সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার এবং ভুয়ো তথ্যের বিরুদ্ধে এবার সরব হলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ফেসবুকে তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তিগত এবং পেশাগত ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। সোমবার দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর থানায় এই মর্মে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে একটি ফেসবুক পেজ, যার নাম ‘সৌরভ গাঙ্গুলি ফ্যানস’। এই পেজটির অনুসরণকারী বা ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লক্ষ বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও ‘স্পোর্টজউইকি’ নামে আরও একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজের বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানিয়েছেন প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছিল যে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে নাকি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তল্লাশি চালিয়েছে। পোস্টটি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে নানা জল্পনাও তৈরি হয়। যদিও অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দুই পেজের কোনওটিতেই ওই পোস্ট আর দেখা যাচ্ছে না।
পুলিশের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে সৌরভ জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট পেজটি নিয়মিত এমন পোস্ট প্রকাশ করছে, যা তাঁর সম্মান ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে আঘাত করছে। তাঁর দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগপত্রে সৌরভ উল্লেখ করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন এবং ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু দেশে নয়, বিশ্বজুড়েও অসংখ্য মানুষ তাঁকে অনুসরণ করেন। জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে তিনি সমালোচনার গুরুত্ব বোঝেন এবং মতভেদকে স্বাভাবিক বলেই মনে করেন। কিন্তু মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা বা পরিকল্পিতভাবে ভুল বার্তা ছড়ানো কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তাঁর বক্তব্য।
তিনি আরও জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা শুধু মানহানির পর্যায়ে পড়ে না, তা সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। ফলে এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তিনি।
অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজগুলির বিভিন্ন পোস্ট এবং তাদের বিস্তারিত তথ্যও জমা দিয়েছেন সৌরভ। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে বলে সূত্রের খবর।
এটি অবশ্য প্রথমবার নয়, যখন নিজের নামে প্রচারিত ভুয়ো তথ্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এর আগেও তাঁর নাম জড়িয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করিয়ে উপনির্বাচনের একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সেই বার্তা ইউসুফ পাঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নাকি পালন করেছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই বিবৃতি দিয়ে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ওই প্রতিবেদনে তাঁর সম্পর্কে যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনও সত্যতা নেই এবং তাঁর নাম অনর্থকভাবে বিতর্কে টেনে আনা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া যেমন তথ্যপ্রচারকে সহজ করেছে, তেমনই ভুয়ো খবর বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তারও বহুগুণ বাড়িয়েছে। জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের নামে নানা ধরনের ভুয়ো দাবি, মনগড়া তথ্য বা বিকৃত পোস্ট প্রায়শই ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাবমূর্তির উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সেই প্রেক্ষাপটে সৌরভের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। শুধু ব্যক্তিগত সম্মান রক্ষার প্রশ্ন নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় দায়িত্বজ্ঞানহীন তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিতেও এই অভিযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এখন দেখার, পুলিশের তদন্তে এই অভিযোগের কী ফলাফল সামনে আসে এবং অভিযুক্ত সোশ্যাল মিডিয়া পেজগুলির বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হয় কি না।



