Home/Kolkata/হুমায়ুনের ‘স্যাটাভাঙা মার’ মন্তব্যে কড়া পদক্ষেপ, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই গ্রেপ্তার সভার দুই আয়োজক
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

হুমায়ুনের ‘স্যাটাভাঙা মার’ মন্তব্যে কড়া পদক্ষেপ, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই গ্রেপ্তার সভার দুই আয়োজক

মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে জনসভায় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা। সেই মন্তব্যের জেরে এবার সরাসরি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভায় দেওয়া কড়া হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হল ওই সভার দুই আয়োজককে। ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে, যেখানে প্রশাসনিক ‘অ্যাকশন’ বনাম রাজনৈতিক মন্তব্যের দায়—এই বিতর্কই এখন কেন্দ্রবিন্দুতে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 30, 2026
5 min read
4
Share:
হুমায়ুনের ‘স্যাটাভাঙা মার’ মন্তব্যে কড়া পদক্ষেপ, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই গ্রেপ্তার সভার দুই আয়োজক

রেজিনগরের কাশীপুরে গত ২৬ জুন আয়োজিত এক জনসভাকে ঘিরে উত্তেজনা এখন ক্রমেই বাড়ছে। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির ওই সভায় দলের একমাত্র বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার পৌঁছেছে গ্রেপ্তারের পর্যায়ে। সোমবার রাতে ওই সভার দুই আয়োজককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, যার পর রাজ্য রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন চাপানউতোর।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন আমিনুল শেখ এবং গোলাম মোস্তাফা। তাঁদের মধ্যে গোলাম মোস্তাফা ওই সভার প্রধান আয়োজক ছিলেন এবং তিনিই রেজিনগর থানায় সভার অনুমতির জন্য আবেদন করেছিলেন। আমিনুল শেখ স্থানীয় বাসিন্দা এবং সভা আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার, ২৬ জুন। সেদিন রেজিনগরের কাশীপুর এলাকায় রাজনৈতিক সভার আয়োজন করা হয়। ওই মঞ্চ থেকেই হুমায়ুন কবীর একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশে ‘স্যাটাভাঙা মার’ প্রসঙ্গ উঠে আসে, যা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধী শিবির থেকে শুরু করে শাসক দলের একাংশও ওই মন্তব্যকে উসকানিমূলক বলে অভিহিত করে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয় সোমবার। সেইদিন বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নেন বলে জানা যায়। তিনি স্পষ্টভাবে প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন এবং বলেন, যাঁরা ওই সভার আয়োজন করেছিলেন তাঁদের আগে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। এই মন্তব্যের পরই প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা বৃদ্ধি পায়।

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনগর থানা এলাকা থেকে দুই আয়োজককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সভার অনুমতির শর্ত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অনুমতি প্রক্রিয়ায় কিছু অনিয়ম এবং সভার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল বলেও দাবি তদন্তকারীদের।

গ্রেপ্তার হওয়া গোলাম মোস্তাফার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, তিনি রাজনৈতিক সভার অনুমতির জন্য থানায় আবেদন করেছিলেন এবং সেই সভাতেই বিতর্কিত বক্তব্য রাখা হয়। অন্যদিকে আমিনুল শেখের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে, যদিও তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানা গেছে।

এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, রাজনৈতিক বক্তব্যের পরপরই দ্রুত গ্রেপ্তার প্রশাসনিক অতিসক্রিয়তার উদাহরণ। তাঁদের মতে, সভার আয়োজকদের বিরুদ্ধে এমন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রশ্নের মুখে ফেলছে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা।

অন্যদিকে শাসক শিবিরের বক্তব্য, কোনও ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য বা হিংসার ইঙ্গিত থাকলে প্রশাসন বসে থাকতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই সরকারের প্রথম দায়িত্ব বলে পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার ভিডিও ও অডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সভার সময় কী ধরনের বক্তব্য রাখা হয়েছিল এবং তা জনমানসে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

এদিকে গ্রেপ্তারের পর ধৃতদের মঙ্গলবার বহরমপুর জেলা আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গেছে। তাঁদের আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই জামিনের আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট। একদিকে বিরোধীরা এই গ্রেপ্তারকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে ব্যাখ্যা করছে, অন্যদিকে শাসক দল বলছে এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন শুধু একটি জনসভাকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবেশকেই প্রভাবিত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, এক জনসভার মন্তব্য থেকে শুরু হওয়া ঘটনা এখন গ্রেপ্তার, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক সংঘাতের জটিল সমীকরণে পৌঁছে গেছে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তা নিয়েই এখন নজর রাজ্যজুড়ে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10