Home/International/আফগানিস্তানে আচমকা গ্রেপ্তার কেরলের মহিলা ভ্লগার! বামিয়ান থেকে সাহায্যের আবেদন অরুণিমার
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

আফগানিস্তানে আচমকা গ্রেপ্তার কেরলের মহিলা ভ্লগার! বামিয়ান থেকে সাহায্যের আবেদন অরুণিমার

আফগানিস্তান ভ্রমণে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন কেরলের মহিলা ভ্লগার অরুণিমা। সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ও পোস্ট প্রকাশ করে তাঁর দাবি, বামিয়ান শহরে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ‘ব্যাকপ্যাকার অরুণিমা’ নামে পরিচিত ওই তরুণী ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার জন্য সাহায্যের আবেদন করেছেন। গ্রেপ্তার সংক্রান্ত একটি নথিও তিনি সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে ঠিক কী অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অরুণিমার দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 15, 2026
•5 min read•
15
Share:
আফগানিস্তানে আচমকা গ্রেপ্তার কেরলের মহিলা ভ্লগার! বামিয়ান থেকে সাহায্যের আবেদন অরুণিমার

আফগানিস্তানে গিয়ে বিপদে কেরলের অরুণিমা

ভ্রমণের জন্য আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন কেরলের তরুণী অরুণিমা। সোশাল মিডিয়ায় তিনি ‘ব্যাকপ্যাকার অরুণিমা’ নামে পরিচিত। বিভিন্ন দেশে ঘুরে সেখানকার মানুষ, সংস্কৃতি ও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করেন তিনি।

গত কয়েকদিন ধরে আফগানিস্তান থেকেই একাধিক ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছিলেন অরুণিমা। তাঁর পোস্টগুলিতে দেশটির বিভিন্ন এলাকার দৃশ্যের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের ছবিও দেখা যায়।

কিন্তু সোমবার আচমকাই তাঁর সোশাল মিডিয়া পোস্টের বিষয়বস্তু বদলে যায়। একটি ভিডিও বার্তায় অরুণিমা দাবি করেন, আফগানিস্তানে এসে তিনি বিপদের মধ্যে পড়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বামিয়ান শহরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনার পর ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সাহায্য চেয়েছেন তিনি। বিদেশের মাটিতে এমন পরিস্থিতিতে পড়ার কথা জানিয়ে সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেছেন ওই তরুণী।

বামিয়ান থেকেই গ্রেপ্তারের দাবি

অরুণিমার দাবি, আফগানিস্তানের বামিয়ান শহরে তাঁকে স্থানীয় একটি গোষ্ঠী বা কর্তৃপক্ষ আটক করেছে। সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি নিজের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান এবং দ্রুত সাহায্যের আবেদন করেন।

তাঁর পেজে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত একটি নথিও প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে স্থানীয় প্রশাসনের কোনও নির্দেশ বা আইনি প্রক্রিয়ার উল্লেখ রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এই নথির সত্যতা বা তার আইনি ব্যাখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে, অরুণিমাকে ঠিক কোন অভিযোগে আটক করা হয়েছে, সেটিও এখনও পরিষ্কার নয়।

তাঁর পোস্ট সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশে থাকা কোনও ভারতীয় নাগরিকের গ্রেপ্তারির খবর সামনে এলে তাঁর নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

‘মুজাহিদিন’ বললেও আসলে কারা গ্রেপ্তার করেছে?

অরুণিমার সোশাল মিডিয়া বক্তব্যে তাঁকে ‘মুজাহিদিন’-এর হাতে গ্রেপ্তার করার দাবি করা হয়েছে। কিন্তু এই শব্দটি দিয়ে তিনি ঠিক কোন গোষ্ঠী বা ব্যক্তিদের বোঝাতে চেয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

আফগানিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা কাঠামো এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর কার্যকলাপ নিয়ে নানা ধরনের তথ্য সামনে আসে। ফলে সোশাল মিডিয়ায় ব্যবহৃত কোনও নির্দিষ্ট শব্দের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারকারী পক্ষের পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন।

এই কারণেই অরুণিমার দাবিকে আপাতত তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কোনও সরকারি সংস্থা বা স্বাধীন সূত্র এখনও প্রকাশ্যে জানায়নি যে তাঁকে কারা এবং কোন আইনি ধারায় আটক করেছে।

আফগানিস্তান থেকে নিয়মিত ভিডিও পোস্ট করছিলেন অরুণিমা

গ্রেপ্তারের দাবি সামনে আসার আগে অরুণিমা আফগানিস্তান সফর নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করছিলেন। তাঁর ভিডিওগুলিতে দেশের বিভিন্ন জায়গার সাধারণ জীবনযাত্রা, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মহিলাদের পরিস্থিতি উঠে এসেছে।

বিশেষ করে তালিবান শাসনের অধীনে আফগান মহিলাদের জীবনযাত্রা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ শেয়ার করেছিলেন তিনি। সেখানে মহিলাদের উপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সামাজিক পরিবেশ নিয়েও কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে।

স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর ছবিও তাঁর সোশাল মিডিয়া পেজে প্রকাশিত হয়েছিল। অর্থাৎ গ্রেপ্তারের খবর সামনে আসার আগে পর্যন্ত তিনি আফগানিস্তানে নিজের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়মিতভাবে অনুসরণকারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিলেন।

সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই আচমকা গ্রেপ্তারের দাবি সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল এবং উদ্বেগ দুটোই বেড়েছে।

কেন আটক করা হল, এখনও অজানা

এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল—অরুণিমাকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে?

তাঁর নিজের পোস্টে বিপদের কথা বলা হলেও গ্রেপ্তারের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি কোথায় ছিলেন, ঠিক কখন তাঁকে আটক করা হয়, কতক্ষণ ধরে তিনি হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও এখনও স্পষ্ট নয়।

আফগানিস্তানের স্থানীয় প্রশাসনের তরফে এই ঘটনা নিয়ে কোনও বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ্যে এসেছে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। একইভাবে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক বা কাবুলে ভারতীয় কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়ার তথ্যও সামনে আসেনি।

ফলে এই মুহূর্তে ঘটনাটির একমাত্র প্রধান সূত্র অরুণিমার নিজের সোশাল মিডিয়া পোস্ট। সেই কারণে তদন্ত বা সরকারি বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন।

তালিবান শাসনে মহিলাদের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছিলেন

অরুণিমার আফগানিস্তান সফরের আরেকটি দিকও বিশেষভাবে নজরে এসেছে। ভ্রমণের সময় তিনি সেখানে মহিলাদের জীবনযাত্রা এবং তালিবান শাসনে তাঁদের উপর থাকা বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়ে কথা বলেছেন।

আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই মহিলাদের শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র এবং জনজীবনে অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। সেই পরিস্থিতি নিয়ে অরুণিমা নিজের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরছিলেন।

তাঁর পোস্টে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথোপকথন এবং বিভিন্ন এলাকার ছবি থাকলেও তিনি যে পর্যবেক্ষণগুলি তুলে ধরেছেন, সেগুলি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বক্তব্য হিসেবেই দেখা উচিত।

এই প্রেক্ষাপটেই তাঁর পরবর্তী গ্রেপ্তারের দাবি সামনে আসায় অনলাইনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে। তবে তাঁর আগের কোনও বক্তব্যের সঙ্গে গ্রেপ্তারের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তার কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।

ভারতীয় দূতাবাসের সাহায্য চেয়েছেন

বিদেশে কোনও ভারতীয় নাগরিক সমস্যায় পড়লে কূটনৈতিক সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অরুণিমার ক্ষেত্রেও সেই কারণেই ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের আবেদন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

সোশাল মিডিয়া বার্তায় তিনি সাহায্য চেয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। তবে ভারতীয় কূটনৈতিক কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছে কি না বা তাঁর নিরাপত্তা সম্পর্কে কোনও তথ্য পেয়েছে কি না, তা এখনও প্রকাশ্যে জানা যায়নি।

যদি অরুণিমার গ্রেপ্তারের দাবি সত্যি হয়, তাহলে তাঁর অবস্থান, শারীরিক নিরাপত্তা এবং আইনি পরিস্থিতি সম্পর্কে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। একইসঙ্গে তাঁকে কেন আটক করা হয়েছে, সে বিষয়েও কূটনৈতিকভাবে বিস্তারিত জানার প্রয়োজন হতে পারে।

সোশাল মিডিয়ার পোস্ট ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

অরুণিমার পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর অনুসরণকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিদেশের একটি স্পর্শকাতর অঞ্চলে ভ্রমণের সময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার দাবি ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত কোনও ভিডিও বা নথিকে সরকারি নিশ্চিতকরণ ছাড়া চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে, নথিটি আসল কি না এবং বর্তমানে অরুণিমা ঠিক কোথায় রয়েছেন—এসব প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন।

তাই ঘটনাটির পরবর্তী অগ্রগতি অনেকটাই নির্ভর করছে সরকারি বক্তব্য এবং অরুণিমার সঙ্গে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের যোগাযোগের উপর।

এখন নজর সরকারি প্রতিক্রিয়ার দিকে

এই ঘটনায় আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক এবং আফগানিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া। অরুণিমার দাবির সত্যতা নিশ্চিত হলে তাঁর মুক্তি, নিরাপত্তা এবং দেশে ফেরার বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা প্রয়োজন হতে পারে।

অন্যদিকে, যদি তাঁকে কোনও নির্দিষ্ট আইনি অভিযোগে আটক করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই অভিযোগের প্রকৃতি এবং আফগান আইনে তার অবস্থানও সামনে আসতে পারে।

এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, অরুণিমার গ্রেপ্তারের পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে। তাঁর সোশাল মিডিয়া পোস্টে যে পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে, তার স্বাধীন যাচাইও এখনও হয়নি।

সব মিলিয়ে, আফগানিস্তান সফরে গিয়ে কেরলের মহিলা ভ্লগার অরুণিমার গ্রেপ্তারের দাবি ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। বামিয়ান থেকে সাহায্যের আবেদন, গ্রেপ্তার সংক্রান্ত নথি প্রকাশ এবং ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এখন সরকারি প্রতিক্রিয়া এবং অরুণিমার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষা।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10