Home/India/গরবা-ডান্ডিয়ায় মুসলিমদের প্রবেশ নয়! আধার পরীক্ষা থেকে তিলক, মহারাষ্ট্রে VHP-এর বিতর্কিত প্রস্তাব
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

গরবা-ডান্ডিয়ায় মুসলিমদের প্রবেশ নয়! আধার পরীক্ষা থেকে তিলক, মহারাষ্ট্রে VHP-এর বিতর্কিত প্রস্তাব

নবরাত্রির গরবা ও ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ করার সিদ্ধান্তের কথা জানাল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মহারাষ্ট্র শাখা। সংগঠনের দাবি, গরবা-ডান্ডিয়া শুধুমাত্র হিন্দু সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠান, তাই সেখানে অ-হিন্দুদের প্রবেশে অনুষ্ঠানের ‘পবিত্রতা’ নষ্ট হতে পারে। প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আধার কার্ড পরীক্ষা এবং কপালে তিলক বাধ্যতামূলক করার মতো ব্যবস্থারও প্রস্তাব দিয়েছে VHP। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 6, 2026
•5 min read•
20
Share:
গরবা-ডান্ডিয়ায় মুসলিমদের প্রবেশ নয়! আধার পরীক্ষা থেকে তিলক, মহারাষ্ট্রে VHP-এর বিতর্কিত প্রস্তাব

গরবা-ডান্ডিয়ায় মুসলিমদের প্রবেশ নিয়ে VHP-এর সিদ্ধান্ত

নবরাত্রি এলেই মহারাষ্ট্র-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গরবা এবং ডান্ডিয়া অনুষ্ঠান ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। নাচ, গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বহু জায়গায় এই আয়োজনের সঙ্গে ধর্মীয় আচারও যুক্ত থাকে। এবার সেই অনুষ্ঠানেই কারা প্রবেশ করতে পারবেন, তা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মহারাষ্ট্র শাখা।

VHP-এর মহারাষ্ট্র শাখার বক্তব্য অনুযায়ী, গরবা-ডান্ডিয়া মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তাই এই অনুষ্ঠানে অ-হিন্দুদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। সংগঠনের মহারাষ্ট্র শাখার যুগ্ম সম্পাদক ও মুখপাত্র শ্রীরাজ নায়ার জানিয়েছেন, গরবা ও ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

VHP-এর যুক্তি, নবরাত্রিকে শুধুমাত্র বিনোদনের অনুষ্ঠান হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর সঙ্গে হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সংস্কৃতির সম্পর্ক রয়েছে। তাই অনুষ্ঠানের ধর্মীয় চরিত্র বজায় রাখার জন্য প্রবেশের ক্ষেত্রে সম্প্রদায়ভিত্তিক বিধিনিষেধ প্রয়োজন বলে মনে করছে সংগঠনটি।

আধার কার্ড দেখে পরিচয় যাচাইয়ের প্রস্তাব

শুধু সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেই থামেনি VHP। কীভাবে অনুষ্ঠানে অ-হিন্দুদের প্রবেশ আটকানো হবে, সেই প্রশ্নেরও একটি পদ্ধতি সামনে এনেছে সংগঠনের মহারাষ্ট্র শাখা।

তাদের প্রস্তাব, গরবা এবং ডান্ডিয়ার অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশপথে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হোক। তাঁরা অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে আসা ব্যক্তিদের আধার কার্ড পরীক্ষা করবেন। সেই পরিচয়পত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিন্দু কি না, তা যাচাই করার কথা বলা হয়েছে।

এই প্রস্তাব সামনে আসার পরই তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আধার কার্ড মূলত পরিচয় ও ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ব্যবহৃত সরকারি পরিচয়পত্র। সেখানে ধর্মীয় পরিচয় নির্ধারণের বিষয়টি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে VHP-এর বক্তব্য, অনুষ্ঠানে কারা প্রবেশ করছেন তা যাচাই না করলে তাদের ঘোষিত বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। তাই প্রবেশপথে পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।

কপালে তিলক থাকাও হবে প্রবেশের শর্ত?

আধার পরীক্ষা ছাড়াও আরও একটি নজরকাড়া প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। VHP-এর তরফে গরবা বা ডান্ডিয়ার অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগে কপালে তিলক লাগানোর কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, যাঁদের কপালে তিলক থাকবে না, তাঁদের অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না—এমন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি দৃশ্যমান ধর্মীয় পরিচয়কে প্রবেশের শর্ত হিসেবে ব্যবহার করার বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

VHP-এর যুক্তি, এই ধরনের ব্যবস্থা থাকলে অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত মানুষের ধর্মীয় পরিচয় সহজে বোঝা যাবে। তবে বিরোধীদের প্রশ্ন, কেবল তিলক থাকা বা না থাকার ভিত্তিতে কারও ধর্মীয় পরিচয় নির্ধারণ করা কতটা নির্ভরযোগ্য? একইসঙ্গে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এভাবে ধর্মীয় পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা নিয়েও আপত্তি উঠেছে।

‘নবরাত্রি শুধু নাচ-গানের অনুষ্ঠান নয়’

VHP-এর মহারাষ্ট্র শাখার বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে নবরাত্রির ধর্মীয় চরিত্র। সংগঠনের দাবি, গরবা-ডান্ডিয়াকে শুধুমাত্র বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান হিসেবে দেখলে নবরাত্রির মূল তাৎপর্য আড়ালে চলে যায়।

শ্রীরাজ নায়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, নবরাত্রি হিন্দু সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তার ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। ফলে অনুষ্ঠানের পরিবেশ এবং ধর্মীয় চরিত্র বজায় রাখতে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম প্রয়োজন বলে মনে করছে VHP।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, মুসলিমদের প্রতি তাদের কোনও বিরোধিতা নেই। তাদের আপত্তি মূলত ধর্মীয় আচার ও সংস্কৃতির সঙ্গে অন্য ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণকে ঘিরে। VHP-এর দাবি, যেহেতু ইসলামে মূর্তিপুজোর সঙ্গে এই ধরনের ধর্মীয় আচার সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাই মুসলিমদের নবরাত্রির অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া উচিত নয়।

তবে এই যুক্তি নিয়েই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের বক্তব্য, ধর্মীয় উৎসবের নামে সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্প্রদায়ভিত্তিক বিভাজন তৈরি করা সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে ক্ষতিকর।

দুর্গাপুজো নিয়েও VHP-এর অবস্থান ঘিরে বিতর্ক

মহারাষ্ট্রের এই ঘোষণা বাংলার দুর্গাপুজোকে ঘিরে VHP-এর সাম্প্রতিক অবস্থানের কথাও সামনে নিয়ে এসেছে।

বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ ধরনের সামাজিক সংস্কৃতির প্রচলন রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পুজোমণ্ডপে যান, উৎসবে অংশ নেন এবং একে সামাজিক মিলনক্ষেত্র হিসেবে দেখেন। এই সংস্কৃতি নিয়ে VHP-এর আপত্তি আগেই প্রকাশ্যে এসেছে।

মহারাষ্ট্রে গরবা-ডান্ডিয়ায় প্রবেশ নিয়ে সংগঠনের নতুন অবস্থান সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। প্রশ্ন উঠছে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের চরিত্র বজায় রাখার যুক্তিতে কি অন্য ধর্মের মানুষকে সম্পূর্ণভাবে দূরে রাখা উচিত?

অন্যদিকে VHP-এর যুক্তি, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নিজস্ব পরিচয় এবং আচার রক্ষা করার অধিকার সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের রয়েছে।

মোহন ভাগবতের মন্তব্য ঘিরেও প্রশ্ন

VHP-এর এই অবস্থান এমন সময় সামনে এল, যখন RSS প্রধান মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য নিয়েও আলোচনা চলছে। আমেরিকায় দেওয়া বক্তব্যে ভাগবত বলেছিলেন, যে হিন্দু মনে করেন ভারতে মুসলিমদের থাকা উচিত নয়, তিনি হিন্দু নন।

এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে VHP-এর মহারাষ্ট্র শাখার নেতাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সংগঠনের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তাঁর বক্তব্য, মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংগঠনের কোনও বিরোধিতা নেই। বরং তাঁদের দাবি, আপত্তি রয়েছে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের চরিত্র এবং পবিত্রতা বজায় রাখার বিষয়টি নিয়ে।

তবে একই সংগঠনের নেতাদের বক্তব্যে মুসলিমদের নির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার কথা উঠে আসায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিরোধীদের তীব্র আপত্তি

VHP-এর ঘোষণাকে ঘিরে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের আপত্তির মূল জায়গা ধর্মীয় বিভাজন। তাদের বক্তব্য, উৎসবকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সামাজিক সম্প্রীতি তৈরি হওয়া উচিত। সেখানে কে কোন ধর্মের, তা যাচাই করে প্রবেশাধিকার নির্ধারণ করা হলে উৎসবের সামাজিক চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আধার কার্ড পরীক্ষা এবং তিলককে প্রবেশের শর্ত করার প্রস্তাব নিয়েও আপত্তি রয়েছে। বিরোধীদের মতে, কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ধর্মীয় পরিচয় যাচাইয়ের এমন পদ্ধতি সমাজে বিভাজনের বার্তা দিতে পারে।

একইসঙ্গে তাঁরা RSS ও বিজেপির বৃহত্তর মতাদর্শের সঙ্গে এই ধরনের বক্তব্যকে যুক্ত করে রাজনৈতিক সমালোচনাও শুরু করেছেন। যদিও VHP একটি পৃথক সংগঠন এবং তাদের বক্তব্যকে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের সরকারি অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ধর্মীয় অনুষ্ঠান বনাম সর্বজনীন উৎসবের বিতর্ক

গরবা-ডান্ডিয়াকে ঘিরে মূল বিতর্কটি আসলে আরও বড় একটি প্রশ্নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে—ধর্মীয় উৎসব কতটা সর্বজনীন এবং তার প্রবেশাধিকার কে নির্ধারণ করবে?

একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজকরা নিজেদের আচার ও নিয়ম নির্ধারণ করতে পারেন। কিন্তু যখন সেই অনুষ্ঠান বড় জনসমাগম এবং বাণিজ্যিক সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়, তখন সেখানে সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

মহারাষ্ট্রে গরবা ও ডান্ডিয়া এখন শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বহু জায়গায় বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও। বিভিন্ন বয়সের মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ফলে VHP-এর ঘোষণার পর আয়োজকরা আদৌ এই প্রস্তাব কতটা বাস্তবায়ন করবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে এই সিদ্ধান্ত?

VHP-এর মহারাষ্ট্র শাখা সিদ্ধান্তের কথা জানালেও রাজ্যের প্রতিটি গরবা বা ডান্ডিয়া আয়োজনে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কোনও অনুষ্ঠান ব্যক্তিগত বা নির্দিষ্ট সংগঠনের উদ্যোগে হলে আয়োজকরা নিজেদের নিয়ম করতে পারেন। কিন্তু বৃহৎ জনসমাগমের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আইনি বিষয়ও সামনে আসতে পারে।

বিশেষ করে আধার কার্ড পরীক্ষা, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রবেশাধিকার এবং তিলককে বাধ্যতামূলক করার মতো ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ফলে VHP-এর ঘোষণার রাজনৈতিক তাৎপর্য যতটা, বাস্তবে কতগুলি অনুষ্ঠান এই নিয়ম মেনে চলবে, সেটিও নজরে রাখার বিষয়।

উৎসবের মরশুমে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক

নবরাত্রি ঘিরে যখন মহারাষ্ট্রে গরবা ও ডান্ডিয়ার প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে, ঠিক সেই সময় VHP-এর এই অবস্থান নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে সংগঠনটি ধর্মীয় সংস্কৃতি রক্ষার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি বলে সমালোচনা করছে।

শেষ পর্যন্ত গরবা-ডান্ডিয়ার মঞ্চে এই নিয়ম কতটা কার্যকর হয়, আয়োজকরা কী অবস্থান নেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা কী হয়—তার উপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।

সব মিলিয়ে, মহারাষ্ট্রে গরবা-ডান্ডিয়ায় মুসলিমদের প্রবেশ নিয়ে VHP-এর ঘোষণায় ধর্মীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক অধিকার এবং সামাজিক সম্প্রীতি—তিনটি বিষয়ই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। আধার পরীক্ষা ও তিলক বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব বিতর্ককে আরও বাড়িয়েছে। সংগঠনের সিদ্ধান্ত বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ হয়, এখন সেদিকেই নজর।

Tags:India
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10