বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাই কোর্টে ফের আইনি ধাক্কার মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ সফরের অনুমতি চেয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হলেও, মামলাটির জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত।
সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলাটি উল্লেখ করেন অভিষেকের আইনজীবী। বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়। তবে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, আদালতের নির্ধারিত তালিকা ও প্রক্রিয়া অনুসারেই মামলার শুনানি হবে। এই মামলাকে আলাদা করে অগ্রাধিকার দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই বলেই আদালতের পর্যবেক্ষণ।
এটি প্রথমবার নয়। এর আগেও গত সপ্তাহে একই ধরনের আবেদন আদালতে জানানো হয়েছিল। সেই সময়ও দ্রুত শুনানির আবেদন নাকচ করে দিয়েছিল হাই কোর্ট। ফলে পরপর দু’বার আদালতের একই অবস্থানের ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এই মামলার প্রেক্ষাপট বহু বছরের পুরনো। ২০১৬ সালে মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় ফেরার পথে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে তাঁর কনভয় একটি সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সেই দুর্ঘটনায় তাঁর চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর থেকেই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা চলছে।
চিকিৎসার অংশ হিসেবে একাধিকবার বিদেশে যেতে হয়েছে তাঁকে। সিঙ্গাপুর এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা হয়েছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর শহরের একটি হাসপাতালে তাঁর চোখের অস্ত্রোপচারও হয়। সেই সময় প্রায় ২৫ দিন সেখানে থাকতে হয়েছিল তাঁকে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এখনও নিয়মিত ফলো-আপ পরীক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি তাঁর আইনজীবীদের। সেই কারণেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর অনুমতি দ্রুত প্রয়োজন বলে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল।
তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও বিচারব্যবস্থার নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করেই মামলার শুনানি হবে। কোনও বিশেষ আবেদনকারীকে আলাদা সুবিধা দিয়ে শুনানির সময়সূচি পরিবর্তন করা হবে না।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই অবস্থান বিচারপ্রক্রিয়ায় সমতা বজায় রাখার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোনও মামলার জরুরি শুনানি মঞ্জুর করতে হলে বিশেষ পরিস্থিতি ও আইনি মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। আদালত মনে করলে তবেই নির্ধারিত তালিকার বাইরে গিয়ে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা হয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে আদালত সেই ধরনের ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি দেখেনি বলেই দ্রুত শুনানির আবেদন গ্রহণ করা হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে এখন মামলাটি স্বাভাবিক বিচারপ্রক্রিয়া অনুযায়ী তালিকাভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকবে।
অন্যদিকে, অভিষেকের পক্ষ থেকে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ভবিষ্যতের শুনানিতেও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হতে পারে। আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশের উপরই নির্ভর করবে তিনি কবে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর অনুমতি পাবেন।
রাজনৈতিক মহলেও এই মামলার দিকে নজর রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আইনি বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিকবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। তার মধ্যেই বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি সংক্রান্ত মামলায় পরপর দু’বার দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ হওয়া নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এখন মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।



