Home/International/ইমরানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী PTI-র লং মার্চ, রাস্তায় কন্টেনার-বাধা! গ্রেপ্তার নিয়ে চাপানউতোর
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

ইমরানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী PTI-র লং মার্চ, রাস্তায় কন্টেনার-বাধা! গ্রেপ্তার নিয়ে চাপানউতোর

পাকিস্তানে ফের তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত। জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী Imran Khan-এর মুক্তির দাবিতে তাঁর দল Pakistan Tehreek-e-Insaf (PTI)-এর সমর্থকেরা Khyber Pakhtunkhwa-র Lakki Marwat থেকে Islamabad-এর উদ্দেশে দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেছেন। রবিবার শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে ৫ হাজারের বেশি মানুষ যোগ দিয়েছেন বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। অন্যদিকে রাজধানীতে ঢোকা আটকাতে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় কন্টেনার বসিয়েছে প্রশাসন। PTI-র অভিযোগ, দলের কর্মী-সমর্থকদের ধরপাকড় চলছে এবং প্রায় ২,০০০ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে ওই সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Oct 5, 2026
•5 min read•
34
Share:
ইমরানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী PTI-র লং মার্চ, রাস্তায় কন্টেনার-বাধা! গ্রেপ্তার নিয়ে চাপানউতোর

সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ, তারপরই লং মার্চ

Imran Khan-কে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও তীব্র হয়েছে সরকার ও PTI-র মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর। Khan-এর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ, তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং আন্দোলনের আগে আটক হওয়া PTI কর্মীদের মুক্তি—সহ একাধিক দাবি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতায় পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। এরপরই PTI ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ শুরু করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। রবিবার Lakki Marwat-এর Gandi Chowk থেকে Khyber Pakhtunkhwa-র মুখ্যমন্ত্রী Sohail Afridi-এর নেতৃত্বে মিছিল শুরু হয়। PTI জানিয়েছে, ৮ অক্টোবর Khairabad পৌঁছনোর পর পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

প্রথমে এই লং মার্চ ২৭ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল। পরে সরকারের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ তৈরি হওয়ায় কর্মসূচি পিছিয়ে ৪ অক্টোবর করা হয়। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর নির্ধারিত সময়েই ফের আন্দোলনের পথে হাঁটল PTI।

হাজার হাজার মানুষ, ইসলামাবাদই লক্ষ্য

রবিবার Lakki Marwat থেকে যে মিছিল শুরু হয়েছে, তাতে ৫ হাজারের বেশি PTI সমর্থক অংশ নিয়েছেন বলে AP, Al Jazeera এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ট্রাক, বাস ও গাড়ির কনভয়ের সঙ্গে পতাকা হাতে মিছিলে যোগ দিয়েছেন দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা।

PTI-র মূল দাবি Imran Khan-এর মুক্তি। একইসঙ্গে তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও দলের নেতাদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ, চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে চলা ধরপাকড় বন্ধ করার দাবিও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

তবে Islamabad পর্যন্ত পৌঁছনো সহজ হবে না। কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট করেছে, রাজধানীতে বিশাল জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হবে না। সেই মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

রাস্তায় কন্টেনার, রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা

PTI-র মিছিল যাতে Islamabad-এ ঢুকতে না পারে, তার জন্য প্রশাসন আগেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা করেছে। বিভিন্ন জায়গায় কন্টেনার বসিয়ে পথ আটকে দেওয়া হয়েছে।

Islamabad প্রশাসন অতিরিক্ত Pakistan Rangers মোতায়েনের মেয়াদও বাড়ানোর আবেদন করেছে। পাশাপাশি Punjab ও Sindh থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী চাওয়া হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, বিশেষ করে সরকারি ভবন ও Red Zone-এর আশপাশে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রভাব সাধারণ মানুষের উপরও পড়ছে। Islamabad-এর দিকে যাতায়াতকারী বিভিন্ন রুটে যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কন্টেনার ব্যবহারের কারণে পণ্য পরিবহণেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে বলে Reuters জানিয়েছে।

গ্রেপ্তার নিয়ে PTI-র দাবি

PTI-র দাবি, মিছিল আটকাতে বিভিন্ন এলাকায় দলের কর্মী ও সমর্থকদের ধরপাকড় করা হচ্ছে। Sangbad Pratidin-এর প্রতিবেদনে প্রায় ২,০০০ জনকে গ্রেপ্তারের দাবি করা হয়েছে।

তবে এই সংখ্যা নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে Rawalpindi division-এ ১৫০-র বেশি PTI নেতা ও কর্মীকে Maintenance of Public Order আইনে আটক করার খবর পাওয়া গিয়েছিল। অন্যদিকে Karachi-তেও রবিবারের বিক্ষোভে একাধিক কর্মী ও নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে Dawn জানিয়েছে। কিন্তু দেশজুড়ে মোট ২,০০০ জন গ্রেপ্তারের সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

ফলে PTI-র ২,০০০ গ্রেপ্তারের দাবিকে আপাতত দলীয় দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Lakki Marwat-এ সংঘর্ষের অভিযোগ

লং মার্চ শুরু হওয়ার পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার খবর সামনে আসে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, মিছিলের পথে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে PTI সমর্থকদের সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

দুই পক্ষের মধ্যে পাথর ছোড়াছুড়ি এবং পুলিশের পালটা ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে সংঘর্ষে ঠিক কতজন আহত হয়েছেন বা কতজনকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও সীমিত।

সরকারের বক্তব্য, রাজধানীতে বড় জমায়েত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে। অন্যদিকে PTI দাবি করছে, তাদের আন্দোলন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকারের অংশ এবং সরকারের ধরপাকড়ের মাধ্যমে আন্দোলন দমন করা হচ্ছে।

কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ Imran Khan-এর মুক্তির দাবি?

Imran Khan ২০২৩ সাল থেকে জেলে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও সাজা রয়েছে। Khan এবং PTI দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।

বর্তমানে তাঁর সঙ্গে দেখা করার অধিকার, চিকিৎসা এবং জেল প্রশাসনের আচরণ নিয়েও বিতর্ক চলছে। সেপ্টেম্বরে Islamabad High Court নির্দেশ দিয়েছিল, Khan এবং তাঁর স্ত্রী Bushra Bibi-কে solitary confinement-এ রাখা যাবে না এবং জেল বিধি অনুযায়ী পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে PTI-র কাছে তাঁর মুক্তির দাবি শুধু একটি আইনি বিষয় নয়, দলের রাজনৈতিক আন্দোলনেরও অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

PTI বনাম Shehbaz Sharif সরকার

Imran Khan-এর PTI এবং প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif-এর সরকারের মধ্যে সংঘাত নতুন নয়। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর পর Khan-এর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং ২০২৩ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

PTI-র অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে রাখতেই তাঁকে দীর্ঘদিন জেলে রাখা হয়েছে। সরকার অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং Khan-এর বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলিকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তুলে ধরে।

বর্তমান লং মার্চ সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাতেরই নতুন অধ্যায়। বিশেষ করে Khyber Pakhtunkhwa-তে PTI-র সরকার থাকায় প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের সংঘাতও আন্দোলনকে আরও জটিল করে তুলেছে।

রাজধানীতে পৌঁছনো আটকাতে প্রশাসনের প্রস্তুতি

Islamabad-এ PTI সমর্থকদের ঢোকা আটকাতে প্রশাসনের প্রস্তুতি কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছিল। আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক কন্টেনার সংগ্রহ করা হয়েছে এবং Punjab ও Sindh থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

প্রশাসনের আশঙ্কা, PTI-র বিশাল জমায়েত অতীতের মতো সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে দলটির দাবি, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই Islamabad-এর রাস্তা কার্যত নিরাপত্তা বলয়ে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহণেও তার প্রভাব পড়ছে।

সামনে আরও বাড়তে পারে উত্তেজনা

PTI-র পরিকল্পনা অনুযায়ী মিছিল ধাপে ধাপে Islamabad-এর দিকে এগোবে। ৮ অক্টোবর Khairabad পৌঁছনোর পর পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করার কথা রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

যদি মিছিলের আকার আরও বড় হয় এবং Islamabad-এর প্রবেশপথে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।

অন্যদিকে সরকার ও PTI ফের আলোচনায় বসতে পারে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ লং মার্চ শুরুর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত তা সমাধানে পৌঁছয়নি।

রাজনৈতিক সমাধানের পথ এখনও খোলা?

লং মার্চ শুরু হয়ে গেলেও রাজনৈতিক আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। PTI এবং সরকারের মধ্যে আলোচনার মধ্যেই আন্দোলন পিছিয়ে দেওয়ার নজির ছিল।

কিন্তু আলোচনায় Imran Khan-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং Khyber Pakhtunkhwa-র নিরাপত্তা নীতি নিয়ে মতপার্থক্য মেটেনি। ফলে রাস্তায় আন্দোলন এবং আলোচনার টেবিল—দুই পথই এখন পাশাপাশি চলতে পারে।

সব মিলিয়ে, Imran Khan-এর মুক্তির দাবিতে PTI-র Lakki Marwat থেকে Islamabadমুখী লং মার্চ পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ফের উত্তপ্ত করে তুলেছে। ৫ হাজারের বেশি সমর্থক ইতিমধ্যেই পথে নেমেছেন বলে আন্তর্জাতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে। রাজধানীর পথে কন্টেনার, অতিরিক্ত নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন এলাকায় ধরপাকড়ের অভিযোগ পরিস্থিতির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। PTI-র ২,০০০ গ্রেপ্তারের দাবি এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। আগামী কয়েক দিনে মিছিল কতটা বড় হয়, প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে ফের কোনও সমঝোতার রাস্তা খোলে কি না—সেদিকেই নজর থাকবে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10