Home/Kolkata/‘বহিষ্কৃত’ বিধায়ক কীভাবে বিরোধী দলনেতা? ঋতব্রতকে ঘিরে হাই কোর্টে প্রশ্ন, স্পিকারের সিদ্ধান্তে আইনি চ্যালেঞ্জ
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

‘বহিষ্কৃত’ বিধায়ক কীভাবে বিরোধী দলনেতা? ঋতব্রতকে ঘিরে হাই কোর্টে প্রশ্ন, স্পিকারের সিদ্ধান্তে আইনি চ্যালেঞ্জ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক আরও তীব্র হল। তৃণমূলের দাবি, দল থেকে বহিষ্কৃত এক বিধায়ককে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এই প্রেক্ষিতে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে। শুধু বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের বৈধতাই নয়, স্পিকারের ভূমিকা এবং বিধানসভা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়েও আদালত জানতে চেয়েছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 12, 2026
5 min read
0
Share:
‘বহিষ্কৃত’ বিধায়ক কীভাবে বিরোধী দলনেতা? ঋতব্রতকে ঘিরে হাই কোর্টে প্রশ্ন, স্পিকারের সিদ্ধান্তে আইনি চ্যালেঞ্জ

বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে নতুন আইনি লড়াই

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাই কোর্টে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করেছিল। সেই অবস্থায় অন্য কাউকে ওই পদে বসানোর সিদ্ধান্ত কতটা আইনসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শুনানিতে শোভনদেবের হয়ে সওয়াল করেন সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, দলীয়ভাবে বহিষ্কৃত একজন বিধায়ককে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনও যৌক্তিক ভিত্তি নেই। রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলেই দাবি তাঁর।

আদালতের পর্যবেক্ষণে একাধিক প্রশ্ন

মামলার শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণ রাওও বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যদি কোনও রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সদস্যকে বহিষ্কার করে থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তি কীভাবে সংশ্লিষ্ট দলের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

শুধু তাই নয়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচনের পর বিধানসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে কেন কোনও পৃথক সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশ প্রকাশ করা হয়নি, সেই বিষয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতির মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।

শোভনদেবের পক্ষে কী যুক্তি?

আদালতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, স্পিকারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগ পর্যন্ত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় কার্যত বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিধানসভার বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান, আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং রাজনৈতিক সৌজন্য বিনিময়ের ক্ষেত্রেও তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবেই দেখা গিয়েছে।

তাঁর বক্তব্য, যদি শোভনদেব ওই দায়িত্ব পালন করেই থাকেন, তাহলে আচমকা তাঁকে সরিয়ে অন্য কাউকে স্বীকৃতি দেওয়ার কারণ স্পষ্ট করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যখন দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অন্য কোনও নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে।

স্পিকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক

বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের মতে, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিধানসভার নিজস্ব ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলপন্থী শিবিরের বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করলে তা ভবিষ্যতে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।

এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আদৌ দলীয়ভাবে বহিষ্কৃত কি না, তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান কী এবং বিরোধী শিবিরে তাঁর সমর্থনের ভিত্তি কতটা শক্তিশালী— সেই প্রশ্নগুলিও এখন আলোচনায় উঠে এসেছে।

আদালতের কাছে কী আবেদন করা হয়েছিল?

শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে বিধানসভা শুরু হওয়ার আগে বিরোধী দলনেতার জন্য নতুন আসন সংরক্ষণ বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা কার্যকর না করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছিল। তবে আদালত আপাতত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।

এর পরিবর্তে রাজ্য সরকার ও বিধানসভার পক্ষকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আদালত মনে করেছে, বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ আইনি ব্যাখ্যা শোনা প্রয়োজন।

রাজ্যের অবস্থান

রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, স্পিকারের সিদ্ধান্ত ও তার আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করে একটি সংক্ষিপ্ত হলফনামা জমা দিতে চায় রাজ্য। সেই জন্য কিছু সময় চাওয়া হয়।

আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। ফলে পরবর্তী শুনানির আগে রাজ্যের পক্ষ থেকে বিস্তারিত অবস্থান আদালতের সামনে তুলে ধরা হবে। এরপরই স্পষ্ট হতে পারে, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্ত কতটা আইনসম্মত।

রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ শুধু রাজনৈতিক মর্যাদার বিষয় নয়, প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক গুরুত্বও বহন করে। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বিরোধী শিবিরের আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরা থেকে শুরু করে বিধানসভার নানা কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব— সব ক্ষেত্রেই এই পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ফলে এই পদ নিয়ে আইনি লড়াইয়ের ফল শুধু একজন বিধায়কের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির গতিপথও নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এখন নজর ১৬ জুনের শুনানিতে

আদালত জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৬ জুন। তার আগে রাজ্যের পক্ষ থেকে হলফনামা জমা পড়ার কথা। সেই শুনানিতে স্পিকারের সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা, দলীয় বহিষ্কার সংক্রান্ত প্রশ্ন এবং বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

রাজ্যের রাজনৈতিক মহল এখন সেই শুনানির দিকেই তাকিয়ে। কারণ আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং চূড়ান্ত নির্দেশ এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10