Home/Kolkata/দলের ৬৭৫ কোটি টাকা সুরক্ষিত রাখার আর্জি, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করতে চেয়ে ব্যাঙ্কে চিঠি অরূপ বিশ্বাসের
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

দলের ৬৭৫ কোটি টাকা সুরক্ষিত রাখার আর্জি, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করতে চেয়ে ব্যাঙ্কে চিঠি অরূপ বিশ্বাসের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের দ্বন্দ্ব এবার পৌঁছে গেল দলের তহবিলের প্রশ্নে। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তোলা ও লেনদেন আপাতত বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। নিজেকে দলের ‘কোষাধ্যক্ষ’ দাবি করে তাঁর আশঙ্কা, বর্তমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সুযোগে দলের গচ্ছিত অর্থের অপব্যবহার হতে পারে। এই আবেদনের জেরে রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 18, 2026
5 min read
87
Share:
দলের ৬৭৫ কোটি টাকা সুরক্ষিত রাখার আর্জি, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করতে চেয়ে ব্যাঙ্কে চিঠি অরূপ বিশ্বাসের

তৃণমূলের তহবিল নিয়ে নতুন বিতর্ক, ব্যাঙ্কের দ্বারস্থ অরূপ বিশ্বাস

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের আর্থিক সম্পদ ঘিরে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত ধরনের লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়ে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, দলের অভ্যন্তরে বর্তমানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে সংগঠনের বৈধ প্রতিনিধিত্ব এবং বিভিন্ন সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই দলের তহবিলকে নিরাপদ রাখতে অবিলম্বে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তাঁর মত।

অরূপের দাবি, তিনি দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক বিষয়গুলি দেখভাল করে আসছেন। সেই ক্ষমতাবলেই তিনি ব্যাঙ্ককে অনুরোধ করেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূলের নামে থাকা অ্যাকাউন্টগুলি থেকে কোনও অর্থ উত্তোলন বা আর্থিক লেনদেনের অনুমতি না দিতে।

প্রাক্তন মন্ত্রীর এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। ভোটে বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে একাধিক মতভেদ এবং নেতৃত্বের প্রশ্ন সামনে এসেছে। সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে পুনর্গঠনও শুরু হয়েছে। এই আবহে আর্থিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে পাঠানো চিঠিতে অরূপ উল্লেখ করেছেন, দলের ভিতরে এমন কিছু গোষ্ঠী নিজেদের তৃণমূলের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করছে। ফলে দলের সম্পদ, নথি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উপর কার অধিকার রয়েছে, তা নিয়ে বিভ্রান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তাঁর আশঙ্কা, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এমন কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দলের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারে, যাদের কাছে সেই ক্ষমতা বা অনুমোদন নেই। আর্থিক লেনদেন যদি বিতর্কের জন্ম দেয়, তাহলে তার দায় দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর উপরও বর্তাতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

অরূপ তাঁর চিঠিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, অতীতে সংগঠনের জরুরি প্রয়োজনে অর্থ তোলার সুবিধার জন্য আগাম স্বাক্ষর করা কিছু চেক দলীয় কার্যালয়ে রাখা থাকত। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই চেকগুলির অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কাও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

সেই কারণেই তিনি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন, পরিস্থিতি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত কোনও ধরনের লেনদেনের অনুমোদন না দিতে। তাঁর বক্তব্য, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণরূপে সতর্কতামূলক এবং দলের সম্পদকে সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে তৃণমূলের আর্থিক অবস্থার পরিসংখ্যান। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া নিরীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বর্তমানে প্রায় ৬৭৫ কোটি টাকা জমা রয়েছে। ফলে এত বিপুল অঙ্কের অর্থের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে, তৃণমূলের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক রদবদলও এই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। গত ৫ জুন দলের সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের সময় রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে রাজ্য সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে, ব্যাঙ্কে পাঠানো অরূপের চিঠিতে নিজেকে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে উল্লেখ করার ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— দলের আর্থিক দায়িত্ব এবং অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অধিকার কার হাতে রয়েছে?

চিঠিটি লেখা হয়েছিল গত ১২ জুন। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে ১৬ জুন। কিন্তু বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বৃহস্পতিবার সকালে, যখন মেসি-কাণ্ডে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিতে যান অরূপ বিশ্বাস।

চিঠির বিষয়টি সামনে আসার পর শুভাশিস চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়াও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এই চিঠির বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও তথ্য নেই। পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন, তিনি রাজ্য তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ, আর অরূপ বিশ্বাস ছিলেন সর্বভারতীয় তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ।

তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয়, রাজ্য এবং সর্বভারতীয় সংগঠনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কি পৃথক, তখন শুভাশিসের বক্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। তিনি জানিয়েছেন, অ্যাকাউন্ট একটিই রয়েছে।

এই মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। যদি অ্যাকাউন্ট একটিই হয়ে থাকে, তাহলে তার উপর নিয়ন্ত্রণের অধিকার কার? দলের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোয় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কার হাতে রয়েছে? এবং ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এই আবেদনের পর কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বিষয়টি নিছক আর্থিক নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণেরও প্রতিফলন। কারণ, কোনও রাজনৈতিক দলের তহবিলের উপর নিয়ন্ত্রণ সংগঠনের ক্ষমতার কেন্দ্রকে চিহ্নিত করে।

তৃণমূলের অন্দরে চলমান টানাপোড়েনের মাঝে অরূপ বিশ্বাসের এই পদক্ষেপ সেই দ্বন্দ্বকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এল বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিতর্কের কী ব্যাখ্যা দেয়।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10