Home/Kolkata/২১ জুলাই সমাবেশে ছাড়পত্র ঋতব্রত শিবিরের, গান্ধী মূর্তি চত্বরে প্রস্তুতি শুরু সোমবার থেকে
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

২১ জুলাই সমাবেশে ছাড়পত্র ঋতব্রত শিবিরের, গান্ধী মূর্তি চত্বরে প্রস্তুতি শুরু সোমবার থেকে

ধর্মতলায় অনুমতি না মেলায় বিকল্প ভেন্যুর আবেদন করেছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল। শেষ পর্যন্ত গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি মিলেছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। সোমবার থেকেই শুরু হবে প্রস্তুতির কাজ। অন্যদিকে একই ইস্যুতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট শিবির।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jul 12, 2026
5 min read
1
Share:
২১ জুলাই সমাবেশে ছাড়পত্র ঋতব্রত শিবিরের, গান্ধী মূর্তি চত্বরে প্রস্তুতি শুরু সোমবার থেকে

২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর দলভাগের জেরে এবার আলাদা কর্মসূচির পথে হাঁটছে তৃণমূলের দুই শিবির। এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ আয়োজনের জন্য প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি পেয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। অনুমতি মেলার পর সোমবার থেকেই গান্ধী মূর্তির পাদদেশ এলাকায় মঞ্চ ও অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরির প্রস্তুতি শুরু হবে।

নির্বাচনের পর তৃণমূল কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির, অন্যদিকে কালীঘাট শিবির। শহিদ দিবস উপলক্ষে উভয় পক্ষই প্রথমে ধর্মতলায় সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কারণে ধর্মতলায় এ ধরনের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয় পুলিশ।

এরপর বিকল্প স্থান চেয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার সঙ্গে বৈঠক করেন ঋতব্রত শিবিরের প্রতিনিধিরা। তাঁদের তরফে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই আবেদনেই প্রশাসনের সম্মতি মিলেছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

অনুমতি পাওয়ার পর কর্মসূচির প্রস্তুতিও জোরকদমে শুরু হয়েছে। সোমবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কর্মী-সমর্থকদের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ-সহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। সংগঠনের জেলা নেতৃত্বকেও প্রস্তুতি দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে কালীঘাট শিবিরের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। ধর্মতলায় সমাবেশের অনুমতি না মেলায় তারা কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। আদালতের নির্দেশের দিকে নজর রেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে ওই শিবির।

২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার স্মরণে প্রতিবছর ধর্মতলায় শহিদ দিবস পালন করে তৃণমূল। সময়ের সঙ্গে এই কর্মসূচি দলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হয়েছে।

তবে এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। দলীয় বিভাজনের ফলে প্রথমবারের মতো শহিদ দিবসকে কেন্দ্র করে দুটি পৃথক শিবিরের কর্মসূচি সামনে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ শুধু স্মরণসভা নয়, দুই পক্ষের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনেরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে।

এদিকে কালীঘাট শিবিরের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ছোট পরিসরেও ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি পালন করা হবে। তাঁর বক্তব্য, কর্মসূচি কোনওভাবেই বন্ধ থাকবে না। ফলে একই দিনে দুই শিবিরের পৃথক কর্মসূচিকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রশাসন, আদালত এবং রাজনৈতিক দলগুলির পরবর্তী পদক্ষেপের উপর নির্ভর করবে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা। তবে অনুমতি পাওয়ার পর ঋতব্রত শিবির যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10