসের জন্য বাণিজ্য-সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে Trump-Xi বৈঠকের আগে অর্থনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমানোর বার্তাও সামনে এসেছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 24, 2026
•5 min read•
13
Share:
জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরে ট্রাম্পের বিশেষ অভ্যর্থনা! বাড়ল US-China বাণিজ্য-সমঝোতার মেয়াদ

বিমানবন্দরে নিজে গিয়ে Xi-কে স্বাগত Trump-এর

Xi Jinping Washington-এ পৌঁছনোর আগেই মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছিল, Joint Base Andrews-এ তাঁকে স্বাগত জানাতে নিজে উপস্থিত থাকবেন Donald Trump। বুধবার সেই পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হয়।

Trump এবং First Lady Melania Trump চিনা প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রী Peng Liyuan-কে স্বাগত জানান। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের এই সাক্ষাৎ কূটনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাগত জানান না। ফলে Trump-এর এই উপস্থিতি সফরটির গুরুত্বের একটি বিশেষ বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে সামরিক প্রদর্শনেরও আয়োজন করা হয়েছিল। White House-এর প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের শেষে B-2 Spirit এবং চারটি F-22 Raptor-এর flyover হওয়ার কথা ছিল। অর্থাৎ শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, মার্কিন সামরিক শক্তির আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনও ছিল এই রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার অংশ।

১১ বছর পর Washington-এ চিনা প্রেসিডেন্ট

Xi Jinping-এর এই সফর তাঁর ১১ বছর পর Washington সফর। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি White House-এ Trump-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন।

দুই নেতার মধ্যে এর আগেও বৈঠক হয়েছে। এবার ফের সরাসরি আলোচনায় বসার আগে দুই দেশের আধিকারিকরা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে একাধিক দফা বৈঠক করেছেন।

Trump-Xi বৈঠকের আগে Washington এবং Beijing-এর মধ্যে বাণিজ্য-সমঝোতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সেই আলোচনারই গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল। মার্কিন Treasury Secretary Scott Bessent জানিয়েছেন, দুই দেশ বর্তমান trade truce আরও দুই মাস বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ল বাণিজ্য-সমঝোতা

US-China বাণিজ্য-সমঝোতার বর্তমান মেয়াদ ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেটি আরও দুই মাস বাড়িয়ে ১০ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত করা হয়েছে।

Bessent-এর বক্তব্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে Washington এবং Beijing আরও বড় একটি অর্থনৈতিক চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারবে। অর্থাৎ আপাতত নতুন করে শুল্ক-সংঘাত বাড়ানোর বদলে আলোচনার জন্য সময় তৈরি করাই দুই পক্ষের লক্ষ্য।

এই সমঝোতা ২০২৫ সালের অক্টোবরের Busan agreement-এর ধারাবাহিকতা। ওই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ পারস্পরিক শুল্ক বৃদ্ধির গতি কমানোর পাশাপাশি একাধিক বাণিজ্যিক পদক্ষেপ স্থগিত করেছিল।

তবে দুই দেশের মধ্যে সব বাণিজ্যিক বিরোধ মিটে গিয়েছে, এমন নয়। বরং নতুন মেয়াদকে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সমঝোতার জন্য আলোচনার সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Trump-Xi বৈঠকে কোন কোন বিষয় উঠবে?

White House বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে থাকবে বাণিজ্য। দুই দেশের মধ্যে শুল্ক, রফতানি এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের মতো বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন রয়েছে।

এর পাশাপাশি rare earth minerals নিয়েও আলোচনা হতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন শিল্পে এই খনিজগুলির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। China বিশ্বে rare earth supply chain-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় বিষয়টি Washington-এর কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

Artificial Intelligence বা AI-ও আলোচনার অন্যতম কেন্দ্র হতে পারে। দুই দেশই AI প্রযুক্তি, চিপ এবং advanced computing-এর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় রয়েছে। AI সংক্রান্ত নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনও সমন্বয় তৈরি করা যায় কি না, সেটিও আলোচনায় আসতে পারে।

Taiwan ও Iran নিয়েও নজর

বাণিজ্যের পাশাপাশি Taiwan প্রশ্নও Trump-Xi বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। Taiwan-কে ঘিরে China ও United States-এর অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই আলাদা।

Washington Taiwan-এর সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখলেও Beijing Taiwan-কে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনায় সংবেদনশীলতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়াও Middle East এবং Iran নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে Iran-সংক্রান্ত পরিস্থিতিতে China-এর ভূমিকা এবং Washington-এর সঙ্গে Beijing-এর অবস্থানের পার্থক্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

White House-এ রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ

Xi Jinping এবং Peng Liyuan-এর সম্মানে White House-এ State Dinner-এর আয়োজন করেছেন Trump ও Melania Trump।

এই নৈশভোজে মার্কিন রাজনীতি ও ব্যবসা জগতের একাধিক পরিচিত মুখ উপস্থিত থাকার কথা। Amazon-এর Jeff Bezos, Tesla-এর Elon Musk, Nvidia-এর Jensen Huang, Apple-এর Tim Cook এবং Google-এর Sundar Pichai-সহ একাধিক শীর্ষ প্রযুক্তি ও ব্যবসায়ী নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ফলে নৈশভোজটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আয়োজন নয়। US-China সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত প্রযুক্তি, AI, semiconductor এবং ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রতিনিধিরাও সেখানে থাকবেন।

বিশেষ করে AI এবং semiconductor technology-কে কেন্দ্র করে Washington ও Beijing-এর প্রতিযোগিতা বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা। সেই প্রেক্ষাপটে Silicon Valley ও মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতি আলাদা তাৎপর্য বহন করছে।

সামরিক অভ্যর্থনা থেকে National Archives

Xi-এর সফরের কর্মসূচি শুধু White House বৈঠকেই সীমাবদ্ধ নয়। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পাশাপাশি সামরিক পরিদর্শন এবং দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের বক্তব্যের আয়োজন রয়েছে।

White House-এর সূচি অনুযায়ী, সফরের শেষ পর্যায়ে Trump ও Melania, Xi এবং Peng Liyuan-এর সঙ্গে National Archives-এ যাবেন। সেখানে মার্কিন-চিন সম্পর্কের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি দেখার কর্মসূচিও রয়েছে।

অর্থাৎ সফরটিকে কেবল বাণিজ্য আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের দিকটিও তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যযুদ্ধ কি সত্যিই শেষ?

Xi-এর Washington সফর এবং দুই মাসের trade truce extension-এর পর US-China সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা কূটনৈতিক স্বস্তির বার্তা পাওয়া গেলেও বাণিজ্যযুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাচ্ছে না।

দুই দেশের মধ্যে এখনও শুল্ক, rare earth, semiconductor, AI এবং প্রযুক্তি রফতানি নিয়ে একাধিক মতপার্থক্য রয়েছে। নতুন সমঝোতা মূলত আলোচনার সুযোগ বাড়িয়েছে।

Washington-এর লক্ষ্য বৃহত্তর অর্থনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছনো, অন্যদিকে Beijing নিজের প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করতে চাইবে। ফলে Xi-Trump বৈঠকের পর কোনও বড় চুক্তি হয় কি না, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলের অন্যতম নজরকাড়া বিষয়।

বিশ্বের নজর Trump-Xi বৈঠকে

বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির রাষ্ট্রপ্রধান যখন সরাসরি বৈঠকে বসছেন, তখন তাঁদের আলোচনার প্রভাব দুই দেশের সীমানার বাইরেও পড়তে পারে।

US-China বাণিজ্য সম্পর্কের পরিবর্তন হলে বিশ্ববাজার, প্রযুক্তি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে rare earth minerals এবং semiconductor supply chain নিয়ে দুই দেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক শিল্পক্ষেত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বৈঠকের ফলাফল কী হবে, তা আগেভাগে বলা সম্ভব নয়। আপাতত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য-সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। পরবর্তী সময়ে Trump ও Xi কী সিদ্ধান্ত নেন, তার উপরই সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায় অনেকটাই নির্ভর করবে।

সব মিলিয়ে, Xi Jinping-এর Washington সফর US-China সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্ত। বিমানবন্দরে Trump-এর ব্যক্তিগত অভ্যর্থনা, সামরিক flyover, White House বৈঠক এবং রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ—সব মিলিয়ে সফরটির আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব যথেষ্ট। তার সঙ্গে ১০ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত trade truce বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দুই দেশের অর্থনৈতিক আলোচনাকে নতুন সময় দিয়েছে। এখন নজর Trump-Xi বৈঠকে—বাণিজ্য, AI, Taiwan, rare earth এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে সেখান থেকে কী বার্তা আসে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10