আচমকাই বিপদের সংকেত
বুধবার Dubai থেকে Tel Aviv-এর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল Flydubai-এর FZ1073। Boeing 737 MAX 8 বিমানটি গন্তব্যের দিকে স্বাভাবিকভাবেই এগোচ্ছিল। কিন্তু মাঝআকাশে আচমকাই জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়।
Flight-tracking তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। এরপর অস্বাভাবিক দ্রুততায় উচ্চতা হারাতে শুরু করে। কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি ১৪ হাজার ফুটেরও বেশি নিচে নেমে যায়।
বিমান থেকে প্রথমে 7700 emergency squawk পাঠানো হয়। এরপর 7500 code পাঠানো হয়, যা সাধারণত hijacking বা unlawful interference-এর পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই ইজরায়েলি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তীব্র সতর্কতা তৈরি হয়।
তবে পরবর্তী তথ্য সামনে আসার পর বোঝা যায়, ঘটনাটি সাধারণ অর্থে বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিল না। সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল বিমানের cockpit-এর ভিতরে।
ককপিটে দুই পাইলটের সংঘর্ষ
প্রাথমিক তদন্ত এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই পাইলটের মধ্যে আচমকা শারীরিক সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে সহ-পাইলট ভারতীয় Captain Smit Machchhar-কে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ।
ঠিক কী কারণে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। Flydubai-ও ঘটনার কারণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি। সংস্থার বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে এবং অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে না পৌঁছনোর অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে এই সংঘর্ষের সময়ই বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। ফলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়।
রক্তাক্ত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুললেন Machchhar
এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি আসে যখন আহত Captain Machchhar ককপিটের ভিতর থেকে দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন।
আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গুরুতরভাবে আহত অবস্থাতেও তিনি cockpit door-এর release সক্রিয় করতে সক্ষম হন। দরজা খুলতেই কয়েকজন যাত্রী এবং ক্রু সদস্য ভিতরে ঢুকে পড়েন। এরপর তাঁরা অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
এই পদক্ষেপটিই পুরো পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কারণ, ককপিটের ভিতরে নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিমানটির নিরাপত্তা আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu পরে Machchhar-এর সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় ক্যাপ্টেনের প্রতিরোধ এবং ককপিটের দরজা খোলার ফলে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলেন।
১৭৪ যাত্রীর জীবন রক্ষা
বিমানে মোট ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। ঘটনার পর বিমানটি Saudi Arabia-এর Tabuk বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। Flydubai জানিয়েছে, বিমানটির সমস্ত যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে ছিলেন এবং তাঁদের হিসাব অনুযায়ী সবাইকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে যাত্রীদের জন্য বিকল্প উড়ানের ব্যবস্থা করা হয়। সেই বিমানে তাঁরা Tel Aviv-এর Ben Gurion Airport-এ পৌঁছন।
অর্থাৎ মাঝআকাশে কয়েক মুহূর্তের ভয়াবহ পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত বড় বিমান দুর্ঘটনায় পরিণত হয়নি। যাত্রী ও ক্রুদের দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং আহত ক্যাপ্টেনের ভূমিকা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
Netanyahu-র প্রশংসা, Modi-ও জানালেন সম্মান
ঘটনার পর ভারতীয় পাইলটকে প্রকাশ্যে প্রশংসা করেন Israeli Prime Minister Benjamin Netanyahu। তিনি Machchhar-কে ‘true hero’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-ও তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন বলে Reuters জানিয়েছে। Modi Machchhar-এর পরিবার এবং চিকিৎসার বিষয়েও খোঁজ নিয়েছেন।
ফলে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতীয় পাইলটের ভূমিকা আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
কে এই Smit Machchhar?
Smit Machchhar-এর দীর্ঘ বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি প্রায় ১৩ বছর ধরে commercial aviation-এর সঙ্গে যুক্ত।
তাঁর LinkedIn profile অনুযায়ী, ২০১১ সালে তিনি SpiceJet-এ যোগ দেন। সেখানে প্রায় ১১ বছর কাজ করার পর ২০২২ সালের জুনে Flydubai-তে Captain হিসেবে যোগ দেন। Boeing 737-800 এবং 737 MAX 8/9 বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। প্রোফাইলে প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টা flight experience-এর উল্লেখ রয়েছে।
SpiceJet-এ তিনি senior commander এবং line training captain হিসেবেও কাজ করেছেন। অর্থাৎ নতুন পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল।
এই দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতাই সংকটের মুহূর্তে তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
১৪ হাজার ফুট নেমে গিয়েছিল বিমান
এই ঘটনার ভয়াবহতা বোঝার জন্য বিমানের দ্রুত উচ্চতা হারানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
Flight-tracking data অনুযায়ী, Boeing 737 MAX বিমানটি cruising altitude থেকে আচমকা নীচে নামতে শুরু করে। প্রায় ১৪,৩০০ ফুট উচ্চতা হারাতে সময় লাগে মাত্র কয়েক দশ সেকেন্ড বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা অত্যন্ত গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তার মধ্যেই cockpit-এ শারীরিক সংঘর্ষ চলছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত বিমানটি Saudi Arabia-এর Tabuk-এর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং নিরাপদে অবতরণ করে।
সন্ত্রাসী হামলা, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য?
ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সহ-পাইলটের উদ্দেশ্য নিয়ে।
Israeli officials ঘটনাটিকে সম্ভাব্য বিমান ধ্বংসের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। Netanyahu-ও বলেছেন, অভিযুক্ত সহ-পাইলট বিমানটি crash করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ঘটনাটিকে সরাসরি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করার মতো তদন্তের ফল এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
Flydubai-ও জানিয়েছে, ঘটনার underlying reasons এবং motives এখনও জানা যায়নি এবং আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলের আগে অনুমান না করার অনুরোধ করেছে।
তাই ‘৯/১১-এর মতো হামলা’ বা নির্দিষ্ট কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগসূত্রের দাবি এখনই নিশ্চিত তথ্য হিসেবে তুলে ধরা ঠিক হবে না।
যাত্রীদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ
শুধু পাইলট নয়, এই ঘটনায় কয়েকজন যাত্রীর দ্রুত সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ককপিটের দরজা খোলার পর তাঁরা ভিতরে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন।
কিছু যাত্রীর পাশাপাশি বিমানে থাকা off-duty aviation professionals-ও পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করেছিলেন বলে আন্তর্জাতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে। তাঁদের সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ায় cockpit-এর নিয়ন্ত্রণ ফেরানো সম্ভব হয়।
এই কারণে Netanyahu শুধু Machchhar নয়, পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাত্রী ও ক্রু সদস্যদেরও প্রশংসা করেছেন।
সৌদিতে নিরাপদ অবতরণ, তারপর ইজরায়েলে যাত্রীরা
Tabuk বিমানবন্দরে অবতরণের পর আহত Machchhar এবং অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। Saudi authorities অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে আটক করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
অন্যদিকে, বিমানের যাত্রীদের জন্য Flydubai একটি rescue flight-এর ব্যবস্থা করে। সেই উড়ানে যাত্রীরা পরে Tel Aviv-এ পৌঁছন।
Machchhar-এর চিকিৎসা Saudi Arabia-তেই শুরু হয়। পরবর্তী রিপোর্টে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। ভারত ও Saudi authorities তাঁর চিকিৎসা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমন্বয় করছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা
এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, Flydubai-এর Dubai-Tel Aviv উড়ানে মাঝআকাশে ভয়াবহ cockpit incident ঘটেছিল। ভারতীয় Captain Smit Machchhar আহত হন, বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারায়, জরুরি সংকেত পাঠানো হয় এবং পরে Saudi Arabia-র Tabuk-এ নিরাপদে অবতরণ করে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, গুরুতরভাবে আহত অবস্থাতেও Machchhar ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন এবং যাত্রী-ক্রুদের ভিতরে ঢোকার সুযোগ তৈরি হয়। এরপর অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এই ঘটনাক্রমই বড় বিমান দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে ঘটনার সঠিক উদ্দেশ্য, সহ-পাইলট কেন আক্রমণ করেছিলেন এবং এটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।
একজন ভারতীয় পাইলটের সংকটের মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং যাত্রী ও ক্রুদের সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া যে ১৭৪ জনের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা শুরু হয়েছে। এখন অপেক্ষা তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের।



