Home/India/জামুইয়ে দুই নাবালককে আটকে হেনস্তার অভিযোগ, ৩ গ্রেপ্তার! SIT-এর তদন্তে আরও অভিযুক্তের খোঁজ
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

জামুইয়ে দুই নাবালককে আটকে হেনস্তার অভিযোগ, ৩ গ্রেপ্তার! SIT-এর তদন্তে আরও অভিযুক্তের খোঁজ

বিহারের জামুইয়ে কোচিং থেকে ফেরার পথে দুই নাবালক পড়ুয়াকে রাস্তা আটকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT। পুলিশের দাবি, ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনের পরিচয় সামনে এসেছে। একইসঙ্গে নাবালকদের পরিচয় প্রকাশ করে ভিডিও ছড়ানোর বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 22, 2026
•5 min read•
20
Share:
জামুইয়ে দুই নাবালককে আটকে হেনস্তার অভিযোগ, ৩ গ্রেপ্তার! SIT-এর তদন্তে আরও অভিযুক্তের খোঁজ

কোচিং থেকে ফেরার পথেই বাধার মুখে দুই পড়ুয়া

ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জামুইয়ের মাদওয়া পাহাড় সংলগ্ন এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দশম শ্রেণির এক ছাত্র ও এক ছাত্রী কোচিং ক্লাস শেষ করার পর স্কুটারে করে ওই এলাকায় গিয়েছিল। পরে বাড়ি ফেরার সময় তাঁদের পথ আটকে দেয় একদল যুবক।

জামুই পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলটি জামুই-লখিসরাই মূল সড়ক থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ দুই পড়ুয়াকে আটকে প্রথমে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাঁদের স্কুটার থেকে নামিয়ে মারধর এবং মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ ওঠে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন পুরো পরিস্থিতির ভিডিও করেছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। পরে সেই ভিডিওই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল ভিডিও ঘিরেই তদন্তে গতি

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এবং দ্রুত পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। ভিডিওর ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু করে তদন্তকারীরা।

প্রকাশিত ফুটেজের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমগুলি জানিয়েছে, সেখানে দুই পড়ুয়াকে ঘিরে কয়েকজনের হেনস্তার দৃশ্য দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সম্পূর্ণ সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশও ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করছে।

জামুইয়ের পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ দয়াল জানিয়েছেন, ভিডিওতে থাকা তথ্য এবং গাড়ির নম্বরের সূত্র ধরে দুই পড়ুয়ার কাছে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে। এরপর তাঁদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়।

তিন জন গ্রেপ্তার, আরও অভিযুক্তের খোঁজ

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে অন্তত দু’জনের বয়স ১৭ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফলে অভিযুক্তদের বয়স এবং মামলার আইনি কাঠামো নিয়েও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, ভিডিও ও অন্যান্য তদন্তের সূত্র ধরে মোট সাত থেকে আট জনের নাম বা পরিচয় সামনে এসেছে। তাঁদের মধ্যে বাকিদের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

জামুইয়ের SDPO-র নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়েছে। এই দল অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ, গ্রেপ্তার এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে।

POCSO-সহ একাধিক ধারায় মামলা

নাবালকদের জড়িত থাকার কারণে মামলায় Protection of Children from Sexual Offences বা POCSO Act-এর ধারাও যুক্ত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জামুই থানায় FIR দায়ের করে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে POCSO আইনের যৌন নির্যাতন ও যৌন হয়রানি সংক্রান্ত ধারার পাশাপাশি Bharatiya Nyaya Sanhita-র সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। অভিযোগের প্রকৃতি এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী আরও আইনি ধারা প্রয়োগ করা হতে পারে।

তবে কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। তদন্ত ও পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই মামলার আইনি অবস্থান স্পষ্ট হবে।

পুলিশের নজরে এবার টহল ব্যবস্থাও

ঘটনাস্থল জামুই শহর থেকে খুব দূরে নয়। এই পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় পুলিশি টহল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিহার পুলিশের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল কে এস অনুপম জানিয়েছেন, ঘটনার সময় এলাকায় দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের গতিবিধিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

অর্থাৎ তদন্ত শুধু অভিযুক্ত যুবকদের শনাক্তকরণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ঘটনার সময় ওই এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারি ছিল কি না, এবং কোনওভাবে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা সম্ভব ছিল কি না, সেই বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নাবালকদের ভিডিও ছড়ানো নিয়েও কড়া পদক্ষেপ

ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ ভিডিওতে নাবালকদের মুখ বা পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিহার পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৩২টি সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি Facebook, ১২টি Instagram এবং ৭টি X অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ওই ভিডিও সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলির কাছে পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

পুলিশের সতর্কবার্তা, নাবালকের পরিচয় প্রকাশ করে এমন ভিডিও বা ছবি ছড়ানোও আইনি সমস্যার কারণ হতে পারে। POCSO Act এবং Juvenile Justice Act-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

মহিলা কমিশনেরও নজরে ঘটনা

জামুইয়ের এই ঘটনায় বিহার স্টেট উইমেনস কমিশনও স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি নজরে নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কমিশনের তরফে আক্রান্ত কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় মহিলা কমিশনও ঘটনাটি নিয়ে পদক্ষেপ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও সামাজিক স্তরেও ঘটনাটি গুরুত্ব পেয়েছে।

তদন্তকারীদের লক্ষ্য এখন বাকি অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ঘটনার সম্পূর্ণ ক্রম পুনর্গঠন করা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া

জামুইয়ের ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, ‘মোরাল পুলিশিং’-এর নামে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া মেনে নেওয়া যায় না। নাবালক দু’জনের উদ্দেশে তিনি দুঃখপ্রকাশও করেন এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন।

ঘটনাটি নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবও বিহারের আইনশৃঙ্খলা ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, বিহার সরকারের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড়া হবে না এবং তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তে সামনে আসতে পারে আরও নাম

পুলিশের হাতে ইতিমধ্যে সাত থেকে আট জনের বিষয়ে তথ্য এসেছে। ফলে আগামী দিনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলে তদন্তের গতিপ্রকৃতি থেকে বোঝা যাচ্ছে।

SIT ভিডিও ফুটেজ, দুই পড়ুয়ার বয়ান, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পাওয়া তথ্য এবং অভিযুক্তদের মধ্যে যোগাযোগের সূত্র মিলিয়ে দেখছে। ঘটনার সময় কারা উপস্থিত ছিল, কার কী ভূমিকা ছিল এবং পরে ভিডিওটি কীভাবে ছড়াল—এসব প্রশ্নের উত্তরও খোঁজা হচ্ছে।

একইসঙ্গে তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের পূর্বের অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে, জামুইয়ের এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন জন গ্রেপ্তার হলেও তদন্ত শেষ হয়নি। বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, নাবালকদের ভিডিও সরানো এবং পুলিশের টহল ব্যবস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখা—সবকিছুই তদন্তের অংশ। POCSO-সহ একাধিক ধারায় মামলা হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে। ঘটনাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হলেও, তদন্তে প্রকৃত তথ্য ও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত মামলার আইনি অবস্থান নির্ধারণ করবে।

Tags:India
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10