Home/Kolkata/বারুইপুর এনকাউন্টার ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, ‘অপরাধীর জায়গা জেল বা আকাশে’ মন্তব্য শমীকের
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

বারুইপুর এনকাউন্টার ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, ‘অপরাধীর জায়গা জেল বা আকাশে’ মন্তব্য শমীকের

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্তের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এনকাউন্টারকে সমর্থন জানিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, অপরাধীদের কোনওভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও পুলিশের পদক্ষেপের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে মানবাধিকার, আইন এবং বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jul 9, 2026
5 min read
3
Share:
বারুইপুর এনকাউন্টার ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, ‘অপরাধীর জায়গা জেল বা আকাশে’ মন্তব্য শমীকের

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলাকালীন পুলিশের গুলিতে অন্যতম অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতৃত্ব একদিকে পুলিশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে, অন্যদিকে বিরোধী মহলের একাংশ বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ তুলে প্রশ্ন তুলছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা, মানবাধিকার এবং অপরাধ দমনের কৌশল—তিনটি বিষয়ই এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।

বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের আগে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাজে এমন বার্তা পৌঁছানো উচিত যে ভয়াবহ অপরাধের পরিণতি থেকে কেউ রেহাই পাবে না।

শমীকের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে তাঁর একটি মন্তব্য। তিনি বলেন, অপরাধীর স্থান হয় জেলের ভেতরে, নয়তো আকাশে। এই মন্তব্যকে ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপির দাবি, এটি অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রতীক। তবে বিরোধীদের একাংশের মতে, এমন মন্তব্য বিচারব্যবস্থার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।

কামদুনি প্রসঙ্গ টানলেন বিজেপি সভাপতি

শুধু বারুইপুর নয়, নিজের বক্তব্যে বহু আলোচিত কামদুনি গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও তুলে আনেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, অতীতের সরকার বহু ক্ষেত্রে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সেই সময় বহু অপরাধের বিচার দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও উঠেছিল।

শমীক আরও বলেন, অতীতের বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার নথি নতুন করে খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণে কামদুনি মামলার ফাইল পুনরায় খোলার আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানাবেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তাঁর দাবি, পুরনো মামলাগুলির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার হলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা

বারুইপুরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। তিনি বলেন, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না এবং আইন অনুযায়ী প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, পুলিশের দাবি অনুযায়ী অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেই সময় অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পুলিশ গুলি চালায়। তাঁর মতে, তদন্তকারী বাহিনীর উপর হামলা বা পালানোর চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেই পারে।

এনকাউন্টার নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশেও প্রশ্ন তোলেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করতে গিয়ে যেন মূল অপরাধের ভয়াবহতা আড়ালে না চলে যায়। বরং নির্যাতিতার পরিবারের জন্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

‘দৈববিচার’ মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, অভিযুক্তের মৃত্যু এক ধরনের ‘দৈববিচার’। এই মন্তব্যও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বিচারব্যবস্থা চলাকালীন এমন মন্তব্য কতটা যুক্তিযুক্ত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সংবেদনশীল ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিক্রিয়া জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই এই ধরনের মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি করছে।

কী ঘটেছিল বারুইপুরে?

সম্প্রতি বারুইপুরে এক নাবালিকার ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত চলাকালীন অন্যতম অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করে এবং এক পুলিশকর্মীর অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালানো হলে অভিযুক্ত গুরুতর জখম হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। একদিকে পুলিশের পদক্ষেপকে কঠোর আইন প্রয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ তুলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও উঠেছে।

তদন্ত এখনও চলছে

বারুইপুর মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। পুলিশ ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। ফরেনসিক রিপোর্ট, ডিজিটাল প্রমাণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে তদন্ত এগোচ্ছে।

তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাও নিয়ম অনুযায়ী তদন্তের আওতায় থাকবে।

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক তরজা যতই তীব্র হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত আদালতের বিচার এবং তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্টই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। একইসঙ্গে নাবালিকার পরিবারের প্রত্যাশা—প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

Tags:Kolkata
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10