মেদিনীপুর আদালতের এই নির্দেশের ফলে সুমিত রায়কে গ্রেফতারের জন্য আরও সক্রিয় হতে পারবে তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, শালবনি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্ত চলাকালীনই সুমিতের নাম উঠে আসে। এরপর থেকেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুঁজতে শুরু করে পুলিশ। তবে বারবার তল্লাশি চালিয়েও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তদন্তকারীদের দাবি, জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়া মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। সেই সূত্রেই সুমিত রায়ের নাম তদন্তের আওতায় আসে। এরপরই তাঁকে খুঁজতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়।
গত শনিবার ভোরে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় কলকাতার কালীঘাট এলাকায়। ভোরবেলা শালবনি থানার একটি দল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে। তদন্তকারীদের দাবি, সুমিতের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ টাওয়ার লোকেশন ওই বাড়ির আশপাশেই পাওয়া গিয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই সেখানে তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ভিতর থেকে কোনও সাড়া না মেলায় আইনানুগ পদ্ধতিতে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করা হয়। এরপর বাড়ির বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানো হলেও সুমিতের কোনও খোঁজ মেলেনি। তদন্তকারীরা প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি অভিযান চালান। তবে অভিযানের শেষে তাঁরা খালি হাতেই ফিরে যান।
একই দিনে তদন্তের স্বার্থে হুগলির শ্রীরামপুরে সুমিত রায়ের শ্বশুরবাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। সেখানেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরপর একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও যখন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি, তখন আদালতের দ্বারস্থ হয় পুলিশ। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য ছিল, তদন্তের স্বার্থে সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কিন্তু তিনি অধরাই থেকে গিয়েছেন। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়।
সোমবার মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত পুলিশের আবেদন গ্রহণ করে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের এই নির্দেশের পর তাঁকে খুঁজে বের করার তৎপরতা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
অন্যদিকে, জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার পুলিশি হেফাজতের মেয়াদও সোমবার শেষ হচ্ছে। তাঁকে ফের আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, সুজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মামলার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং সেই সূত্রেই সুমিতের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শনিবার ভোররাতে পুলিশ যখন কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছয়, তখন ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়।
তল্লাশি অভিযানের পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, পুলিশ বাড়ির তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে প্রতিটি অংশ তল্লাশি চালিয়েছে এবং গোটা ঘটনার নথিভুক্ত রেকর্ডও রয়েছে। তবে সুমিত রায়কে সেখানে পাওয়া যায়নি বলেই জানিয়েছিলেন তিনি।
এখন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং সুমিত রায়ের অবস্থান সম্পর্কে তদন্তকারীরা নতুন কোনও সূত্র পান কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।



