বারুইপুর কাণ্ডে শোকপ্রকাশ, পরিবারের সঙ্গে কথা মমতার
বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের আবহের মধ্যেই রবিবার রাতে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, এই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে থাকবেন।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে দ্রুত বিচার ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই তদন্তে গতি আনতে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে।
দ্রুত তদন্তে নেমেছে পুলিশ
ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই দু'জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে।
প্রশাসনের দাবি, ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ফরেনসিক প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে তদন্ত এগোচ্ছে।
নিখোঁজের পর পুকুর থেকে উদ্ধার দেহ
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ১১ বছরের ওই নাবালিকা। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর রবিবার ভোরে বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়।
পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরেই সকাল থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। বিক্ষোভ, পথ অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজনের মৃত্যুর ঘটনাও সামনে আসে।
কালীঘাটে নিরাপত্তা মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন
রবিবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এরপর একটি ভিডিও বার্তায় এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা।
তাঁর বক্তব্য, তিনি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই প্রেক্ষিতেই আচমকা এত বড় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন নেওয়া হল, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
ভিডিও বার্তায় কী বললেন মমতা
ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাঁর বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের মোতায়েনের কারণ স্পষ্ট নয়। তাঁর কথায়, তিনি একাই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে চেয়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে কেন কার্যত নজরদারির মধ্যে রাখা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে
বারুইপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। একদিকে প্রশাসন দ্রুত তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবি করছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবির প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংবেদনশীল এই ঘটনার তদন্ত যেমন গুরুত্বের সঙ্গে এগোচ্ছে, তেমনি ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অবস্থানও আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হতে পারে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে দ্রুত চার্জশিট পেশ করার প্রস্তুতি চলছে।



