Home/Kolkata/‘অফিসের অন্তত ২৫ জনকে হেনস্তা করা হচ্ছে’, এসটিএফ-সিআইডির বিরুদ্ধে অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

‘অফিসের অন্তত ২৫ জনকে হেনস্তা করা হচ্ছে’, এসটিএফ-সিআইডির বিরুদ্ধে অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

নিজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও দপ্তরের কর্মীদের লক্ষ্য করে তদন্তকারী সংস্থাগুলি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে করা একাধিক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, গত দুই সপ্তাহে তাঁর অফিসের অন্তত ২৫ জনকে নোটিস ছাড়াই জিজ্ঞাসাবাদের নামে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাঁদের উপর মিথ্যা বয়ান দিতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jul 3, 2026
5 min read
7
Share:
‘অফিসের অন্তত ২৫ জনকে হেনস্তা করা হচ্ছে’, এসটিএফ-সিআইডির বিরুদ্ধে অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

রাজ্যের বিশেষ তদন্তকারী সংস্থা (এসটিএফ) এবং সিআইডির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি দীর্ঘ বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গে পেশাগতভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

অভিষেকের অভিযোগ, তদন্তের নামে কোনও লিখিত নোটিস ছাড়াই একের পর এক ব্যক্তিকে ডেকে পাঠানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়ি থেকে সরাসরি নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ায় আইনি নিয়ম এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না।

তৃণমূল সাংসদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে অন্তত ২৫ জন ব্যক্তি এই ধরনের পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর দাবি, এঁরা প্রত্যেকেই কোনও না কোনওভাবে তাঁর ব্যক্তিগত দপ্তর, অফিস বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং তাঁদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মিথ্যা বয়ান রেকর্ড করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তদন্তকারীরা নির্দিষ্ট বক্তব্য আদায় করতে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করছেন।

সমাজমাধ্যমে করা পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর সহযোগীদের ফোনে নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও অযথা হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। এমনকি শিশুদেরও এই পরিস্থিতির বাইরে রাখা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেছেন। যদিও এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা বিচারিক যাচাই এখনও সামনে আসেনি।

নিজের পোস্টে অভিষেক রাজনৈতিক বার্তাও দেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, যেকোনও ধরনের চাপ বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের মুখেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াবেন না। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মাথা নত করবেন না বলেও তাঁর মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন তদন্ত এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম একাধিকবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। বিভিন্ন মামলার তদন্তে তাঁকে একাধিকবার তদন্তকারী সংস্থার দপ্তরে হাজিরা দিতে হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদেরও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

এছাড়াও কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে তাঁর কালীঘাট রোড এবং হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ঠিকানায় নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই সমস্ত ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা।

তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় প্রশাসন। সরকারি মহলের দাবি, তদন্ত সম্পূর্ণ আইন মেনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের বক্তব্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে হেনস্তা করার অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।

এই মুহূর্তে তদন্তকারী সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আলাদা করে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান সামনে এলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10