প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজের গতি বাড়াতে রাজ্য সরকার প্রশাসনিক কাঠামোয় নতুন পরিবর্তন আনছে। সেই অনুযায়ী শনি-রবির পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু সরকারি ছুটির দিনেও প্রয়োজন অনুযায়ী অফিস খোলা রাখা এবং সীমিত সংখ্যক কর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।
কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সকল কর্মীকে একসঙ্গে ছুটির দিনে অফিসে আসতে হবে না। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী রোস্টার তৈরি করে নির্দিষ্ট সংখ্যক আধিকারিক ও কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এই ব্যবস্থা মূলত সেই সব দফতরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে উন্নয়ন প্রকল্প, প্রশাসনিক অনুমোদন বা জরুরি ফাইল নিষ্পত্তির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ছুটির দিনে যাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁদের কাজের পরিবেশ যাতে স্বাভাবিক থাকে এবং কোনো অসুবিধা না হয়, সেই বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অফিসের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হল প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা কমানো এবং বিভিন্ন ফাইল দীর্ঘদিন আটকে থাকার সমস্যা দূর করা। রাজ্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে দেরি হওয়া নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল, সেই প্রেক্ষিতেই এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের মতে, রোস্টার ভিত্তিক ব্যবস্থা থাকায় কাজের চাপ নির্দিষ্ট কয়েকজনের উপর পড়তে পারে, যদিও অন্যরা বিষয়টিকে প্রশাসনিক প্রয়োজন হিসেবে দেখছেন।
প্রশাসনিক সূত্র আরও জানিয়েছে, প্রতিটি দফতর তাদের নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী রোস্টার তৈরি করবে। জরুরি কাজের ক্ষেত্রে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি কর্মীদের কাজের সময় এবং দায়িত্ব ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নির্ধারণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে জানা গেছে, ডব্লুবিসিএস আধিকারিকদের দুইটি সংগঠনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আগামী ১ জুলাই একটি বৈঠকে বসতে পারেন। সেখানে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কর্মী সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি কর্মীদের দাবি-দাওয়ার প্রসঙ্গও ওই বৈঠকে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ওই দিনই নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে একটি সরকারি কর্মসূচি হতে পারে, যেখানে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র নতুন উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাঠানো হবে। মুখ্যমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও জানা গেছে।
সরকারি মহলের মতে, একদিকে যেমন প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছুটির দিনে অফিস চালুর এই ধরনের উদ্যোগ প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে কর্মীদের কাজের চাপ ও ভারসাম্য নিয়েও নজর রাখা জরুরি।
সব মিলিয়ে, রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কাজের ধরণে পরিবর্তন আসছে, এবং ছুটির দিনেও সীমিতভাবে অফিস খোলা রাখার এই সিদ্ধান্ত সেই পরিবর্তনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



