Home/International/ইরান যুদ্ধে খরচের বোঝা, ভোটের পরেই যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত ট্রাম্পের! হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

ইরান যুদ্ধে খরচের বোঝা, ভোটের পরেই যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত ট্রাম্পের! হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান

ছ’মাস ধরে চলা ইরান-আমেরিকা সংঘাত এবার আমেরিকার অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি করছে। যুদ্ধের বিপুল খরচের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ইঙ্গিত—আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর শেষ হতে পারে ইরান যুদ্ধ। যদিও ট্রাম্পের এমন আশাবাদী মন্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টাদের একাংশ। এর মধ্যেই ইরানি হামলায় জর্ডনে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে একাধিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। ফলে যুদ্ধের সামরিক ও আর্থিক—দুই চাপই বাড়ছে ওয়াশিংটনের উপর।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 11, 2026
•5 min read•
22
Share:
ইরান যুদ্ধে খরচের বোঝা, ভোটের পরেই যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত ট্রাম্পের! হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান

ভোটের পরেই যুদ্ধ শেষ? বড় দাবি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে এবার মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁর ধারণা আগামী নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনের পরেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যেতে পারে।

ট্রাম্পের যুক্তি, ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় নেই। তাঁর দাবি, ইরান আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের উপর প্রভাব ফেলার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে যুদ্ধ শেষের নিশ্চিত ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং তাঁর মন্তব্য থেকে ভবিষ্যতে সংঘাত কমানোর সম্ভাবনার একটি রাজনৈতিক ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে। কারণ, একই সময়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তর থেকেই আরও দীর্ঘ যুদ্ধের আশঙ্কার কথা সামনে আসছে।

ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের আশঙ্কা, আরও দু’বছর চলতে পারে যুদ্ধ

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর একটি প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টাদের একাংশ তাঁকে সতর্ক করেছেন।

তাঁদের আশঙ্কা, ইরানের সঙ্গে সংঘাত দ্রুত শেষ নাও হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়জুড়েও যুদ্ধ চলার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই অবস্থান ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গে কার্যত বিপরীত। প্রেসিডেন্ট যেখানে নভেম্বরের নির্বাচনের পর যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন, সেখানে তাঁর প্রশাসনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকি দেখছেন।

ফলে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যেই কতটা মতপার্থক্য রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পালটা হামলা

এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালায় আমেরিকা বলে দাবি করা হয়েছে।

এর পরেই পালটা আঘাত হানে তেহরান। জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর দাবি, এই হামলায় ঘাঁটিতে থাকা বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের মধ্যে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট, যা ‘ওয়ার্থগ’ নামেও পরিচিত। পাশাপাশি প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা এবং সমস্ত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে মার্কিন সামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলার প্রকৃত প্রভাব কতটা, তা নিয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই খরচ ৩.৭ বিলিয়ন ডলার

ইরান সংঘাতে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে আমেরিকার বিপুল অর্থ খরচ হচ্ছে। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই ওয়াশিংটনের খরচ হয়েছিল প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার।

ভারতীয় মুদ্রায় এই অঙ্ক প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। আর সংঘাত যত দীর্ঘ হচ্ছে, সেই ব্যয়ের পরিমাণও বাড়ছে।

যুদ্ধের শুরুতে খরচ সাধারণত বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হল অত্যাধুনিক অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার। ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে মার্কিন বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল নির্ভুল হামলার অস্ত্র ব্যবহার করছে।

ফলে সামরিক অভিযানের প্রত্যক্ষ খরচের পাশাপাশি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অস্ত্রের মজুত পূরণ এবং সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণের খরচও বাড়তে পারে।

প্যাট্রিয়ট সিস্টেমেই বিপুল ব্যয়

আমেরিকার থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বা CSIS-এর হিসাবও যুদ্ধের আর্থিক চাপের দিকটি সামনে এনেছে।

তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরান সংঘাতে প্যাট্রিয়টের মতো বিমান প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থার পিছনেই প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

শুধু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়, যুদ্ধবিমান এবং আকাশপথে হামলা পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। CSIS-এর হিসাব অনুযায়ী, এই খাতে প্রায় ১২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

এই ধরনের সামরিক সরঞ্জামের প্রতিটি ব্যবহারই অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিশেষ করে দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের দাম অনেক বেশি হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে খরচ দ্রুত বাড়তে পারে।

যত দীর্ঘ হচ্ছে যুদ্ধ, ততই বাড়ছে আর্থিক চাপ

যুদ্ধের শুরুতে এককালীন বড় সামরিক ব্যয় থাকলেও দীর্ঘ সংঘাতের ক্ষেত্রে খরচের ধরন বদলে যায়। নিয়মিত বিমান অভিযান, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা, সেনা মোতায়েন এবং অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন—সব ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হয়।

ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন।

এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার খরচও রয়েছে। সেনা, যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভিন্ন ঘাঁটিতে মোতায়েন রাখলে তার জন্য নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ করতে হয়।

ফলে সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, মার্কিন সরকারের উপর আর্থিক চাপ তত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুধু যুদ্ধ নয়, অর্থনীতিতেও প্রভাব

ইরান-আমেরিকা সংঘাতের প্রভাব শুধুমাত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘ যুদ্ধ হলে বিশ্ববাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

ইরান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির অন্যতম। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে অপরিশোধিত তেলের দামেও।

তেলের দাম বেড়ে গেলে আমদানি-নির্ভর অর্থনীতিগুলির উপর চাপ বাড়ে। জ্বালানি খরচ বাড়ার সঙ্গে পরিবহণ, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ পণ্যের দামেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

অর্থাৎ যুদ্ধের সরাসরি সামরিক খরচের পাশাপাশি এর বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ট্রাম্পের সামনে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে

এই পরিস্থিতিতে আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ট্রাম্পের মন্তব্যে স্পষ্ট, যুদ্ধের সময়সীমা এবং নির্বাচনের মধ্যে একটি রাজনৈতিক সম্পর্ক তিনি দেখছেন।

দীর্ঘ যুদ্ধের ফলে যদি মার্কিন নাগরিকদের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ে, তাহলে তা ভোটের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং বিদেশে মার্কিন সেনা মোতায়েন—এসব বিষয় ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।

তাই নির্বাচনের আগে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আনার রাজনৈতিক প্রয়োজনও ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে থাকতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

তবে অন্যদিকে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা, পালটা হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যুদ্ধের গতিপথকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

যুদ্ধ শেষ করার পথ কতটা সহজ?

ট্রাম্পের বক্তব্যে যুদ্ধ শেষের সম্ভাবনার ইঙ্গিত থাকলেও বাস্তবে সংঘাত থামানো কতটা সহজ হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মিত্র ও সহযোগী শক্তির ভূমিকা রয়েছে। ফলে একটি পক্ষ যুদ্ধ বন্ধ করতে চাইলে অন্য পক্ষের প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক পালটা হামলার ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, সংঘাত এখনও সক্রিয় এবং উভয় পক্ষই সামরিক শক্তি প্রয়োগ করছে।

এই পরিস্থিতিতে নভেম্বরের পর যুদ্ধ সত্যিই শেষ হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

নজরে এখন ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ

একদিকে যুদ্ধের বাড়তে থাকা খরচ, অন্যদিকে সামরিক ঘাঁটিতে হামলা এবং যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর—সব মিলিয়ে ইরান সংঘাত নিয়ে নতুন চাপের মুখে পড়েছে আমেরিকা।

ট্রাম্প অবশ্য প্রকাশ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। কিন্তু তাঁর প্রশাসনের অভ্যন্তরে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কাও রয়েছে।

ফলে আগামী কয়েক মাসে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোয় কি না, নাকি সামরিক অভিযান আরও বাড়ে, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, যুদ্ধের আর্থিক মূল্য এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব—দুই বিষয়ই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরও বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10