Home/India/আজমগড়ে সাত ঘণ্টার ভয়াবহ স্ট্যান্ডঅফ! স্ত্রী, ২ পুরোহিত ও ছেলেকে খুনের অভিযোগ, এনকাউন্টারে মৃত অরবিন্দ
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

আজমগড়ে সাত ঘণ্টার ভয়াবহ স্ট্যান্ডঅফ! স্ত্রী, ২ পুরোহিত ও ছেলেকে খুনের অভিযোগ, এনকাউন্টারে মৃত অরবিন্দ

উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ে ধর্মীয় আচারকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ গুলিকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় ধরে চলল পুলিশি অভিযান। অভিযোগ, বাড়িতে চলা পুজো নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিবাদের পর স্ত্রী ববিতা এবং দুই পুরোহিতকে গুলি করেন অরবিন্দ সিং। এরপর তিন সন্তানকে নিয়ে একটি ঘরে নিজেকে আটকে ফেলেন তিনি। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে পুলিশ আত্মসমর্পণের আবেদন জানালেও তাতে সাড়া দেননি অরবিন্দ। পরে ঘরের ভিতর থেকে গুলি চালানোর পর পুলিশের পালটা গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ তাঁর ৮ বছরের ছেলে শৌর্যও পরে মারা যায়। দুই মেয়েকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 23, 2026
•5 min read•
29
Share:
আজমগড়ে সাত ঘণ্টার ভয়াবহ স্ট্যান্ডঅফ! স্ত্রী, ২ পুরোহিত ও ছেলেকে খুনের অভিযোগ, এনকাউন্টারে মৃত অরবিন্দ

পুজো ঘিরে বিবাদ, তারপর গুলির অভিযোগ

ঘটনাটি ঘটেছে আজমগড়ের অহারৌলা থানা এলাকার শম্ভুপুর গ্রামে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে অরবিন্দ বাড়ি ফেরার পর সেখানে ধর্মীয় আচার চলতে দেখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে অরবিন্দের জন্য একটি বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরিবারের সদস্যদের ধারণা ছিল, তিনি কিছুদিন ধরে অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। তাঁর প্রয়াত ভাইয়ের আত্মার শান্তির জন্যও এই আচার আয়োজন করা হয়েছিল বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বাড়ি ফিরে ওই অনুষ্ঠান দেখে অরবিন্দ ক্ষুব্ধ হন বলে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য। এরপর স্ত্রী এবং অনুষ্ঠানে থাকা পুরোহিতদের সঙ্গে তাঁর বচসা শুরু হয়।

স্ত্রী ও দুই পুরোহিতকে গুলি করার অভিযোগ

বচসার মধ্যেই অরবিন্দ আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালান বলে পুলিশের দাবি। ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ববিতা সিং এবং দুই পুরোহিত মহেন্দ্র পাঠক ও অখিলেশ মিশ্রের মৃত্যু হয়।

মহেন্দ্র পাঠকের বয়স ছিল ৬০ এবং অখিলেশ মিশ্রের ৫০ বছর। ঘটনাস্থলে থাকা আরও কয়েকজন পুরোহিত সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঠিক কী নিয়ে প্রথমে বচসা হয়েছিল, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে পুরোহিতদের কাছে পরিচয়পত্র চাওয়া নিয়ে বিবাদের কথা উঠে এসেছে, যদিও তদন্তে ঘটনার সম্পূর্ণ ক্রম আরও পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।

তিন সন্তানকে নিয়ে ঘরে বন্দি অরবিন্দ

গুলির ঘটনার পর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। খবর যায় পুলিশের কাছে।

এর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অরবিন্দকে আত্মসমর্পণ করতে বলে। কিন্তু তিনি ঘর থেকে বেরোতে রাজি হননি। বরং তিন সন্তানকে নিয়ে একটি ঘরের ভিতরে নিজেকে আটকে রাখেন।

এই পরিস্থিতিতে পুলিশের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে শিশুদের নিরাপদে উদ্ধার করা। কারণ ঘরের ভিতরে অভিযুক্তের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং তিনি আত্মসমর্পণে রাজি হচ্ছিলেন না।

পুলিশের তরফে বারবার তাঁকে অস্ত্র নামিয়ে বাইরে আসার আবেদন জানানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন অরবিন্দ।

প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে চলল পুলিশি অভিযান

ঘরের বাইরে তখন পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের বড় দল মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি বিশেষ প্রশিক্ষিত দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।

প্রশাসনের আধিকারিকরা দীর্ঘ সময় ধরে অরবিন্দের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তাঁকে বোঝানোর পাশাপাশি শিশুদের ছেড়ে দেওয়ার আবেদনও করা হয়।

প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে চলে এই স্ট্যান্ডঅফ। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পুলিশ কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ধাপে ধাপে অভিযান এগিয়ে নিয়ে যায়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ATS এবং Special Operations Group-এর সদস্যদেরও অভিযানে যুক্ত করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

ঘরের ভিতর থেকে গুলির পর পালটা অভিযান

দীর্ঘ আলোচনার পরও অরবিন্দ আত্মসমর্পণ না করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘরের ভিতর থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়।

এরপর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পুলিশ দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। সেই সময় অরবিন্দ পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করেও গুলি চালান বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশও পালটা গুলি চালায়। সংঘর্ষে অরবিন্দ গুরুতর আহত হন। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পালটা গুলির ঘটনাই শেষ পর্যন্ত অভিযানের পরিণতি নির্ধারণ করে।

গুলিবিদ্ধ ৮ বছরের শৌর্যেরও মৃত্যু

অভিযানের সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হয়ে ওঠে অরবিন্দের সন্তানদের পরিণতি। সংঘর্ষের সময় তাঁর ৮ বছরের ছেলে শৌর্য গুলিবিদ্ধ হয়।

গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীন তারও মৃত্যু হয়। ফলে ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।

অন্যদিকে, অরবিন্দের দুই মেয়ে—পারি এবং ছোট্ট সানভি—নিরাপদে উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরিবারের পুরনো ঘটনাও তদন্তে

ঘটনার নেপথ্য নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে অরবিন্দের পরিবারের পুরনো ইতিহাসও সামনে আসছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।

পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই অরবিন্দের আচরণে পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতির পরেই বাড়িতে ধর্মীয় আচার আয়োজন করা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে।

তবে অরবিন্দের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে কোনও স্বাধীন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। পুলিশ ও পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতেই এই বিষয়গুলি তদন্তের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

ধর্মীয় আচার কেন আয়োজন করা হয়েছিল?

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, পরিবারের সদস্যরা অরবিন্দের আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সেই কারণেই ধর্মীয় আচার আয়োজন করা হয়েছিল বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এক পুরোহিত যিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে বাঁচেন, তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন যে অরবিন্দের প্রয়াত ভাইয়ের আত্মার শান্তির জন্যও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

এই তথ্যগুলির ভিত্তিতে তদন্তকারীরা ঘটনার আগের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। অনুষ্ঠানটি কতদিন ধরে চলছিল, কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং অরবিন্দের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সম্পর্ক কেমন ছিল—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

তদন্তে এখন কোন কোন প্রশ্ন?

অরবিন্দের মৃত্যু হলেও ঘটনার তদন্ত এখানেই শেষ হচ্ছে না। বরং এতগুলি প্রাণহানির ঘটনার পেছনে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার জন্য তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পুলিশকে খতিয়ে দেখতে হবে, আগ্নেয়াস্ত্রটি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত ছিল কি না, ঘটনাস্থলে মোট কতজন উপস্থিত ছিলেন এবং প্রথম গুলি ঠিক কোন পরিস্থিতিতে চলেছিল।

এছাড়া অরবিন্দের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, বেঁচে যাওয়া পুরোহিতদের বয়ান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে ফরেন্সিক পরীক্ষাও করা হবে। মৃতদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শিশুদের উদ্ধারই ছিল অভিযানের প্রধান লক্ষ্য

প্রায় সাত ঘণ্টার এই অভিযানে পুলিশের সামনে সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল শিশুদের নিরাপদে বের করে আনা। একজন সশস্ত্র ব্যক্তির সঙ্গে একই ঘরে তিনটি শিশু আটকে থাকায় যে কোনও ভুল পদক্ষেপে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।

তাই প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অরবিন্দ আত্মসমর্পণ না করায় শেষ পর্যন্ত বিশেষ বাহিনীকে অভিযানে নামাতে হয়।

দুই মেয়েকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও শৌর্যের মৃত্যু ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।

আজমগড়ের ঘটনায় একাধিক তদন্তের প্রশ্ন

ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ড, শিশুদের আটকে রাখা এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ—তিনটি দিকই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

একইসঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে কেন এবং কী উদ্দেশ্যে ওই ধর্মীয় আচার আয়োজন করা হয়েছিল, সেটিও তদন্তের প্রেক্ষাপট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অরবিন্দের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস, ঘটনার সময় তাঁর গতিবিধি এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত শেষ হলে ঘটনার পূর্ণ ছবি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

সব মিলিয়ে, আজমগড়ের শম্ভুপুর গ্রামের এই ঘটনায় এক রাতেই একাধিক প্রাণহানি ঘটেছে। স্ত্রী ও দুই পুরোহিতকে হত্যার অভিযোগের পর তিন সন্তানকে নিয়ে ঘরে আটকে পড়েন অরবিন্দ সিং। দীর্ঘ সময়ের আলোচনার পরও আত্মসমর্পণ না করায় পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াই হয়। সেই সংঘর্ষে অরবিন্দের মৃত্যু হয়, আর গুলিবিদ্ধ ৮ বছরের ছেলে শৌর্যও পরে মারা যায়। দুই মেয়েকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখন তদন্তকারীদের সামনে মূল প্রশ্ন—এই ভয়াবহ ঘটনার সূত্রপাত ঠিক কীভাবে এবং কেন হয়েছিল।

Tags:India
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10