Home/International/আমেরিকায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের স্টিল প্ল্যান্ট গড়বে Essar, ট্রাম্পের ‘ট্যারিফ’ নীতির বড় ঘোষণা
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

আমেরিকায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের স্টিল প্ল্যান্ট গড়বে Essar, ট্রাম্পের ‘ট্যারিফ’ নীতির বড় ঘোষণা

ভারতের Essar Group-এর মালিকানাধীন Mesabi Metallics আমেরিকার Iowa-তে তৈরি করতে চলেছে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল স্টিল প্ল্যান্ট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সোমবার White House-এ এই প্রকল্পের ঘোষণা করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে বছরে ৭.৫ মিলিয়ন টন স্টিল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পরবর্তীতে প্রায় ১০ মিলিয়ন টনে পৌঁছতে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য। প্রকল্পটি Trump প্রশাসনের ‘America First’ শিল্পনীতির অন্যতম বড় বিনিয়োগ হিসেবে সামনে এসেছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 29, 2026
•5 min read•
15
Share:
আমেরিকায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের স্টিল প্ল্যান্ট গড়বে Essar, ট্রাম্পের ‘ট্যারিফ’ নীতির বড় ঘোষণা

Iowa-তে তৈরি হবে আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ স্টিল প্ল্যান্ট

সোমবার White House-এ Mesabi Metallics-এর কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন স্টিল প্রকল্পের ঘোষণা করেন Donald Trump। Iowa-র পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে এই প্ল্যান্ট তৈরি করা হবে।

Mesabi Metallics একটি Minnesota-ভিত্তিক সংস্থা হলেও তার মালিকানা রয়েছে ভারতের Essar Group-এর হাতে। ফলে এই প্রকল্পকে ভারতীয় মালিকানাধীন সংস্থার আমেরিকায় বড় শিল্প বিনিয়োগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

White House-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ চালু হলে বছরে প্রায় ১০ মিলিয়ন টন পর্যন্ত স্টিল উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে। প্রথম পর্যায়ে উৎপাদন ক্ষমতা থাকবে প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন টন। উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাব্য সময় ২০৩০ সাল।

Minnesota-র খনি থেকে Iowa-র প্ল্যান্টে যাবে লৌহ আকরিক

প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল, এটি শুধুমাত্র একটি স্টিল কারখানা নয়। Minnesota-তে Mesabi Metallics-এর নতুন লৌহ আকরিক খনি থেকে কাঁচামাল এনে Iowa-র প্ল্যান্টে স্টিল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থাৎ খনি থেকে স্টিল উৎপাদন পর্যন্ত একটি সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছে সংস্থাটি। Mesabi-র Minnesota খনিটি সম্প্রতি চালু হয়েছে এবং সেটি প্রায় পাঁচ দশকের মধ্যে ওই রাজ্যের প্রথম নতুন iron ore mine বলে White House জানিয়েছে।

Iowa-র প্ল্যান্টে Minnesota-র iron ore-এর পাশাপাশি recycled scrap steel ব্যবহার করার পরিকল্পনাও রয়েছে। Mississippi River-এর কাছে অবস্থানের কারণে কাঁচামাল পরিবহণেও সুবিধা পাওয়ার কথা সংস্থার।

৭.৫ মিলিয়ন টন থেকে ১০ মিলিয়ন টন

প্রকল্পটির উৎপাদন ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে বছরে প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন টন স্টিল উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সম্প্রসারণের মাধ্যমে সেই ক্ষমতা প্রায় ১০ মিলিয়ন টনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই পরিমাণ উৎপাদন ক্ষমতা বাস্তবায়িত হলে প্রকল্পটি আমেরিকার বৃহত্তম স্টিল উৎপাদন কেন্দ্রগুলির একটি হয়ে উঠবে। Trump নিজে এটিকে মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় স্টিল প্ল্যান্ট হিসেবে তুলে ধরেছেন।

তৈরি হবে হাজার হাজার কর্মসংস্থান

শুধু স্টিল উৎপাদন নয়, কর্মসংস্থানের দিক থেকেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ।

Mesabi Metallics-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্ল্যান্ট নির্মাণের সময় প্রায় ৬,০০০ construction jobs তৈরি হতে পারে। উৎপাদন শুরু হলে স্থায়ীভাবে প্রায় ১,৭৫০টি চাকরি তৈরি হওয়ার কথা।

White House-এর হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি আগামী এক দশকে মার্কিন অর্থনীতিতে প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরি করতে পারে।

তবে এই ধরনের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রকল্পের বাস্তবায়ন, উৎপাদন ক্ষমতা এবং বাজার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। ফলে এগুলিকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের দাবি, ৫০ শতাংশ শুল্কেই আমেরিকায় ফিরছে স্টিল শিল্প

White House-এর অনুষ্ঠানে Trump তাঁর ৫০ শতাংশ steel tariff-এর নীতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

গত বছর আমদানি করা steel-এর উপর ৫০ শতাংশ tariff আরোপের পর তাঁর দাবি ছিল, বিদেশি সংস্থাগুলি আমেরিকায় কারখানা তৈরি করতে আগ্রহী হচ্ছে, কারণ সেক্ষেত্রে আমদানি শুল্কের চাপ এড়ানো সম্ভব।

নতুন Iowa প্রকল্পকেও Trump তাঁর tariff policy-র ফল হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম হল, আমেরিকার বাজারে বিক্রি করতে চাইলে বিদেশি উৎপাদকদের দেশটির ভিতরেই উৎপাদন করার আগ্রহ বাড়ছে।

তবে tariff-এর কারণে শিল্প বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি steel-এর দাম, সরবরাহ এবং প্রতিযোগিতার উপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও শিল্পমহলে আলাদা আলোচনা রয়েছে।

ভারতের Essar-এর জন্যও বড় আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ

এই প্রকল্প Essar Group-এর আন্তর্জাতিক ব্যবসার ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ।

সংস্থাটি ইতিমধ্যেই Minnesota-তে iron ore mining-এ কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। নতুন Iowa steel mill সেই বিনিয়োগের পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থাৎ ভারতীয় মালিকানাধীন একটি শিল্পগোষ্ঠী আমেরিকার স্থানীয় কাঁচামাল, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং কর্মী ব্যবহার করে সেখানকার বাজারের জন্য স্টিল উৎপাদনের একটি বড় integrated operation তৈরি করতে চাইছে।

Essar-এর চেয়ারম্যান Rewant Ruia-ও White House অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হবে আমেরিকায় খনি থেকে steel production পর্যন্ত একটি শক্তিশালী domestic supply chain তৈরি করা।

আমেরিকার স্টিল আমদানি কি কমবে?

নতুন প্ল্যান্টটি সম্পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন শুরু করলে আমেরিকার domestic steel supply বাড়বে। এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে আমেরিকার মোট steel demand-এর তুলনায় এই প্রকল্পের উৎপাদন কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের উৎপাদন ক্ষমতা, steel consumption এবং অন্যান্য মার্কিন steel producers-এর উৎপাদনের উপর।

প্রকল্পটির পূর্ণ ক্ষমতা প্রায় ১০ মিলিয়ন টন হলে তা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য সংযোজন হবে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে আমেরিকার steel import পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

কেন Iowa-কে বেছে নেওয়া হল?

Iowa-র পূর্বাঞ্চলকে প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়ার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। Minnesota-র iron ore খনি থেকে Mississippi River-এর মাধ্যমে কাঁচামাল পরিবহণ করা সম্ভব হবে।

এর পাশাপাশি Iowa-র শিল্প অবকাঠামো এবং পরিবহণ ব্যবস্থাও প্রকল্পটির জন্য সুবিধাজনক বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Iowa Governor Kim Reynolds প্রকল্পটিকে রাজ্যের ইতিহাসের অন্যতম বড় private investment হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এটি এই অঞ্চলে শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

Midterm election-এর আগে কেন এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ?

প্রকল্প ঘোষণার সময়টিও মার্কিন রাজনীতিতে নজর কেড়েছে। নভেম্বরের midterm election-এর কয়েক সপ্তাহ আগে Iowa-তে ১৫ বিলিয়ন ডলারের এই শিল্প বিনিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে।

Iowa-তে Senate এবং House-এর কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক। ফলে Trump প্রশাসন এই প্রকল্পকে কর্মসংস্থান এবং manufacturing revival-এর বার্তা হিসেবে তুলে ধরছে। Reuters-সহ একাধিক রিপোর্টেও প্রকল্প ঘোষণার সঙ্গে আসন্ন midterm election-এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই ঘোষণা ভোটারদের উপর কী প্রভাব ফেলবে, তা আগাম নিশ্চিত করে বলা যায় না। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের দিকে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নিয়েছে, অর্থাৎ তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদন বা কর্মসংস্থানের পূর্ণ প্রভাব দেখা যাবে না।

মার্কিন সরকারের অর্থায়নও গুরুত্বপূর্ণ

প্রকল্পটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল মার্কিন সরকারি অর্থায়নের ভূমিকা। US Export-Import Bank Mesabi Metallics-এর সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত financing দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে একাধিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর ফলে প্রকল্পটি শুধু বেসরকারি বিনিয়োগের উপর নির্ভর করছে না। সরকারি অর্থায়নের সহায়তাও এর বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে financing commitment এবং প্রকল্পের সম্পূর্ণ ব্যয়ের কাঠামো এক বিষয় নয়। পুরো ১৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ কীভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে, তা প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ে আরও পরিষ্কার হবে।

আমেরিকায় ‘Made in America’, মালিকানায় ভারতীয় সংস্থা

এই প্রকল্পকে ঘিরে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল মালিকানা ও উৎপাদনের সমীকরণ।

Mesabi Metallics-এর মালিক Essar Group ভারতীয়। কিন্তু steel mill তৈরি হবে আমেরিকার Iowa-তে এবং উৎপাদনের জন্য Minnesota-র iron ore ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ মালিকানা ভারতীয় হলেও উৎপাদন ব্যবস্থা মূলত আমেরিকাকেন্দ্রিক।

এ কারণেই প্রকল্পটিকে Trump প্রশাসন ‘American manufacturing’ এবং domestic supply chain শক্তিশালী করার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে।

সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়

১৫ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়নের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশাল শিল্প প্রকল্পের ক্ষেত্রে নির্মাণ, অর্থায়ন, কাঁচামাল পরিবহণ, পরিবেশগত অনুমোদন এবং সময়মতো উৎপাদন শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ।

এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে steel-এর আন্তর্জাতিক দাম, আমেরিকার domestic demand এবং অন্যান্য উৎপাদকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও প্রকল্পটির বাণিজ্যিক সাফল্য নির্ধারণ করবে।

বর্তমানে লক্ষ্য ২০৩০ সালে উৎপাদন শুরু করা। সেই সময়সীমা বজায় রেখে প্রকল্পটি কত দ্রুত এগোয়, সেটিই এখন নজরে।

সব মিলিয়ে, ভারতের Essar Group-এর মালিকানাধীন Mesabi Metallics-এর ১৫ বিলিয়ন ডলারের Iowa steel project আমেরিকার শিল্পনীতিতে বড় বিনিয়োগের বার্তা দিয়েছে। বছরে প্রথম পর্যায়ে ৭.৫ মিলিয়ন টন এবং পরবর্তীতে প্রায় ১০ মিলিয়ন টন উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। হাজার হাজার কর্মসংস্থান এবং domestic steel supply বাড়ানোর সম্ভাবনার পাশাপাশি প্রকল্পটি Trump-এর tariff-driven manufacturing strategy-এর সঙ্গেও যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে প্রকল্পের পূর্ণ ফল পেতে এখনও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10