Home/India/আমেরিকায় চাকরির পথে বাধা, ট্রাম্প প্রশাসনের নিশানায় ৮ আইটি সংস্থা! বিপাকে ভারতীয় কর্মীরা
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

আমেরিকায় চাকরির পথে বাধা, ট্রাম্প প্রশাসনের নিশানায় ৮ আইটি সংস্থা! বিপাকে ভারতীয় কর্মীরা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির স্বপ্ন দেখেন বহু ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মী। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এবার বড়সড় বাধার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। H-1B ভিসা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে আটটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করেছে Donald Trump-এর প্রশাসন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে Microsoft, Tata, Wipro, Infosys, Adobe, HCL, Capgemini এবং Cognizant। এই সংস্থাগুলির PERM আবেদন প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞার খবর ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে বিদেশি কর্মীদের মধ্যে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Oct 9, 2026
•5 min read•
17
Share:
আমেরিকায় চাকরির পথে বাধা, ট্রাম্প প্রশাসনের নিশানায় ৮ আইটি সংস্থা! বিপাকে ভারতীয় কর্মীরা

আমেরিকার তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কাজ করা বহু ভারতীয় পেশাদারের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই আকর্ষণের কেন্দ্র Microsoft, Infosys, Wipro-র মতো সংস্থা। উন্নত কর্মপরিবেশ, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং তুলনামূলক বেশি বেতনের আশায় প্রতি বছর বহু ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ খোঁজেন। কিন্তু H-1B ভিসা এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের নিয়মকানুন ঘিরে Donald Trump প্রশাসনের কঠোর অবস্থান সেই সুযোগকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। সম্প্রতি আটটি আইটি সংস্থার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের পদক্ষেপের খবর সামনে আসতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আটটি সংস্থার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। অভিযোগ, বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভিসা ও শ্রম শংসাপত্রের নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়নি। তালিকায় রয়েছে Microsoft, Tata, Wipro, Infosys, Adobe, HCL, Capgemini এবং Cognizant। এই সংস্থাগুলির মাধ্যমে বহু ভারতীয় কর্মী আমেরিকায় কাজের সুযোগ পান। ফলে পদক্ষেপের খবর সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে ভারতীয়দের জন্য মার্কিন চাকরির বাজার কতটা কঠিন হয়ে উঠবে।

কেন শাস্তির মুখে আইটি সংস্থাগুলি?

প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগের নিয়মে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। বিশেষ করে এমন কিছু চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগকারী সংস্থাকে দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য উপযুক্ত মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ বা কাজের শর্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অভিযোগ, কয়েকটি সংস্থা এই নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতা দেখায়নি। মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, স্থানীয় কর্মীদের স্বার্থ বিবেচনা না করেই বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে। এমনকী, নির্দিষ্ট সময়ের পরে বিদেশি কর্মীদের দেশে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে আমেরিকায় থেকে যাওয়ার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ এবং প্রমাণিত অপরাধ এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কী ধরনের নির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে, তদন্তের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ কী এবং প্রত্যেক সংস্থার ক্ষেত্রে একই ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে কি না, তা স্পষ্টভাবে জানা প্রয়োজন। ফলে এই পদক্ষেপকে ঘিরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

PERM কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে PERM বা Permanent Labor Certification Program। আমেরিকায় কোনও বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণভাবে, কোনও নিয়োগকারী সংস্থা বিদেশি কর্মীর জন্য নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইলে প্রথমে শ্রম দফতরের কাছে প্রমাণ করতে পারে যে সংশ্লিষ্ট পদে উপযুক্ত মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কাজের পরিবেশের ক্ষতি হবে না।

এই প্রক্রিয়া সফল হলে নির্দিষ্ট ধরনের কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনের পরবর্তী ধাপে এগোনোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে PERM-কে সরাসরি গ্রিন কার্ড বলা ঠিক নয়। এটি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপমাত্র; এর পরে আরও একাধিক শর্ত ও প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আটটি সংস্থার PERM আবেদন করার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে ওই সংস্থাগুলির পক্ষে নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে PERM-এর উপর নিষেধাজ্ঞা এবং H-1B ভিসা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। দু’টির উদ্দেশ্য ও আইনি প্রক্রিয়া আলাদা।

H-1B ভিসা নিয়ে কী প্রভাব পড়তে পারে?

H-1B হল আমেরিকায় নির্দিষ্ট বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের জন্য ব্যবহৃত একটি অস্থায়ী কর্মভিসা। প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং, গবেষণা এবং অন্যান্য দক্ষতাভিত্তিক পেশায় বহু ভারতীয় এই ভিসার মাধ্যমে কাজ করেন। মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির পাশাপাশি ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিও এই ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে।

তবে PERM প্রক্রিয়ার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে তা থেকে সরাসরি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি আর কোনও বিদেশি কর্মীকে H-1B ভিসায় নিয়োগ করতে পারবে না। H-1B এবং PERM পৃথক ব্যবস্থা। H-1B মূলত অস্থায়ী কর্মসংস্থানের অনুমতি দেয়, অন্যদিকে PERM নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।

তবু এই পদক্ষেপের পর সংস্থাগুলির ভবিষ্যৎ নিয়োগনীতি, কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবন এবং আমেরিকায় স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। যাঁরা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিতে কর্মরত, তাঁদের ক্ষেত্রে ঠিক কী প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে নিষেধাজ্ঞার পরিধি, ব্যক্তিগত ভিসার অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার উপর।

Cognizant-কে ঘিরে আগেও অভিযোগ

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক মাস আগেই Cognizant-কে ঘিরে ভিসা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে তদন্তকারীদের নজরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক পরিচিত সংস্থার নাম এলেও Cognizant-কে সেই সময় চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে প্রায় দু’মাস ধরে তদন্তের পর সংস্থাটির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা, এমনটাই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর Cognizant-এর PERM আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে দাবি।

এবার সেই তালিকায় আরও সাতটি সংস্থার নাম যুক্ত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। Microsoft, Tata, Wipro, Infosys, Adobe, HCL এবং Capgemini-র নাম প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, এই সংস্থাগুলির সঙ্গে ভারতীয় প্রযুক্তি শিল্পের কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ যোগ রয়েছে।

তবে প্রতিটি সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি, তদন্তের ফলাফল এবং প্রশাসনিক নির্দেশের সুনির্দিষ্ট শর্ত আলাদা করে যাচাই করা জরুরি। একটি সংস্থার বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের ভিত্তিতে অন্য সংস্থার বিরুদ্ধে একই ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না।

ভারতীয় চাকরিপ্রার্থীদের জন্য কী বার্তা?

আমেরিকায় চাকরি করতে ইচ্ছুক ভারতীয়দের জন্য এই খবর নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। বিশেষ করে যাঁরা নির্দিষ্ট আইটি সংস্থার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়োগের শর্ত এবং ভিসার ধরন সম্পর্কে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থার স্পনসরশিপ, ভিসার বৈধতা, কাজের অনুমতি এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের সম্ভাবনা—প্রতিটি বিষয় আলাদা করে বুঝে নেওয়া জরুরি। শুধু কোনও সংস্থায় চাকরি পাওয়াই আমেরিকায় দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবন বা গ্রিন কার্ডের নিশ্চয়তা দেয় না।

যাঁরা ইতিমধ্যে আমেরিকায় কর্মরত, তাঁদেরও আতঙ্কিত না হয়ে নিজেদের ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা উচিত। সংশ্লিষ্ট সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগ এবং প্রয়োজনে অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

সামনে কী হতে পারে?

Donald Trump প্রশাসনের এই পদক্ষেপের প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে নিষেধাজ্ঞার আইনি পরিধি, তার মেয়াদ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি কোনও আপিল বা পর্যালোচনার আবেদন করে কি না, তার উপর। প্রশাসনিক নির্দেশের বিস্তারিত প্রকাশ্যে এলে বোঝা যাবে, কোন কোন আবেদন সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে জমা দেওয়া আবেদনগুলির ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকার বাজারে ব্যবসা পরিচালনা এবং সেখানে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়োগনীতি ও অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভারতীয় কর্মীদের জন্য বিকল্প দেশ, দূরবর্তী কাজের সুযোগ এবং দেশীয় প্রযুক্তি শিল্পে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, আটটি সংস্থার PERM আবেদন ঘিরে বিধিনিষেধের খবর মার্কিন চাকরির বাজারে ভারতীয়দের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তবে এই পদক্ষেপের অর্থ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিতে ভারতীয়দের সব ধরনের চাকরির সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। H-1B ভিসা, PERM এবং গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া পৃথক হওয়ায়, সরকারি নির্দেশের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সামনে আসার পরেই প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10