Home/Kolkata/২১ জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে আদালত অবমাননার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হলফনামা জমার নির্দেশ হাই কোর্টের
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

২১ জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে আদালত অবমাননার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হলফনামা জমার নির্দেশ হাই কোর্টের

২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশ উপলক্ষে রাস্তা অবরোধ ও আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হলফনামা তলব করেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের জবাব দাখিল করতে হবে। এরপর মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৭ আগস্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jul 3, 2026
5 min read
7
Share:
২১ জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে আদালত অবমাননার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হলফনামা জমার নির্দেশ হাই কোর্টের

২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আইনি বিতর্কে নতুন মোড় নিল কলকাতা হাই কোর্টে। আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ অমান্য করে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে দায়ের হওয়া আদালত অবমাননা মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হলফনামা চেয়েছে আদালত।

শুক্রবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানির সময় এই নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত জানিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে হলফনামা জমা দিতে হবে। এরপর আরও দুই সপ্তাহ সময় রেখে মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাব্য দিন হিসেবে ১৭ আগস্ট নির্ধারণ করা হতে পারে।

শুনানির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আদালতে উপস্থিত হন প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আদালতের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে কে সওয়াল করবেন। সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মন্তব্য করে, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে রুল জারি করা হতে পারে।

আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আইন মহলের একাংশ। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে একটি স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে মামলা পরিচালনা করবেন না। ফলে শুক্রবার আদালতে তাঁর সংযত অবস্থান সেই ঘটনারই প্রতিফলন কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।

বর্তমান মামলার সূত্রপাত বেশ কয়েক বছর আগে। ২০১৮ সালে রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভা ও মিছিলের ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ তুলে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলায় তৃণমূল কংগ্রেস-সহ মোট ৩৮টি রাজনৈতিক দলকে পক্ষ করা হয়।

তৎকালীন বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশ জারি করেছিল। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিল, রাজনৈতিক সমাবেশ বা মিছিলের কারণে কলকাতার জনজীবন প্রায়শই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী, রোগী এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এতে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়। বিশেষ করে অ্যাম্বুল্যান্স ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবার গাড়ি যানজটে আটকে পড়ার আশঙ্কা আদালতকে উদ্বিগ্ন করেছিল।

এই প্রেক্ষাপটে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য শহরের প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যাবে না। মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে রাস্তার অন্তত একটি অংশ খোলা রাখতে হবে। পাশাপাশি জরুরি পরিষেবার যান চলাচল যাতে কোনওভাবেই বাধাপ্রাপ্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও প্রশাসনের উপরই বর্তাবে।

শুধু তাই নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালীন ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল আদালতের নির্দেশে।

অভিযোগ, এতসব নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে আদালতের নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলেই দাবি মামলাকারী পক্ষের। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করা হয়।

সেই মামলার শুনানিতেই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হলফনামা চাওয়া হয়েছে। আদালত চাইছে, সংশ্লিষ্ট দুই নেতা তাঁদের অবস্থান লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করুন এবং আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ পালনের বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য স্পষ্ট করুন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালত অবমাননা সংক্রান্ত মামলায় হলফনামা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি। কারণ এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষ আদালতের কাছে নিজেদের অবস্থান, যুক্তি এবং ঘটনাপ্রবাহের ব্যাখ্যা তুলে ধরার সুযোগ পান। সেই নথি পর্যালোচনার পরই আদালত পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।

এই মামলার আগামী শুনানিতে হলফনামায় কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয় এবং আদালত সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয় কি না, তার উপরই নির্ভর করবে মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ। আপাতত চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ বহাল রয়েছে এবং আগামী ১৭ আগস্ট মামলাটি ফের শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10