Home/India/‘আমাদের বাঁচান’, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে পড়ুয়াদের ফোন! দিল্লিতে ছ’তলা বাড়ি ভেঙে মৃত ৫
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

‘আমাদের বাঁচান’, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে পড়ুয়াদের ফোন! দিল্লিতে ছ’তলা বাড়ি ভেঙে মৃত ৫

প্রবল বৃষ্টির মধ্যে আচমকাই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে একটি ছ’তলা বাড়ি। রবিবারের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও দমকল। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, বাড়িটিতে পেইং গেস্ট হিসেবে থাকতেন বহু কলেজ পড়ুয়া। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির বিধায়ক অনিল শর্মার দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা কয়েকজন পড়ুয়া ফোন করে সাহায্য চেয়েছেন। ফলে মৃত ও আটকে পড়াদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 7, 2026
•5 min read•
20
Share:
‘আমাদের বাঁচান’, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে পড়ুয়াদের ফোন! দিল্লিতে ছ’তলা বাড়ি ভেঙে মৃত ৫

ভারী বৃষ্টির মধ্যেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল বাড়ি

রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে মোতিবাগ এলাকায় ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে আচমকাই ছ’তলা বাড়িটির বড় অংশ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে কংক্রিট, ইট ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর স্তূপে পরিণত হয় গোটা এলাকা।

বাড়িটি ভেঙে পড়ার শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের আটটি ইঞ্জিন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে পরে আরও ইঞ্জিন এবং উদ্ধারকারী দল সেখানে পাঠানো হয়। শুরু হয় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের খোঁজার কাজ।

বাড়িটিতে ছিল পড়ুয়াদের পিজি

দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাড়িটিতে থাকা পড়ুয়াদের নিয়ে। দমকল আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভেঙে পড়া ভবনটিতে একাধিক পড়ুয়া পেইং গেস্ট হিসেবে থাকতেন।

রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় সাধারণ দিনের তুলনায় বাড়িতে বেশি সংখ্যক বাসিন্দা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে কতজন আটকে রয়েছেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।

এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ওই বাড়িতে অন্তত ৫০ জন পড়ুয়া থাকতে পারেন। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও এতজনের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।

পাশের একটি বাড়িতে পেইং গেস্ট হিসেবে থাকা এক পড়ুয়ার দাবি, দুর্ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কয়েকজনের আর্তনাদ শুনতে পেয়েছেন। সেই শব্দই উদ্ধারকারীদের দ্রুত কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরও মরিয়া করে তুলেছে।

‘আমাদের বাঁচান’, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ফোন

উদ্ধারকাজ চলাকালীন আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির বিধায়ক অনিল শর্মা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা কয়েকজন পড়ুয়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাইরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন।

তাঁর দাবি, আটকে থাকা কয়েকজন ফোন করে সাহায্য চেয়েছেন। অর্থাৎ ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও জীবিত মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।

অনিল শর্মা বলেন, বাড়িটির নিচে ঠিক কতজন পড়ুয়া আটকে রয়েছেন, তা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে শিক্ষার্থীরা ভিতরে আটকে রয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত।

বিধায়কের বক্তব্য, উদ্ধারকাজই এখন তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

পাঁচজনের মৃত্যু নিশ্চিত, বাড়তে পারে সংখ্যা

দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও দমকল। ধ্বংসস্তূপের বিশাল অংশের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কংক্রিট ও লোহার কাঠামো সরাচ্ছেন। কারণ ধ্বংসস্তূপের ভিতরে কেউ জীবিত থাকলে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে দ্রুত মাটি বা কংক্রিট সরানো বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

এই কারণে কোথাও মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা দেখা গেলেই অত্যন্ত সতর্কভাবে সেই অংশ পরিষ্কার করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রাথমিকভাবে কাজে হাত লাগিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান

দুর্ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থলে জোরকদমে উদ্ধারকাজ চলছে। দমকলের পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরাও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে নেমেছেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে উদ্ধারকারীদের দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে দেখা গিয়েছে। কোথাও বড় কংক্রিটের অংশ সরানো হচ্ছে, কোথাও আবার ছোট ছোট অংশ হাতে করে পরিষ্কার করা হচ্ছে।

উদ্ধারকারীদের মূল লক্ষ্য এখন ধ্বংসস্তূপের ভিতরে আটকে থাকা জীবিতদের দ্রুত খুঁজে বের করা। মোবাইল ফোন থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে কি না, মানুষের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভারী বৃষ্টির পরেই বিপর্যয়, উঠছে নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন

দিল্লিতে গত কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টির দাপট রয়েছে। রবিবারও চাণক্যপুরী-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে।

বৃষ্টির মধ্যেই বাড়িটি ভেঙে পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, অতিরিক্ত বৃষ্টির সঙ্গে ভবন ধসের কোনও সম্পর্ক ছিল কি না। তবে শুধুমাত্র বৃষ্টির কারণেই বাড়িটি ভেঙেছে, এমন সিদ্ধান্তে এখনও পৌঁছনো যায়নি।

ভবনের নির্মাণের মান, কাঠামোগত দুর্বলতা, পুরনো কোনও ক্ষতি ছিল কি না কিংবা অন্য কোনও কারণ—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আসতে পারে। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কতজন ছিলেন, এখনও স্পষ্ট নয়

এই দুর্ঘটনার অন্যতম বড় প্রশ্ন হল, ধসে পড়া ভবনে মোট কতজন মানুষ ছিলেন। প্রশাসনের তরফে এখনও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

তবে ভবনটিতে বহু পড়ুয়া পেইং গেস্ট হিসেবে থাকার তথ্য সামনে এসেছে। ছুটির দিনে অধিকাংশ বাসিন্দা বাড়িতে থাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়ার আশঙ্কাও বেড়েছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য থেকে অনুমান করা হচ্ছে, বাড়িটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ছিলেন। তবে উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার আগে কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

জীবিতদের উদ্ধারের আশাতেই চলছে লড়াই

পাঁচজনের মৃত্যুর খবর ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হলেও উদ্ধারকারীদের সামনে এখনও সবচেয়ে বড় আশা—ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খুঁজে বের করা।

বিধায়কের দাবি অনুযায়ী, কয়েকজন আটকে থাকা পড়ুয়া ফোনে যোগাযোগ করতে পেরেছেন। সেই কারণে উদ্ধারকারী দল আরও সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি অংশ পরীক্ষা করছে।

প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হবে ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রকৃতপক্ষে কতজন মানুষ আটকে রয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে কতজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্তের অপেক্ষা

উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর বাড়িটি কেন ভেঙে পড়ল, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবনের নকশা, নির্মাণের মান, কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক বৃষ্টির প্রভাব—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হতে পারে।

একইসঙ্গে পেইং গেস্ট হিসেবে এতজন পড়ুয়া সেখানে থাকতেন কীভাবে এবং ভবনটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও অনুমোদন বা নিয়ম ভাঙা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আসতে পারে।

তবে এই মুহূর্তে তদন্তের আগে কোনও নির্দিষ্ট কারণকে দায়ী করা ঠিক হবে না।

এখন একটাই লক্ষ্য, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধান

দিল্লির এই দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচটি প্রাণ ঝরে গিয়েছে। কিন্তু ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কেউ জীবিত রয়েছেন কি না, সেই সম্ভাবনাই উদ্ধারকারীদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

‘আমাদের বাঁচান’—ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আসা এমন ফোন যদি সত্যিই পৌঁছে থাকে, তাহলে প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। তাই রাত পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

প্রকৃত মৃতের সংখ্যা, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা এবং আটকে থাকা পড়ুয়াদের বিষয়ে আরও তথ্য উদ্ধার অভিযান এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসবে। আপাতত দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে গোটা নজর সেই ধ্বংসস্তূপের দিকেই।

Tags:India
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10